Anandabazar Patrika Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading Newspaper

নোভাক বোঝাল, কে এখন বিশ্বসেরা

চ্যাম্পিয়ন: খুয়ান মার্তিন দেল পোত্রোকে স্ট্রেট সেটে হারিয়ে তৃতীয় বার যুক্তরাষ্ট্র ওপেন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরে নোভাক জোকোভিচের উচ্ছ্বাস। রবিবার নিউ ইয়র্কে। এএফপি

দুটো ঘটনাবহুল দিন দিয়ে শেষ হল এ বারের যুক্তরাষ্ট্র ওপেন। মেয়েদের ফাইনাল ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তাতে কান না দিয়ে আসুন অভিনন্দন জানাই দু’জন দুর্দান্ত চ্যাম্পিয়নকে।

জাপান তার প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম চ্যাম্পিয়ন পেল। নেয়োমি ওসাকা। সেরিনা উইলিয়ামসের বিরুদ্ধে কৌশলগত ভাবে খুব ভাল টেনিস খেলল ওসাকা। শক্তির সঙ্গে শক্তি দিয়ে টক্কর দিয়ে গেল। এর ঠিক এক দিন পরে, রবিবার রাতে, ঠান্ডা মাথার খুয়ান মার্তিন দেল পোত্রোকে উড়িয়ে দিয়ে বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতে নিল নোভাক জোকোভিচ। গ্র্যান্ড স্ল্যাম মরসুম শেষ হল নোভাকের আধিপত্য দিয়ে। ও বুঝিয়ে দিল, এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় কে।

আমার মনে পড়ছে না, মেয়েদের কোনও ফাইনাল নিয়ে এত আলোচনা কখনও হয়েছে। সেরিনা, কার্লোস র‌্যামোস (চেয়ার আম্পায়ার), প্যাটট্রিক মোরাতগলু (সেরিনার কোচ)— সবারই একটা খারাপ দিন গিয়েছে। র‌্যামোস একেবারে নিয়মমাফিক চলেছে ঠিকই, কিন্তু আমার মনে হয় ওর আরও একটা দায়িত্ব ছিল। সেটা হল, খেলোয়াড়দের সাহায্য করা। প্রথমে একটা পয়েন্ট তার পরে একটা গেম কেড়ে নিয়ে ও ব্যাপারটা আরও জটিল করে দেয়। মানছি, ম্যাচ রেফারি টেকনিক্যালি ঠিক কাজই করেছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, খেলোয়াড়রাও মানুষ, যন্ত্র নয়।

সেরিনাকে নিয়ে বলব, ও সত্যিই মাথা গরম করে ফেলেছিল। গ্যালারি থেকে প্যাটট্রিক ওকে ইঙ্গিতে পরামর্শ দিচ্ছে, এই অভিযোগ শোনার পরে মেজাজ হারিয়ে ফেলে সেরিনা। র‌্যাকেট ভাঙারও কোনও যুক্তি ছিল না। আর চেয়ার আম্পায়ারকে ‘চোর’ বলাটা তো মারাত্মক ভাবে সীমা অতিক্রম করে যাওয়া। সেরিনা একজন চ্যাম্পিয়ন। আর আমরা সবাই ওকেই দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখি। কার্লোস কী প্যাটট্রিককে নয়। নিজের সুনামের প্রতি যত্নবান হওয়া উচিত ছিল সেরিনার। এর আগেও সেরিনা কোর্টে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু শনিবার রাতে যা ঘটেছে, তা আমি আগে কখনও দেখিনি।

প্যাটট্রিক সেই কাজটাই করেছে, যা প্রত্যেক কোচ করে থাকে। আর আমি এটা আমার অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি। টেনিসই হল এমন খেলা, যারা এই পদ্ধতিটাকে অবৈধ করে রেখেছে। যে নিয়মের কোনও যুক্তি নেই। শনিবারের বিতর্কের পরে যদি এই নিয়মটা উঠে যায়, তা হলে টেনিসেরই ভাল হবে।

একজন প্রাক্তন খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে শনিবারের ফাইনালটা আমার কাছে একটা কারণেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে। একজন তরুণ চ্যাম্পিয়নের উত্থান হিসেবে। নেয়োমি ওসাকা কিন্তু এক গ্র্যান্ড স্ল্যামের চমক হিসেবে থেকে যাবে না। অলরাউন্ড টেনিস খেলতে পারে। সেরিনার বিরুদ্ধে প্রথম সেটটাও সহজে জিতে নিয়েছিল। দ্বিতীয় সেটে অত নাটকীয়তার মধ্যেও মাথা ঠান্ডা রেখেছিল। আশা করব, পরিণত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওসাকা আরও উন্নতি করবে।

পুরুষদের ফাইনালে জোকোভিচ বনাম দেল পোত্রোর লড়াইটা আমাকে একটু হতাশ করল। বিশেষ করে দ্বিতীয় সেটে। প্রথম সেটে দেল পোত্রোর দুরন্ত ফোরহ্যান্ড অবিশ্বাস্য ভাবে ফেরাতে দেখলাম জোকোভিচকে। দ্বিতীয় সেটে কিন্তু খুয়ান খেই হারিয়ে ফেলল। নোভাক জিতল ৬-৩, ৭-৬, ৬-৩।

গ্র্যান্ড স্ল্যাম মরসুম শেষ হল নোভাকের আধিপত্য দিয়ে। ও এখন প্রথম তিনে উঠে এসেছে। এই ফর্মটা ধরে রাখতে পারলে বছর শেষে এক নম্বর হয়ে যাবে। ১৪টা গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতে পিট সাম্প্রাসকে ছুঁয়ে ফেলল নোভাক। আরও কয়েকটা জিতলে আমি অবাক হব না। তবে সব চেয়ে ভাল লাগছে একটা ব্যাপার। নোভাক আবার টেনিসটা উপভোগ করছে। (গেমপ্ল্যান)


Anandabazar Patrika Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading Newspaper