প্রেশার কুকারে কী ভাবে বানাবেন তন্দুরি রুটি? ছবি: সংগৃহীত।
মটন রেজ়ালা হোক বা চিকেন চাঁপ, তড়কা হোক বা পনির পসিন্দা— রেস্তরাঁয় এমন কোনও পদ অর্ডার করলে সঙ্গে তন্দুরি রুটি না হলে খাওয়াটা ঠিক জমে না। তবে বাড়িতে তন্দুরি রুটি বানানোর চেষ্টা করলে মোটেই রেস্তরাঁর মতো স্বাদ আসে না। স্বাদ আসবে কী করে, বাড়িতে তন্দুরের ব্যবস্থা কই? গ্যাসের আঁচে সেই রুটি এতটাই কড়া হয়ে যায় যে, দাঁতে কাটা যায় না। অথচ বাড়িতে প্রেশার কুকার থাকলেই রেস্তরাঁর মতো তন্দুরি রুটি বানানো যেতে পারে। 'প্রেশার কুকারে তন্দুরি রুটি', শুনতে অবাক লাগতেই পারে। তবে এক বার এই পদ্ধতিতে তন্দুরি রুটি বানিয়ে নিলে আর দোকান থেকে কেনার প্রয়োজন হবে না।
কী ভাবে বানাবেন?
১) লুচি বানানোর সময় অনেকেই ময়দার সঙ্গে আটা ব্যবহার করেন। তবে তন্দুরি রুটি বানানোর সময় কিন্তু এমনটা করলে চলবে না। পুরোটাই ময়দা ব্যবহার করতে হবে। ময়দার সঙ্গে নুন, চিনি আর তেলও ব্যবহার করতে হবে। তন্দুরি রুটি বানানোর সময় কিন্তু বেকিং সোডা ব্যবহার করা জরুরি। গরম দুধের আর জলের মিশ্রণ দিয়ে ময়দা মেখে নিন।
২) ময়দা মেখেই সঙ্গে সঙ্গে সেঁকতে যাবেন না। ময়দা মাখার পর অন্তত ঘণ্টাখানেক মণ্ডটি সুতির ভিজে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন। এই পদ্ধতিটি মেনে না চললে কিন্তু মোটেই নরম হবে না রুটি।
৩) তন্দুরি রুটি বেলার সময় খুব বেশি পাতলা করে বেললে হবে না, একটু মোটা করে বেলতে হবে। তা হলেই রুটি বাইরে থেকে মুচমুচে আর ভিতর থেকে নরম হবে। এ বার রুটির এক পিঠে একটু জল মাখিয়ে নিন। এতে রুটি প্রেশার কুকারের গায়ে আটকে থাকবে।
৪) প্রেশার কুকার নিয়ে তার ঢাকনাটি সরিয়ে রাখুন। গ্যাসের আঁচ মাঝারি রেখে প্রেশার কুকারটি উল্টো করে গ্যাসের উপর রেখে দিন। প্রেশার কুকারের ভিতরটা ভাল করে গরম করে নিন। প্রেশার কুকার ভাল করে গরম না হলে তন্দুরি রুটি ভাল হবে না।
৫) খুব সাবধানে প্রেশার কুকারের ভিতরের একটি দেওয়ালে রুটির ভিজে দিকটি আটকে দিন। মিনিট দুয়েক অপেক্ষা করলে দেখবেন, রুটিটি অল্প অল্প করে ফুলতে শুরু করেছে। এ বার প্রেশার কুকারটি উল্টে দিন গ্যাসের উপর। গ্যাসের আঁচ বাড়িয়ে রুটিটি সেঁকে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে দোকানের মতো তন্দুরি রুটি। ঘি বা মাখন লাগিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।