তেলঙ্গানায় খাদে বাস, মৃত্যু ৫৭ তীর্থযাত্রীর

দুর্ঘটনা: চেষ্টা চলছে উদ্ধারের। মঙ্গলবার তেলঙ্গানার জাগতিয়াল জেলায়। ছবি: পিটিআই।

পাহাড়ের উপরে মন্দির থেকে নামার সময় বাস খাদে পড়ে প্রাণ হারালেন অন্তত ৫৭ জন তীর্থযাত্রী। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ তেলঙ্গানার কোদাগাট্টু ঘাট অঞ্চলে সরু পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় সড়ক পরিবহণ নিগমের (টিএসআরটিসি) বাসটি খাদে পড়ে যায়। মৃতদের মধ্যে ৩০ জন মহিলা, ২৩ জন পুরুষ এবং ৪ জন শিশু বলে জানিয়েছেন জাগতিয়াল জেলার পুলিশ সুপার সিন্ধু শর্মা। ২৫ জন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। ৪৫ জনকে ইতিমধ্যেই শনাক্ত করা হয়েছে। আহত ৪৩।

পাহাড়ের উপরে শ্রী অঞ্জনেয়াস্বামী মন্দির থেকে তীর্থযাত্রীদের নিয়ে ওই রাস্তা দিয়ে জগতিয়ালে ফিরছিল বাসটি। সেটিতে ৪০ জন যাত্রীর বসার জায়গা থাকলেও ছিলেন অন্তত ৮৭ জন। পুলিশ জানিয়েছে, বাস চালক শ্রীনিবাস এই রুটে নতুন। পাহাড়ি রাস্তায় বাঁকের কোনও দিকনির্দেশ না থাকায় বুঝতে পারেননি তিনি। অন্য একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে গিয়ে তড়িঘড়ি ব্রেক কষেন চালক। সে সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা তাল সামলাতে না পেরে তাঁর উপর হুমড়ি খেয়ে পড়েন। তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে বাসটি খাদে পড়ে যায়।

স্থানীয়দের বক্তব্য, যে রাস্তায় দুর্ঘটনা হয়েছে, তা কোদাগাট্টু থেকে জাগতিয়ালে আসার প্রধান রাস্তা নয়। এজন্য একটি বাইপাস রয়েছে। তবে গাড়ির চালকেরা সময় বাঁচাতে এই পাহাড়ি রাস্তা দিয়েই যান। লরি দুর্ঘটনায় ২০ জনের মৃত্যু হওয়ার পর এই রাস্তায় বাস এবং ভারী গাড়ির চলাচলে নিষেধাজ্ঞাও জারি হয়েছিল। তবে মাস তিনেক আগেই বাস চলাচলের জন্য রাস্তাটি ফের খুলে দেওয়া হয়।

মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও অর্থমন্ত্রী ইটালা রাজেন্দ্রকে ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। দুর্ঘটনাগ্রস্তদের পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে রাজ্য। মৃতদের পরিবারকে টিএসআরটিসি-র পক্ষ থেকে দেওয়া হবে ৩ লক্ষ। টুইটারে স্বজনহারাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুর্ঘটনার জেরে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পরিবহণ মন্ত্রী পি এম রেড্ডির পদত্যাগের দাবি করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় দিনটিকে ‘কালো দিবস’ আখ্যা দিয়ে অনেকেরই অভিযোগ, রাজ্য পরিবহণের বেশির ভাগ বাসেরই মেয়াদ ফুরিয়েছে। বেশ কয়েকটি চালানোই উচিত নয়। তা সত্ত্বেও আধিকারিকদের গাফিলতিতে বাসগুলি রাস্তায় নামে ও দুর্ঘটনা ঘটে।