কেন এত দ্রুত ছুরি ভোঁতা হয়ে যায়? ছবি: সংগৃহীত।
নতুন কিনলেও দ্রুত ধার হারাতে শুরু করে ছুরি। আনাজ কাটতে গিয়ে হাতে ব্যথাও হয়ে যেতে পারে। টম্যাটো কাটতে গিয়ে হাত ফসকে যায়, পেঁয়াজে অতিরিক্ত চাপ দিতে হয়, এমনকি কাজে সময়ও বেশি লাগে। আর তখন স্বাভাবিক ভাবেই অভিযোগের আঙুল ওঠে ছুরির দিকে। অথচ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সমস্যা ছুরিতে নয়, বরং ব্যবহারের পদ্ধতিতেই থাকে। একটি ভাল ছুরি বহু বছর ধারালো থাকতে পারে যদি ঠিক ভাবে ব্যবহার করা যায় ও যত্ন নেওয়া হয়।
ঠিক কোথায় ভুল হচ্ছে?
ভুল জায়গায় ব্যবহার
অনেকেই কাচ, মার্বেল বা গ্রানাইটের উপর সব্জি রেখে সরাসরি কাটেন। কিন্তু এই শক্ত পৃষ্ঠ ছুরির ধার খুব দ্রুত ক্ষয় করে দেয়। কাঠ বা নরম ফাইবারের চপিং বোর্ড ছুরির জন্য অনেক বেশি নিরাপদ।
ডিশওয়াশারে ধোওয়া
অনেক আধুনিক রান্নাঘরে ডিশওয়াশার ব্যবহার করা হলেও, ছুরির জন্য তা ভাল নয়। অতিরিক্ত গরম জল, শক্তিশালী ডিটারজেন্ট এবং জলের তীব্রবেগে ধাক্কার কারণে ব্লেডের ক্ষতি হতে পারে। তাই হাতে মেজে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে শুকিয়ে নেওয়াই ভাল।
নাইফ ব্লকে রেখে দিতে পারেন ছুরি। ছবি: সংগৃহীত
ভুল ভাবে রাখা
ড্রয়ারে অন্য চামচ-কাঁটার সঙ্গে ছুরি ফেলে রাখলে বার বার ধাক্কা লেগে ধার নষ্ট হতে পারে। অনেকেই এখন ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ বা আলাদা নাইফ ব্লক ব্যবহার করছেন, যাতে ছুরির ধার সুরক্ষিত থাকে।
ভুল কাজে ব্যবহার
রান্নাঘরের ছুরি দিয়ে বোতল খোলা, মাংসের শক্ত হাড় ভাঙা বা জমাট বেঁধে থাকা খাবার কাটার চেষ্টা করলে ছুরি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রতিটি ছুরির আলাদা কাজ রয়েছে। যেমন শেফ নাইফ, বোনিং নাইফ, ব্রেড নাইফ, বাটার নাইফ— প্রতিটির ব্যবহার আলাদা। সেই মতোই ব্যবহার করা উচিত।
ছুরির ধার কমে গেলে কী করবেন? ছবি: সংগৃহীত
নিয়মিত শান না দেওয়া
অনেকেই ভাবেন ছুরি পুরোপুরি ভোঁতা হয়ে গেলে তবেই ধার দিতে হয়। কিন্তু নিয়মিত শান দিলে ছুরি ভাল থাকে। মাঝে মাঝে শান পাথর বা মেশিন ব্যবহার করলেও উপকার পাওয়া যায়।
ভোঁতা ছুরি বেশি বিপজ্জনক। কারণ, আনাজ কাটার জন্য ছুরিতে বেশি চাপ দিতে হয়, ফলে হাত ফসকে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ে। ধারালো ছুরি তুলনায় বেশি নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই নিয়মিত শান দেওয়া এবং ভুলগুলি শুধরে নেওয়া উচিত।