রাফাল সামাল দিতে বিজেপির পাল্টা হেরাল্ড

মুখোমুখি: রাফাল নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে দুই প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যশবন্ত সিন্হা ও অরুণ শৌরি এবং আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ (বাঁ দিকে)। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে। ছবি: পিটিআই। মুখোমুখি: রাফাল নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে দুই প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যশবন্ত সিন্হা ও অরুণ শৌরি এবং আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ (বাঁ দিকে)। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে। ছবি: পিটিআই।

রাহুল গাঁধীদের রাফাল আক্রমণ সরাসরি সামাল দিতে না পেরে নিজের মন্ত্রীদের এ বারে হেরাল্ড মামলা নিয়ে আসরে নামাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। রাফাল ধাক্কা মোকাবিলায় অরুণ জেটলিকে সামনে এনেছেন নরেন্দ্র মোদী। দু’দিন আগে বিজেপির পক্ষ থেকে এক রকম দাম প্রকাশ করে দাবি করা হয়ে, রাফাল না কি ইউপিএ জমানার থেকে সস্তা পড়েছে। কিন্তু তাতে কী! তাতেও তো রাহুল গাঁধীকে ঠেকানো যাচ্ছে না।

কৈলাস তীর্থ ঘুরে দেশে ফিরেই রাহুল আবার রাফাল নিয়ে বিজেপিকে টানা নিশানা করে যাচ্ছেন। তার মধ্যেই আজ বাজপেয়ীর দুই মন্ত্রী অরুণ শৌরি ও যশবন্ত সিন্‌হার সঙ্গে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ ফের রাফাল নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান। অনিল অম্বানীকে বরাত দেওয়ার পিছনে ‘কমিশন’ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। বায়ুসেনাকে দিয়ে রাফালের মিথ্যা প্রশস্তি করানোর জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন। এঁদের বক্তব্য, নিজের এক্তিয়ারের বাইরে গিয়ে এবং নিয়মের তোয়াক্কা না করেই এই দুর্নীতি করেছেন মোদী। সরকার যত যুক্তি সাজানোর চেষ্টা করছে, তত মিথ্যা ধরা পড়ছে বলেও দাবি করেন তাঁরা। সব মিলিয়ে যত দিন যাচ্ছে, রাফাল-পাঁক তত গায়ে লাগছে মোদী সরকারের।

এই অবস্থায় রাহুল গাঁধীদের বিরুদ্ধে ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলা নিয়ে পাল্টা আক্রমণের নির্দেশ গেল মন্ত্রীদের কাছে। সেই সূত্র ধরে আজ মোদীর মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি বিজেপি দফতরে গিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে অভিযোগ করেন, হেরাল্ডের প্রকাশক ‘অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালস লিমিটেড’-এর কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি কব্জা করতেই রাহুল- সনিয়া-প্রিয়ঙ্কারা ৯০ কোটি টাকার ঋণ মাত্র ৫০ লক্ষ টাকায় কিনেছেন। আয়কর দফতর ধরতেই রাহুল দিল্লি হাইকোর্টে যান। সেখানে আর্জি জানান, সংবাদমাধ্যম যেন এ খবর প্রকাশ না করে। কিন্তু আদালত তা খারিজ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে স্মৃতির অভিযোগ, ‘‘রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন একদিকে বলছেন, ইউপিএ জমানার কর্মপদ্ধতির জন্যই অনাদায়ী ঋণের বোঝা বেড়েছে। কংগ্রেস পুরোদস্তুর দুর্নীতিতে লিপ্ত।’’ স্মৃতির অভিযোগের জবাবে কংগ্রেসের রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালা বলেন, ‘‘স্মৃতি ইরানি নিজের হারিয়ে যাওয়া প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পেতে চাইছেন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তিনি যদি একটু আয়করের নিয়মটি পড়ে নিতেন, ভাল হত। তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেওয়া যায়, হেরাল্ড মামলায় ৩০ শতাংশ আয়কর দিতে হবে, তা হলেও ৯০ কোটি টাকার ঋণে ৩৫৭ কোটি টাকার কর হয় কী করে?’’ সরাসরি নরেন্দ্র মোদীকে বিঁধে কংগ্রেসের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী ঘাবড়ে গিয়ে আয়কর, সিবিআই, ইডির পিছনে লুকোচ্ছেন। স্বাধীনতার সময়ের কাগজকে ঋণ দিয়ে কংগ্রেস গর্বিত। কিন্তু ভোটের আগে এখন আট বছর আগের ফাইল খুলে প্রধানমন্ত্রী প্রতিহিংসার পরিচয় দিচ্ছেন। তাঁর সাহস থাকলে পিছন থেকে কেন, রাহুল গাঁধীর মুখোমুখি হয়ে লড়াই করুন।