ঐতিহাসিক: ট্রোফি হাতে দারা ও তাঁর বুলগেরিয়ান দল, ইউরোভিশন সং কনটেস্ট ২০২৬-এর মঞ্চে। ডান দিকে, এই প্রতিযোগিতায় ইজ়রায়েলের অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, ভিয়েনার রাস্তায়। ছবি: রয়টার্স।
গত এক সপ্তাহ যাবৎ একটা নতুন শব্দ গোটা বিশ্বকে নাচাচ্ছে— ‘বাঙ্গারাঙ্গা’। নতুন বলা ভুল হল, জামাইকান পাটওয়া উপভাষায় তো কবে থেকেই আছে মূল শব্দটা, ‘বাঙ্গারাং’। এক শব্দে তার অর্থটা ধরা মুশকিল। এ এমন এক মানসিক অবস্থার কথা বলে, যখন আমাদের ভিতরের আঁতটা বিদ্রোহ, আনন্দ, আবেগ-অনুভূতি সব কিছুর একটা চূড়ান্ত অগোছালো কিন্তু আগাগোড়া সৎ চেহারায় বেরিয়ে আসে। এ যেন নিজের ও চারপাশের হাজারো বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়ার ডাক, জীবনের সব কৃত্রিমতা মেকিপনা ঝেড়ে-মুছে ‘আমার আমি’র উদ্যাপন।
এমন আত্ম-উদ্বোধনের বীজমন্ত্র যখন একটা গোটা গানের প্রাণভোমরা হয়ে ওঠে, তখন কী হয়? অনেক, অ-নে-ক মানুষের হৃদয় ছোঁয়, মন জয় করে সে-গান। গত ১৬ মে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় হয়ে গেল ‘ইউরোভিশন সং কনটেস্ট ২০২৬’, সঙ্গীতের সেই বিশ্বমঞ্চে ইউরোপের ছোট্ট দেশ বুলগেরিয়া বিজয়ীর পুরস্কার ছিনিয়ে নিয়েছে এই ‘বাঙ্গারাঙ্গা’ গান দিয়েই। গেয়েছেন বুলগেরিয়ান তরুণী পপ-গায়িকা দারা, সঙ্গে সঙ্গত করেছেন আরও তিন সহশিল্পী— ওঁদের কোরিয়োগ্রাফি আর পারফরম্যান্স মুগ্ধ করেছে ভিয়েনার অনুষ্ঠানস্থলে হাজির থাকা ষোলো হাজারেরও বেশি দর্শক-শ্রোতা, আর তাঁদের বাইরে, এই সঙ্গীত প্রতিযোগিতার প্রতিযোগী ও সহযোগী দেশগুলির লক্ষ লক্ষ দর্শক-শ্রোতাকেও। তারই ফল, প্রতিযোগিতার বিচারক ও টেলি-ভোটারদের সম্মিলিত ভোটে মোট ৫১৬ পয়েন্ট পেয়ে মোট ৩৫টা দেশের মধ্যে এক নম্বর হয়েছে বুলগেরিয়া, দারা-রা হয়েছেন ২০২৬-এর ইউরোভিশন সং কনটেস্ট-এর বিজয়ী— চ্যাম্পিয়ন!
তা বচ্ছরকার প্রতিযোগিতা যখন, কেউ না কেউ তো প্রতি বছর চ্যাম্পিয়ন হবেই। ইউরোভিশন সং কনটেস্ট-এর আবেগগত গুরুত্ব আসলে অন্য জায়গায়— এখানে এক-এক জন গায়ক/শিল্পী (বা তাঁর দল) এক-একটি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন কিনা! একটা কল্পিত উদাহরণ দিলে পরিষ্কার হবে। ধরা যাক যদি ভারত এই প্রতিযোগিতায় যেত? এত বড় দেশ, এত বিচিত্র তার গানের সম্ভার ও বৈচিত্র, এত গুণী শিল্পী এই দেশ জুড়ে, সারা দেশ থেকে এক জনকে বাছতে হলে, কে হতেন সেই প্রতিনিধি? সত্যিই কে যে হতেন, সেই মহাসমস্যাকে সরিয়ে রেখে ভাবা যাক দেশের আবেগের দিকটা: যিনি যেতেন, তাঁর জন্য তো একশো চল্লিশ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার এই দেশ সমর্থনে, ভোটিংয়ে জানপ্রাণ লড়িয়ে দিত! ইউরোভিশন সং কনটেস্ট-এ ঠিক এমনটাই হয়— একটি গান, এক জন শিল্পী সেখানে একটা গোটা দেশের সত্তার প্রতিভূ, সেই গানের তুঙ্গস্পর্শ মানে দেশেরও শৃঙ্গজয়। এ বছর সেই শিখর ছুঁয়েছে দারা-র বুলগেরিয়া।
‘ইউরোভিশন’ নামেই স্পষ্ট, এ-প্রতিযোগিতা ইউরোপের দেশগুলোর। ঠিক যেমন ইউরোপের ফুটবল-খেলিয়ে দেশগুলো খেলে ইউরো কাপে, বা ইউরোপের ফুটবল ক্লাবগুলো শক্তিপরীক্ষার সুযোগ পায় উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ বা ইউরোপা লিগে, তেমনই এ হল ইউরোপের দেশগুলোর নিজস্ব সঙ্গীত প্রতিযোগিতা। তবে, এরও কিছু তবে বা কিন্তু আছে। এ বছরের, কিংবা আগের নানা বছরেরও খতিয়ান ঘাঁটলে দেখা যাবে, ইজ়রায়েল, অস্ট্রেলিয়া, মরক্কোর মতো দেশও ইউরোভিশনে যোগ দিয়েছে। এরা কী করে ইউরোপের দেশ হল? আসলে ব্যাপারটা ভূগোলের গণ্ডিতে বাঁধা নয়। ‘ইউরোভিশন’-এ যোগ দিতে গেলে কোনও দেশকে ইউরোপেরই দেশ হতে হবে তা নয়, কিন্তু তাকে এই প্রতিযোগিতার নিয়ামক সংস্থা ‘ইউরোপিয়ান ব্রডকাস্টিং ইউনিয়ন’ (ইবিইউ)-এর সদস্য হতেই হবে। ইবিইউ হল মুখ্যত ইউরোপের নানা দেশের সরকারি সম্প্রচার সংস্থাগুলির সম্মিলনে তৈরি একটি সংগঠন, তবে মূল ইউরোপ ভূখণ্ডের বাইরেও তাদের সম্প্রচার-ক্ষেত্র (ব্রডকাস্টিং এরিয়া) থাকতেই পারে, এবং সেই সূত্রে ভৌগোলিক ভাবে ইউরোপের বাইরের কোনও দেশও ইবিইউ-এর পূর্ণ বা অ্যাসোসিয়েট সদস্য হতে পারে। ইজ়রায়েল যেমন পশ্চিম এশিয়ার দেশ হয়েও সেই ১৯৭৩ থেকেই ইউরোভিশনে আসছে রীতিমতো, ১৯৮০-তে এসেছে আফ্রিকার দেশ মরক্কো, এসেছে আজ়ারবাইজান, আর্মেনিয়া, জর্জিয়া; ইউরোপ-এশিয়া দুই মহাদেশেই হাত-পা ছড়িয়ে থাকা রাশিয়া বা তুরস্ক, কিংবা ইবিইউ-এর বিশেষ আমন্ত্রণসূত্রে ২০১৫ থেকে নিয়মিতমুখ অস্ট্রেলিয়াও।
এ বছরের প্রতিযোগিতার ছিল এক আলাদা মাত্রা— কারণ ইউরোভিশন সং কনটেস্ট সত্তর বছর পেরোল। ১৯৫৬ সালের আজকের দিনেই প্রথম বছরের প্রতিযোগিতা (তখন অবশ্য নাম ছিল অন্য) হয় সুইৎজ়ারল্যান্ডের লুগানো শহরে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর সেই সময়ে, ভগ্নহৃদয় দেশগুলোর মনে বিনোদনের মলম লাগাতে ইউরোপে তখন টেলিভিশন-প্রযুক্তির জয়জয়কার। সেই প্রেক্ষিতেই আদি উদ্যোক্তাদের মনে হয়েছিল, সারা ইউরোপ জুড়ে টিভির পর্দায় দেখা আর শোনা যাবে, এমন একটা গানের প্রতিযোগিতা করলে কেমন হয়! সে-ই শুরু। আয়োজক দেশ সুইৎজ়ারল্যান্ডই প্রথম বছরের জয়ী। তার পর থেকে গত সাত দশকে অব্যাহত থেকেছে এই কনটেস্ট, শুধু ২০২০ সালে কোভিডের বছরটি বাদে। এর মধ্যে বিশ্ব জুড়ে সমাজ-রাজনীতির কতই না বদল এসেছে, উন্নত হয়েছে সম্প্রচার ও টেলি-সম্প্রচার প্রযুক্তি, এসেছে আন্তর্জাল— এই সব কিছুই ছায়া ফেলেছে বিশ্ব জুড়ে নানা দেশ-ভাষা-জাতি-সংস্কৃতির মানুষের গানের রুচিতে। সত্তর বছর ধরে নাগাড়ে এত বড় মাপের কোনও সঙ্গীত প্রতিযোগিতার অস্তিত্বরক্ষাই যেখানে এক বিরাট ব্যাপার, ইউরোভিশন সং কনটেস্ট সেখানে সগরবে-সগৌরবে বিরাজমান। সবচেয়ে বড় কথা— সত্তর বছরে যে গানগুলি বিজয়ীর শিরোপা পেয়েছে, যে গানগুলি চূড়ান্ত পর্যায়ে উঠেছে, এবং মোট যত গান এই প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছে, সেগুলির সম্মিলিত আর্কাইভ বা প্লে-লিস্ট যদি প্রকৃত সঙ্গীতপ্রেমীর হাতে পড়ে, তবে নিশ্চিত ভাবেই ইউরোপীয় জনপ্রিয় সঙ্গীতধারার বিচিত্র ও বহতা ঐতিহ্যটি তাঁদের সামনে ফুটে উঠবে। প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণারও বিষয় হতে পারে তা, নিজের জোরেই।
নানা সময়ে নানা বদলও এসেছে এই প্রতিযোগিতার নিয়মবিধিতে। সাম্প্রতিকতম নিয়মকানুনের জটিল গোলকধাঁধায় না ঢুকে শুধু এইটুকু বলা যাক, প্রতিটি গান বা পারফরমেন্সকে বিচার করে নম্বর দেন পেশাদার আন্তর্জাতিক জুরি-দল, আবার প্রতিযোগী দেশগুলি নিজেরাও (একে বলে পাবলিক/টেলি-ভোটিং)। আবার প্রতিযোগী নয়, এমন দেশ তথা ‘গ্লোবাল ভিউয়ার’ও নম্বর তথা ভোট দিতে পারে, সেই ‘রেস্ট অব দি ওয়ার্ল্ড’ ভোট বা নম্বরও যোগ হয়। তবে ইউরোভিশন-এর সবচেয়ে মজার আর মহান নিয়মটা হল— কোনও প্রতিযোগী দেশ তার নিজের গান বা শিল্পীকে ভোট দিতে পারে না, ভোট দিতে হবে বাকি, অন্য প্রতিযোগীদের। নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই নিয়মটি করা হয়েছে। এ ভাবেই সব প্রতিযোগী দেশ বাকি সবাইকে নম্বর/ভোট দেয়, জুরিরাও— আর শেষে জুরি ও জনতা (দেশ), দু’পক্ষের মোট নম্বর যোগ করে স্থির হয় বিজয়ী হলেন কোন শিল্পী, কোন দেশ। ফাইনালের আগে আছে সেমিফাইনালও। এ বছর যেমন মোট ৩৫টি দেশ ইউরোভিশন-এ অংশগ্রহণ করেছিল, দু’টি সেমিফাইনাল হয়ে শেষে ফাইনালে ওঠে মোট ২৫টি গান তথা দেশ। তাদেরই মধ্যে সেরার মুকুট উঠেছে বুলগেরিয়ার ‘বাঙ্গারাঙ্গা’র মাথায়, জুরি ও জনতা দু’পক্ষেরই সবচেয়ে বেশি নম্বর পেয়েছে দারা-র গান। প্রথম পাঁচের বাকি চারে আছে যথাক্রমে ইজ়রায়েল, রোমানিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও ইটালি। একেবারে শেষে ব্রিটেন।
যতই প্রতিযোগিতা হোক, দিনের শেষে তো নিখাদ আনন্দেরই ব্যাপার— কারণ এই সব কিছুই তো গান ঘিরে। সুর তাল ছন্দ নাচ মঞ্চ আলো আবহ, এই সব কিছু মিলিয়ে চোখের সামনে ঘটে-যাওয়া একটা নির্ভেজাল সাঙ্গীতিক ‘পারফরমেন্স’ ঘিরে। সে-কথা মনে করিয়ে দিতেই ইউরোভিশন সং কনটেস্ট-এর স্লোগান ‘ইউনাইটেড বাই মিউজ়িক’। সত্যিই তো, গানই তো মেলাতে পারে, যুগে যুগে মিলিয়েছেও— এই বিশ্বকে। গানের, সুরের, শিল্পীর কোনও সীমান্ত হয় না, নেহাত প্রতিযোগিতার খাতিরে একটা কাঠামো মেনে চলতে হয় বলেই না এত সব কানুনের কেরদানি! সত্তর বছরে ইউরোভিশন যে কত শিল্পী উপহার দিয়েছে এই বিশ্বকে! তাঁদের মধ্যে অনেকেই হয়ে উঠেছেন তাঁর বা তাঁদের সময়ের, দেশ-কালের, সঙ্গীত-পরম্পরার মুখ; অনেকেই সাময়িকতার আগল ভেঙে হয়ে উঠেছেন সর্বজনীন, বৈশ্বিক। সত্তর ও আশির দশকের পপ-দুনিয়া মাতিয়ে রেখেছিল যে সুইডিশ গানের দল ‘অ্যাবা’, ১৯৭৪ সালের ইউরোভিশন তাঁরাই জয় করেছিলেন ‘ওয়াটারলু’ গানে— জানেন ক’জন! ‘টাইটানিক’ সিনেমার ‘মাই হার্ট উইল গো অন’ গানের সূত্রে বিশ্বজয় করেছেন যে সেলিন ডিওন, সেই জয়যাত্রার সূচনালগ্ন যে ১৯৮৮-র ইউরোভিশন-এ সুইৎজ়ারল্যান্ডের হয়ে তাঁর সেরার খেতাব-জয়, খাঁটি সঙ্গীতরসিকের তা অজানা নয়।
এত সুরের মাঝে কি বেসুর বাজে না, বাজেনি কখনও? তার ইতিহাসও ধরা আছে এক-এক বছরের ইউরোভিশনে। এক দেশের সঙ্গে আর এক দেশের রাজনৈতিক কোন্দল, যুদ্ধ বা যুদ্ধ-পরিস্থিতি কালো ছায়া ফেলেছে, যখনই দেখা গেছে প্রতিদ্বন্দ্বী বা যুধ্যমান দু’টি দেশই রয়েছে প্রতিযোগিতায়। ইউরোভিশন কর্তৃপক্ষ সামগ্রিক ভাবে বলে থাকেন এই প্রতিযোগিতা অরাজনৈতিক, কারণ সঙ্গীতের অবস্থান তো ক্ষুদ্র স্বার্থবদ্ধ রাজনীতির ঊর্ধ্বে! তবু, অনেক সময়ই দেখা গিয়েছে, কোনও দেশ প্রতিযোগিতায় যে গান গাইবে বলে জমা দিয়েছে, তার বাণীতে উঠে এসেছে ‘শত্রু’ দেশের যুদ্ধ, গণহত্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা: সোজাসুজি বা ঘুরপথে। কর্তৃপক্ষ অনেক সময় তা প্রত্যাখ্যান করেছেন, গানের বাণী পাল্টাতে বা অন্য গান জমা দিতে বলেছেন, সে নিয়েও হইচই কম হয়নি।
সাম্প্রতিক কালে যেমন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও গাজ়ায় ইজ়রায়েলের যুদ্ধ গভীর রেখাপাত করেছে এই প্রতিযোগিতার অঙ্গনে। এ বছরই তো, ইজ়রায়েল এই প্রতিযোগিতায় আছে বলে তার প্রতিবাদে পাঁচ-পাঁচটা দেশ— আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, স্পেন, নেদারল্যান্ডস আর স্লোভেনিয়া বয়কট করেছে ২০২৬-এর ইউরোভিশন। প্যালেস্টাইনে, গাজ়ায় গণহত্যা ও ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে যে দেশ, কোন মানবিক যুক্তিতে তার শিল্পীকে গান গাইতে দেওয়া হবে, এই ঔদার্যের অর্থ কি চরম অমানবিকতার প্রমাণ নয়, জীবন ও মনুষ্যত্বের চরম অবমাননার পরিচয় নয়? ইউরোভিশনে আগের বছর যে দেশ জয়ী হয়েছে, পরের বছর তারই কোনও শহরে বসে সে-বছরের প্রতিযোগিতা: এমনটাই নিয়ম। ২০২২-এ ইউক্রেন বিজয়ী হয়েছিল, কিন্তু পরের বছর যখন প্রতিযোগিতার সময় হল, তখন রাশিয়ার আক্রমণে সে বিধ্বস্ত: ধ্বংসস্তূপের মাঝে কোথায় হবে গান? আগের বছর দ্বিতীয় স্থানাধিকারী ব্রিটেন জরুরি পরিস্থিতিতে আয়োজকের দায়িত্ব পালন করে, লিভারপুলে বসেছিল ২০২৩-এর আসর। এ বছর ভিয়েনার রাজপথ মুখর হয়ে উঠেছিল ইজ়রায়েলের গাজ়া-যুদ্ধের প্রতিবাদে, ‘নো স্টেজ ফর জেনোসাইড’ লেখা ব্যানার হাতে, স্লোগান-মুখে পথে মিছিল করেছেন অগণিত মানুষ। এঁরা সকলেই গান ভালবাসেন, ভালবাসেন গানের এত বড় মঞ্চও। কিন্তু জীবন আর বেঁচে থাকা যে আরও বড়!
সুরের আবহে এই প্রতিবাদী বিরুদ্ধস্বরকে যদি তর্কের খাতিরে ‘বেসুর’ বলি, তবে বলতে হয়— ইউরোভিশন-এর সত্তর বছরের উদ্যাপনে সুরের গায়ে গায়ে জয় হল বেসুরেরও। সুর জয়ী হল মঞ্চের আলোয়, উপস্থিত ষোলো হাজার দর্শক-শ্রোতার উচ্ছল আবেগে, আর বেসুরের বিজয়রথ ছুটল বাইরে, পথের ধুলোয়— সারা বিশ্বের চোখের সামনে। আর কী আশ্চর্য, যে গান গেয়ে বুলগেরিয়াকে ইতিহাসে তুললেন দারা, তার সুরে-বাণীতেও তো ভাঙনের, মুক্তিরই জয়গান: ‘বাঙ্গারাঙ্গা’! তা হলে জিতল কে, গানই তো!
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে