আয়কর: সনিয়াদের আর্জি খারিজ কোর্টে

নয়াদিল্লিতে এক দলীয় অনুষ্ঠানে সনিয়া। ছবি: পিটিআই

আয়কর দফতরের বিরুদ্ধে সনিয়া ও রাহুল গাঁধীর আবেদন খারিজ করে দিল দিল্লি হাইকোর্ট। ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় একটি বিশেষ বছরে তাঁদের আয়কর তথ্য নতুন করে খতিয়ে দেখতে চেয়েছিল আয়কর দফতর। তার বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হন সনিয়ারা। হাইকোর্ট আজ জানিয়েছে, করদাতাদের কোনও বছরের আয়কর তথ্য নতুন করে দেখার অধিকার আয়কর দফতরের রয়েছে। সনিয়া ও রাহুল গাঁধী চাইলে এই বিষয়ে আয়কর দফতরের কাছে তাঁদের বক্তব্য জানাতে পারেন।

গত মার্চে আয়কর বিভাগ সনিয়া ও রাহুল গাঁধীকে নোটিস পাঠিয়ে জানায়, তাঁদের ২০১১-১২ সালের আয়কর রিটার্নকে ফের খতিয়ে দেখা হবে। বিষয়টিকে নিয়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানান সনিয়ারা। কংগ্রেস নেতা অস্কার ফার্নান্ডেজের ওই বছরের আয়কর তথ্য নতুন করে দেখার কথা জানিয়েছিল আয়কর দফতর। তিনিও আদালতের গিয়েছিলেন। তাঁর আর্জিও আজ খারিজ হয়ে গিয়েছে।

বিতর্কের সূত্রপাত ন্যাশনাল হেরাল্ড সংবাদপত্রের প্রকাশক ‘অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালস লিমিটেড’-এর সম্পত্তিকে ঘিরে। বিপুল ঋণ থাকায় ২০০৮ সালে সংস্থাটি বন্ধ হয়ে যায়। তার দু’বছর পরে, ২০১০ সালে তৈরি হয় ‘ইয়ং ইন্ডিয়ান প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে একটি সংস্থা। এর শেয়ার হোল্ডারদের মধ্যে ছিলেন সনিয়া, রাহুলরা। জওহরলাল নেহরু প্রতিষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল হেরাল্ড’ পত্রিকার সঙ্গে কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর দাবি, ক‌ংগ্রেসের কাছে অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালের ৯০ কোটি টাকা ঋণ ছিল। অ্যাসোসিয়েটেড জার্নাল-এর পরিচালন পর্ষদ সিদ্ধান্ত নেয়, তাদের পক্ষে ওই ৯০ কোটি টাকা মেটানো সম্ভব নয়। ফলে ৫০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ওই ঋণ মেটানোর দায় ও অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালের সব শেয়ার ইয়ং ইন্ডিয়ানের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

স্বামীর অভিযোগ, সেই সময়ে অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালের অন্তত ২ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি ছিল। তা দিয়ে ঋণ মেটানো যেতে পারত। ফলে ৯০ কোটি টাকা মেটানো যাবে না বলে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আসলে সম্পত্তি রাহুল গাঁধীদের হস্তগত করানোর উদ্দেশেই এ সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে ২০১৬-র জানুয়ারিতে তাঁদের ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যহতি দেওয়ার আর্জি জানান সনিয়া,
রাহুল। আদালত এ ব্যাপারে সনিয়াদের ছাড় দিয়েছিল।