অ্যাম্বুল্যান্স আটকে প্রাণ গেল শিশুর


কোথাও মিশ্র সাড়া। কোথাও সাড়া মিলল ভালই। তবে বিহার ও কর্নাটকে কিছু হিংসার ঘটনা ছা়ড়া ভারত বন্‌ধে মোটের উপরে শান্তিপূর্ণই রইল দেশ।  বিরোধীদের ডাকা ভারত বন্‌ধে ভালই সাড়া মিলেছে বিহারে। জহানাবাদে বন্‌ধ সমর্থকেরা অ্যাম্বুল্যান্স আটকানোর ফলে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। পুলিশ  নিয়েছে, ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত বেবি কুমারী ওরফে গৌরী কুমারী নামে শিশুটির বাড়ি জহানাবাদ লাগোয়া বালবিঘা গ্রামে। শিশুটিকে  নিয়ে জহানাবাদের হাসপাতালে সছিলেন তার বাবা প্রমোদ মাঁজি। অভিযোগ, জহানাবাদ শহরে ঢোকার সময়ে বন্‌ধ সমর্থকদের অবরোধের মুখে পড়েন তিনি। বারবার অনুরোধ করলেও প্রথমে সমর্থকেরা অবরোধ সরাতে রাজি হননি। পরে অবরোধ সরলেও হাসপাতালে যাওয়ার পথেই শিশুটির মৃত্যু হয়।

বিহারের বেশ কয়েক জায়গায় বন্‌ধ সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের খণ্ডযুদ্ধ হয়। দূরপাল্লার ট্রেন আটকে পড়ে বিভিন্ন স্টেশনে। সমস্তিপুর এবং সাসারামে জাতীয় সড়ক আটকে দেন অবরোধকারীরা। বৈশালী, পটনায় বন্‌ধ সমর্থকেরা পথচলতি মানুষকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ। পটনা শহরে গাড়ি এবং দোকানে যথেচ্ছ ভাঙচুর করা হয়। বৈশালী জেলার গৌতম চকে বন্‌ধ সমর্থক ও বন্‌ধ বিরোধীদের মধ্যে প্রচণ্ড মারামারি হয়। পরস্পরকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। গুলিও চলে বলে অভিযোগ।

বন্‌ধের সমর্থনে পথে নামেন বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব এবং প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী সভাপতি কোকব কাদরি। দ্বারভাঙা স্টেশনে বন্‌ধ সমর্থকেরা ট্রেন আটকে দেন। গোলমালের আশঙ্কায় রাজ্য সরকার সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। সরকারি অফিসে অবশ্য অন্য দিনের মতোই কাজ হয়েছে বলে দাবি রাজ্যের। তেজস্বী যাদব বলেন, ‘‘পেট্রোপণ্যের দাম বাড়ায় জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। নীতীশ কুমার মুখ বন্ধ করে রয়েছেন।’’ বিজেপি সভাপতি নিত্যানন্দ রায় বলেন, ‘‘সাধারণ মানুষ বন্‌ধ সমর্থ করেননি। বন‌্‌ধের নামে গুণ্ডামি করা হয়েছে।’’ আরজেডি মুখপাত্র সঞ্জয় যাদবের পাল্টা দাবি, ‘‘এক দল বিজেপির এজেন্ট গোলমাল পাকিয়েছে।’’

বিহারের বৈশালীর মতোই কর্নাটকের উদুপিতে সংঘর্ষ হয় বন্‌ধ সমর্থক ও বন্‌ধ বিরোধীদের মধ্যে। আহত হয়েছেন উদুপি শহরের বিজেপি নেতা প্রভাকর পুজারী। গোলমালের জেরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

গোলমাল না হলেও ওড়িশা বিধানসভায় পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে গোলমালের জেরে অধিবেশন মুলতুবি হয়ে যায়। অধিবেশন শুরুর সময়েই কংগ্রেস বিধায়কেরা ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। ওমফেড কেলেঙ্কারি ও সমবায় ব্যাঙ্ক কেলেঙ্কারি নিয়ে পাল্টা স্লোগান দেন বিজেপি সদস্যেরা। গোলমালের জেরে অধিবেশন মুলতুবি করে দেন স্পিকার পি কে আমাত।

অসমে অনেক দিন পরে উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছে বিরোধী দলের সমর্থকদের মধ্যে। বন্ধ ছিল পেট্রল পাম্পগুলি। সিংহভাগ দোকানও বন্ধ ছিল। শিলচর, শিবসাগর, ডিগবয়ে রেললাইন অবরোধ করায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে।