মায়াবতী গরহাজির বিরোধী বিক্ষোভে


পেট্রল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কংগ্রেসের ডাকা কর্মসূচিতে ১৬টি বিরোধী দল হাজির থাকলেও, অনুপস্থিত রইল উত্তরপ্রদেশের দুই প্রধান দল সমাজবাদী পার্টি (এসপি) এবং বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি)। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, এসপি নেতা অখিলেশের সঙ্গে রাহুলের যোগ রয়েছে। কর্মসূচির সাফল্য কামনা করে তিনি বক্তব্যও জানান। কিন্তু মায়াবতীর অনুপস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক এবং জল্পনা।  

মায়াবতীকে কাছে আনতে যে ক্রমশ মরিয়া হয়ে উঠেছেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহেরা তা আর গোপন তথ্য নয়। এক দিকে মায়াবতীর উপর চাপ তৈরি করতে পুরনো দুর্নীতির মামলা নাড়াচাড়া করছে সিবিআই। প্রয়াত দলিত নেতা কাঁসিরামকে ভারতরত্ন খেতাব দেওয়ারও প্রস্তুতি চালাচ্ছে মোদী সরকার। সূত্রের খবর, বিজেপি শিবির থেকে মায়াবতীকে এটাও বলা হয়েছে, ২০১৯-এর ভোটে বিজেপির সংখ্যা কম থাকলে মায়াবতী পূরণ করবেন, বিনিময়ে কেন্দ্রে কোনও বড় পদ দেওয়া হতে পারে তাঁকে। ফলে নরমে-গরমে মায়াবতীকে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে গেরুয়া শিবির।

রাজ্যে গত উপনির্বাচনগুলির ফল থেকে বিজেপি বুঝছে যে এসপি, বিএসপি, কংগ্রেস এবং আরএলডি-কে একসঙ্গে মহাজোট গড়তে দিলে ভরাডুবি নিশ্চিত। ৮০টি আসনের উত্তরপ্রদেশেই কার্যত নির্ভরশীল দিল্লির কুর্সি। মায়াবতীকে বিরোধী জোটের বাইরে রাখলে বহু আসনে তাঁর দলিত ভোট নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে। কংগ্রেস মায়াকে নিয়ে কোনও আশঙ্কাকে গুরুত্ব দেয়নি। দলের মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা জানান, ‘‘নিজেদের দুর্গ উত্তরপ্রদেশে এসপি এবং বিএসপি আলাদা করে বিক্ষোভ কর্মসূচি করতে চেয়েছিল। আমরা তাতে স্বাগতই জানিয়েছি। তা ছাড়া বারাণসী-সহ উত্তরপ্রদেশের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কংগ্রেসের সঙ্গে বিএসপি এবং এসপি বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়েছে। রাজনৈতিক সংঘাতের বিষয়ই নেই এখানে।’’