বাবরি মামলার রিপোর্ট তলব


বাবরি মসজিদ ভাঙার ষড়যন্ত্র মামলার বিচার ২০১৯-এর এপ্রিলের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই মামলার কতখানি অগ্রগতি হয়েছে, তা আজ লখনউয়ের নিম্ন আদালতের কাছে জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারক এস কে যাদবকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, কী ভাবে তিনি ২০১৯-এর এপ্রিলের মধ্যে মামলার শুনানি শেষ করতে চান, তা গোপন রিপোর্টে শীর্ষ আদালতকে জানান।

আগে ১৯৯২-র ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনা নিয়ে দু’টি মামলা চলছিল। একটি লখনউয়ের আদালতে, করসেবকদের বিরুদ্ধে। একটি রায়বরেলীর কোর্টে বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণী, উমা ভারতী ও মুরলীমনোহর জোশীর বিরুদ্ধে। সুপ্রিম কোর্ট ২০১৭-র ১৯ এপ্রিল নির্দেশ দেয়— দু’টি মামলাই এক সঙ্গে লখনউয়ের কোর্টে চলবে। নতুন করে শুনানি হবে না। প্রতিদিন শুনানি হবে। দু’বছরের মধ্যে মামলা শেষ করতে হবে। শুনানি শেষ না-হওয়া পর্যন্ত বিচারকের বদলিও হবে না। এই শেষের নির্দেশেই বিচারক এস কে যাদবের পদোন্নতি আটকে গিয়েছে। কারণ ইলাহাবাদ হাইকোর্টের বক্তব্য, পদোন্নতি দিতে হলে তাঁকে বদলি করতে হবে। অথচ শীর্ষ আদালত তাঁকে বদলি না-করার নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারক যাদব তাই এখন সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানিয়েছেন, বদলি না করেও তাঁকে যেন পদোন্নতি দেওয়া হয়।

আজ বিচারপতি রোহিংটন নরিম্যান ও ইন্দু মলহোত্রর বেঞ্চ বিচারক যাদবের কাছে জানতে চান, তিনি কী ভাবে ২০১৯-এর এপ্রিলের মধ্যে শুনানি শেষ করার পরিকল্পনা করছেন? শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ কতদূর এগিয়েছে, কতটা বাকি, তা নিয়েও গোপন রিপোর্ট চেয়েছেন তাঁরা।

অযোধ্যার রামমন্দির-বাবরি মসজিদের বিবাদের মূল মামলাটিও এখন সুপ্রিম কোর্টে ঝুলে রয়েছে। কিছু মুসলিম সংগঠন দাবি তুলেছে, মসজিদ ইসলামের অভিন্ন অঙ্গ। সুপ্রিম কোর্টের পুরনো রায়ে এর উল্টো কথা বলা হয়েছিল। তাই বিষয়টি ফের খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। এ নিয়ে সাংবিধানিক বেঞ্চে শুনানি হবে কি না, সেই রায় সংরক্ষিত রয়েছে। এই ফয়সালা হওয়ার পরেই মূল জমি বিবাদের মামলার শুনানি শুরু হবে।