ছবি: কুনাল বর্মণ।
পূর্বানুবৃত্তি: ভুজঙ্গর কুষ্ঠ রোগ ধরা পড়ে। ডাক্তারবাবু তাকে আশ্বস্ত করে বলেন যে, এখন এই রোগ পুরোপুরি সেরে যায়, চিন্তা করার কিছু নেই, তবুও ভুজঙ্গর মনে নানা রকম দুশ্চিন্তা বাসা বাঁধে। মানসিক চাপে সে আত্মহত্যা করে। বিভু সমাদ্দার তার ঘর থেকে উদ্ধার করে সেই পুরনো অ্যাটাচি। কম্বিনেশন লক খুলে উদ্ধার করে বহু দিন আগে হারিয়ে যাওয়া পাল যুগের কালো পাথরের বিষ্ণুমূর্তি। বিভুর মনে হয়, ভুজঙ্গ তার বেইমানির শাস্তি পেয়ে গেছে। অন্য দিকে, শিবুকে নিয়ে নন্দার কষ্ট কিছুতেই কমে না। বারবার মনে হয় শিবুর সঙ্গে তার মানসিকতা মেলেনি। শিবু তার মনোজগৎ কিংবা সূক্ষ্ম অনুভূতির খবর রাখে না। রাতে নন্দার ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করে শিবু। নন্দা বিরক্ত হয়ে সরিয়ে দিতে চায় শিবুকে। তখন শিবু বলে, সেদিন তার একটা খুব খারাপ অভিজ্ঞতা হয়েছে। এই কথা শোনার পর নন্দা কৌতূহলী হয়।
নন্দা জিজ্ঞেস করল, “বাজে এক্সপিরিয়েন্স মানে? কী হয়েছে?”
শিবু বলল, “তুমি তো জানো থানাবাজারে প্রকাশের বড় মশলার দোকান। গন্ধবণিক ওরা। প্রকাশ আমার ছোটবেলার বন্ধু। বৌভাতে দেখেছ, হয়তো মনে নেই তোমার। ধুতি-পাঞ্জাবি পরে এসেছিল। বাজারে গেলে ওর দোকানে একটু বসি। চা আনায়। দোকানদারি সামলে আমার সঙ্গে দু’-চারটে কথা বলে। বাজারে ঢুকে একটু এগোতেই দেখি, প্রকাশের দোকানের সামনে অনেক লোকজনের ভিড়। সামনে গিয়ে দেখি, প্রকাশ খুব উত্তেজিত ভাবে সবাইকে কী যেন বলছে। আমাকে দেখেই ভিতরে ডাকল। দোকানের ভিতরে পাড়ার ক্লাবের বেশ ক’জনকে দেখলাম। ওরা চুপচাপ গম্ভীর মুখে বসে রয়েছে।”
“হ্যাঁ, বুঝতে পারছি। প্রকাশ দত্ত। কী হয়েছেওর দোকানে?”
“আরে, গুন্ডা-টাইপের দু’টো ছেলে, মাঝে মাঝেই বাজারে ঢুকে ভয় দেখিয়ে টাকা তোলে। ঝামেলার ভয়ে কেউ আর প্রতিবাদ করে না। দশ-বিশ টাকা দিয়ে দেয়। প্রকাশ বাজারের একমাত্র গ্র্যাজুয়েট ব্যবসায়ী। বাজার কমিটির সেক্রেটারি। রমরমিয়ে চলে ওর দোকান। আজ হঠাৎ ছেলেদুটো ওর দোকানে একেবারে চূড়ান্ত ড্রাঙ্ক অবস্থায় এসে বলেছে, পাঁচশো টাকা এখনই দিতে হবে। নইলে হুজ্জোতি হবে। প্রকাশ ‘দেব না’ বলেছে। পঞ্চাশ পর্যন্ত দিতে চেয়েছিল। ছেলেদুটো শাসিয়ে গেছে, পনেরো মিনিট বাদে ওরা আসবে। প্রকাশ যেন টাকা রেডি রাখে।”
“তার পর? তুমি এর মধ্যে জড়ালে কী করে?”
“প্রকাশ ওদের ক্লাবে ফোন করেছে। অন্য দোকানিরাও এককাট্টা হয়েছে, জুলুমবাজি মানবে না। এমনিতেই অনেককে তোলা দিতে হয়। বলেছে, ‘আসুক ওরা, মজা দেখাব আজ।’ আমার মনে হল, কেটে না পড়ে একটু থাকা উচিত। ছোটবেলার বন্ধু।”
“হুঁ, তার পর? ছেলেদুটো এসেছিল?”
“আরে, মনে হয় আরও টেনে এসেছে। টলতে টলতে দোকানে ঢুকেছে। ভাবতেই পারেনি একটা প্রতিরোধ হবে। এক জন গিয়ে প্রকাশের সামনে দাঁড়িয়ে পকেট থেকে বড় একটা চাকু বার করেছে। হাতলের স্প্রিং টিপতেই খচাত করে চকচকে ছুরির ফলা বেরিয়ে পড়েছে। সোজা প্রকাশের সামনে গিয়ে গলার সামনে চাকু ধরেছে। পুরো মাতাল। কোনও হুঁশ নেই, বলা যায় না, মেরেও দিতে পারে। প্রকাশের চোখ ভয়ে বড় বড় হয়ে গেছে। আমার হঠাৎ কী যে হল, পিছন থেকে ছেলেটার গলা পেঁচিয়ে ধরেছি, আর এক জন এসে ওর হাত থেকে চাকু কেড়ে নিয়েছে। আর তখন আর এক জন হঠাৎ আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। ওর হাতেও ছুরি। ব্যালান্স রাখতে না পেরে আমি পড়ে গেছি দোকানের গদির উপর। আমার পিঠের উপর ছুরি তুলেছে ছেলেটা। কে যেন পিছন থেকে ওর চুলের মুঠি টেনে ধরতেই মাটিতে গড়িয়ে পড়েছে ছেলেটা। ওর হাত থেকে ছুরি কেড়ে নিয়ে সে কী মার দু’জনকে! পরে পুলিশ এসে দুটোকেই থানায় নিয়ে গেছে। তখন মনে হচ্ছিল, ভারী একটা বীরত্বের কাজ করেছি। পরে ভাবতেই দেখি আমার হাত-পা কাঁপছে। আমার পিঠে ছুরিটা ঢুকেও যেতে পারত!”
“এতক্ষণে তুমি আমাকে বলছ? কী সর্বনাশ! চিরকালের ভিতু মানুষ, বন্ধুর জন্য হঠাৎ এরকম রিস্ক নিতে গেলে তুমি!”
“অত ভিতু আমাকে মনে কোরো না। হস্টেলে বড় হয়েছি। অনেক সাহসের কাজ করেছি তখন। তবে এটা... কী জানি, রিফ্লেক্সে হয়ে গেছে। আসলে প্রকাশের চোখে ওরকম মৃত্যুভয় দেখে আমার ভিতরে কেমন যেন হয়ে গেল। কিছু না ভেবেই ঝাঁপিয়ে পড়েছি। এখন আর অতটা ভয় করছে না। এই তো দিব্যি বেঁচে আছি। পুরো ড্রাঙ্ক, ঠিকঠাক ছুরি চালাতেই পারত না। আর, অতগুলো মানুষ ছিল, ছেলেটাকে ঠিক আটকে দিত। কিন্তু, খুব আশ্চর্যের ব্যাপার কী জানো, যত বার ঝকঝকে ছুরিটার কথা মনে পড়ছে, তত বার আমি টের পাচ্ছি আমার ভীষণ সেক্স পাচ্ছে। কে জানে কেন! মনে হচ্ছে ভিতর থেকে কিছু একটা বার করে দেওয়া দরকার। খুব উথালপাথাল করছে ভিতরটা।”
কিছুক্ষণ চুপ করে রইল নন্দা। তার বুকের ভিতরে ভয়, রাগ, মায়া, ভালবাসা জড়াজড়ি করছিল। শিবুকে তার বুকের দিকে টেনে নিল।
“কেন, কেন তুমি অত সাহস দেখাতে গেলে। ভারী আমার বীরপুরুষ! সত্যি যদি স্ট্যাব করত, কী হত! আর, আজকাল এ-সব ছুরি-ফুরি নিয়ে কেউ মস্তানি করে নাকি। পেটো মারে, গুলি চালায়।”
“আরে পাতি মস্তান। খুচখাচ পয়সা তোলে। বেশি নেশা করে ওজন রাখতে পারেনি। দশ-বিশ টাকা যাদের সবাই দয়া করে ছুড়ে দেয়, তাদের কেন পাঁচশো টাকা দেবে! বাদ দাও, এখন আর ও-সব কথা বোলো না। আমার কাছে এসো নন্দা। আমি আর পারছি না।”
নন্দা বলে, “এসো।”
শিবু নয়, নন্দাই অনেক ক্ষণ আদর করল শিবুকে। ক্রমশ শীর্ষে পৌঁছচ্ছিল শিবু। উন্মাদ আগুননদী দৌড়ে বেড়াচ্ছিল তার শরীর জুড়ে। শরীরের অলিগলি দিয়ে লাভাস্রোত ছুটে বেড়াচ্ছে দুরন্ত উদ্গীরণের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। ঝকঝকে ছুরি দিয়ে ক্রমাগত আঘাত করছে শিবু। আজ তাকে হিংস্র কোনও জন্তু মনে হচ্ছিল নন্দার। যেন প্রতিশোধ নেবে বলে তীক্ষ্ণ ছুরি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে কোনও গন্ধবণিকের উপর। অবশেষে মহাস্খলন। ভিতরের জমাট-বাঁধা ভয় ঘন তরল হয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল। নন্দা বুঝতে পারছিল তার জন্য নয়, শিবুর নিজের পরিত্রাণের জন্য এই আয়োজন। নিজের দুর্বলতা, মৃত্যুভয় থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তাকে আজ আক্রমণকারীর ভূমিকা নিতে হয়েছে।
৮
চা-বাগানে ডাক্তারবাবুরা আসতে চায় না। আজকাল সব বাগানে আলাদা কোনও ডাক্তার থাকেও না। কিছু ভাল বাগানে ডাক্তারবাবু আছেন। তাদের রীতিমতো বাংলো ছাড়াও অন্যান্য সব রকম সুবিধে দেওয়া হয়। নার্স, কম্পাউন্ডার ছাড়াও মালী, দু’জন কাজের লোক। মাইনেপত্র ভালই। তবু শহরের সুবিধে আর চেম্বার করার সুখস্বপ্ন ছেড়ে কে-ই বা আসবে। আটান্ন পর্যন্ত চাকরিজীবন। সে-সব নিয়ম কেউ মানে না। এক জন ডাক্তারবাবু অবসর নিলে, অন্য ডাক্তার কবে পাওয়া যাবে কোনও ঠিক নেই। বাগান-কর্তৃপক্ষ অপশন দেয়। অনেকেই আশি পর্যন্ত চাকরি চালিয়ে যান। জ্বরজারি, স্কিন-ডিজ়িজ়, অতিরিক্ত নেশার কারণে লিভারের অসুখ— মোটামুটি বাঁধা ছক। কেস জটিল হলে নর্থ বেঙ্গল মেডিক্যাল কলেজ, শিলিগুড়ি বা জলপাইগুড়ির হাসপাতালে পাঠানোর সুপারিশ, ব্যস। রামপ্রিয় সান্যালের অবসরের বয়স কবেই পেরিয়ে গেছে। দিব্যি ফুর্তিতে বাগানের বাবুদের আর কুলি-লাইনের লেবারদের চিকিৎসা করে যাচ্ছেন।
কাল রাতে তাঁর ভাল করে ঘুম হয়নি। রাত ন’টা নাগাদ হইহল্লা শুনে প্রথমে বুঝতে পারেননি। কুলি-লাইনের ওদিক থেকে অনেকগুলো কুকুরের ডাক শুনতে পাচ্ছিলেন। একটু বাদেই টিন পেটানোর আওয়াজ শুনে বুঝলেন, বাগানে হাতি ঢুকেছে। লেপার্ড এলে কুকুরগুলো খুব ভয় পায়। কুঁই কুঁই আওয়াজ করে। কুকুর লেপার্ডের প্রিয় শিকার। কিন্তু হাতি এলে ওদের সমবেত গর্জন শোনা যায়। শীতকালে হাতি আর লেপার্ড— দুটোরই অত্যাচার বাড়ে। মাঠে ধান পাকে, সেই লোভে জঙ্গল থেকে ওরা গ্রামে চলে আসে। মহুয়া আর হাঁড়িয়ার গন্ধে চা-বাগানে এসে তছনছ করে দিয়ে যায়। চা-বাগানের সরু নালায় লেপার্ড বাচ্চাদের নিয়ে থাকে। প্রায়ই শোনা যায় বাগানের লেবারদের উপর লেপার্ডের আক্রমণ। আসলে শাবকদের ক্ষতির আশঙ্কায় ওরা আক্রমণ করে বসে।
পরে শুনেছিলেন একটা নয়, তিনটে হাতি এক সঙ্গে এসেছিল। একটা ছিল বিশাল দাঁতওয়ালা, পাহাড়ের মতো বড়, অন্য দুটো মাদি। এ বাগানে চাকরি করতে আসার পর প্রায় প্রত্যেক বছরই হাতি আসার খবর পেয়েছেন। তাঁর বাংলোর সামনেও এক বার দেখেছেন। সে অবশ্য অনেক আগের কথা।
সেদিন পেশেন্ট প্রায় ছিলই না। বিকেল-বিকেল তিনি তাঁর বাংলোয় ফিরেছেন। স্ত্রীকে বলেছিলেন, কড়া করে বোরোলি মাছ ভাজতে। আজ চড়া শীত পড়েছে। ডুয়ার্সের শীত কেমন, তিনি হাড়ে হাড়ে জানেন। তবু আজ যেন মনে হচ্ছে আশপাশে কোথাও বরফ পড়ছে। দুপুরে কুয়াশা একটু হালকা হতে সূর্যের মুখ কিছুক্ষণের জন্য উঁকি দিয়েছিল। একটু বাদেই আবার ঘন কুয়াশায় চরাচর প্রায় অন্ধকার হয়ে এল। দূরে, বাগানের বেঁটে চা-গাছগুলো মনে হচ্ছে ধূসর সমুদ্র। মাঝে মাঝে লম্বা শেড-ট্রিগুলোর মাথা নীল ধোঁয়ায় মাখামাখি। আজ জম্পেশ করে গান শুনবেন। ভাল হুইস্কি আছে ঘরে। বোরোলি ভাজা দিয়ে আসর হবে আজ। অনেক দিন পালুসকর শোনা হয় না। পলাশগুড়িতে গিয়ে তো আর গান শোনা হয় না। প্রিয় রেকর্ডগুলো বাছাই করে এখানে নিয়ে এসেছেন। শহর থেকে দূরে, এই নির্জনতায় খুব ভাল আছেন। প্রিয় গান, প্রিয় মদিরা আর প্রিয় নারী নিয়ে বেশ আছেন তিনি। যখন গলা ছেড়ে গেয়ে ওঠেন— ‘জনম মরণ কে সাথী’, দিলীপকুমার রায়ের, ইচ্ছে করে মনমায়াও তার সঙ্গে গলা মেলাক। কী করা যাবে, যা পেয়েছেন, তাই বা কম কী! সব আশা কি আর মানুষের কোনও দিন পূর্ণ হয়। তিনি ডাক্তার হতে চাননি। তাঁর ইচ্ছে ছিল মৌলিক কোনও গবেষণার কাজ করবেন। পৃথিবীর নামকরা কোনও প্রতিষ্ঠানে রিসার্চের কাজ করে জীবন কাটিয়ে দেবেন। তাঁর আপত্তি কেউ শোনেনি। একটা কথা শুনতে শুনতে মাঝে মাঝে কান্না পেয়ে যেত। কী, না— “আমাদের বংশে কেউ ডাক্তার নেই। তুই চান্স পেয়েও পড়বি না? রাধামাধবের ইচ্ছে তুই বড় ডাক্তার হবি।”
তিনি বুঝতে পারতেন, বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত বিগ্রহ রাধামাধবের নামে তাঁকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এক রকম ব্ল্যাকমেল। শুধু বাড়ির লোক নয়, আত্মীয়স্বজন, পাড়াপ্রতিবেশী— সবাই তাঁকে ডাক্তার হিসেবে দেখতে চেয়েছিল। তাঁর ইচ্ছের কথা কেউ জানতে চায়নি। তাঁর আর গান শেখা হবে না। অসীম রহস্যে ভরা জ্যোতির্বিজ্ঞানের জগৎ ছেড়ে যেতে হবে তাঁকে। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিরহস্যের কথা, ধূলিকণা জমাট বাঁধার গল্প, নেবুলা আর অ্যান্ড্রোমিডার কথা— সব ছেড়ে অন্যের সাধ মেটানোর দায় তাঁকে নিতে হবে। লুকিয়ে চোখের জল ফেলেছিলেন রামপ্রিয়। পাশ করে বেরোতে সবাই ভেবেছিল সে রীতিমতো চেম্বার খুলে পলাশগুড়িতেই প্র্যাকটিস শুরু করবে। সবাই বলবে, ‘ও তো সান্যালবাড়ির ছেলে। খুব ভাল ডাক্তার।’ তা হয়নি। দূরের কোনও নির্জনে চলে যেতে চেয়েছিলেন নবীন ডাক্তার।
খবর পেয়েছিলেন, পুরনো বাগান নিউ গ্রাহাম টি-এস্টেট ডাক্তার খুঁজছে। সে ছিল এক স্কটিশ সাহেবের বাগান। তখন নাম ছিল গ্রাহাম টি-এস্টেট। মালিকানার হাত-বদল হয়ে জলপাইগুড়ির এক ব্যবসায়ীর হাতে যাওয়ার পর নাম পাল্টে নিউ গ্রাহাম হয়ে যায়। পলাশগুড়ি থেকে অনেক দূরে। ভুটান বর্ডারের কাছে। দরকারি কাগজপত্র নিয়ে সরাসরি গিয়ে দেখা করেছিলেন ম্যানেজারের সঙ্গে। ওখানে বসেই একটা দরখাস্ত লিখতে হয়েছিল। ম্যানেজারবাবু বলেছিলেন, ডাক্তার তাদের আর্জেন্ট দরকার। তবে ফাইনাল কথা তিনি এখনই কিছু বলতে পারবেন না। মালিক কলকাতায়, সামনের রবিবার ফিরবেন। তিনিই ফাইনাল কথা বলবেন। বাগানের ডাক্তারের স্যালারি, কী কী সুবিধে পাওয়া যায়— সবই বলেছিলেন ম্যানেজার। তার সন্দেহ ছিল রামপ্রিয় সান্যাল এখানে, এই পাণ্ডববর্জিত জায়গায় চাকরি করতে আসবেন কি না।
ম্যানেজার বলেছিলেন, “শহুরে মানুষ দু’দিন থেকেই হাঁপিয়ে যায়। বড় একঘেয়ে জীবন আমাদের। আপনি জয়েন করলেও বেশি দিন হয়তো থাকবেন না। আপনাকেই হয়তো জয়েন করতে হবে। আমাদের তো আর কোনও অপশন নেই। আমরা এখন ভিখিরির মতো এক জন ডাক্তারবাবু খুঁজে বেড়াচ্ছি। বেগার্স ক্যানট বি চুজ়ার্স। এক বার ঘুরে দেখবেন বাগানটা? বেশ বড় বাগান আমাদের। মার্কেটে আমাদের লিফের গুডউইল আছে। নিউ গ্রাহামের চা লোকজন খোঁজ করে কেনে।”
ক্রমশ
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে