অজিঙ্ক রাহানে। —ফাইল চিত্র।
ইডেনে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে খেলতে নামার পরেই খারাপ খবরটা পেল কলকাতা নাইট রাইডার্স। আইপিএলের প্লে-অফের লড়াইয়ে আর থাকল না তারা। থাকল না পঞ্জাব কিংসও। তার আগেই মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে হারিয়ে চতুর্থ দল হিসাবে আইপিএলের প্লে-অফে উঠল রাজস্থান রয়্যালস। এক ম্যাচেই চার দলের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেল। কেকেআর-দিল্লি ম্যাচ নিয়মরক্ষার হয়ে দাঁড়াল। সেই ম্যাচ জিতলে পাঁচ নম্বরে শেষ করা সুযোগ রয়েছে কেকেআরের। হারলে সাত নম্বরে শেষ করবে তারা। তাতে অবশ্য লাভ-ক্ষতি কিছু হবে না।
মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২০৫ রান করে রাজস্থান। রান তাড়া করতে নামলে শুরুতে চাপে পড়লেও সূর্যকুমার যাদব ও হার্দিক পাণ্ড্যের ব্যাটে খেলায় ফেরে মুম্বই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জিততে পারেনি তারা। রাজস্থানের জয়ের নায়ক জফ্রা আর্চার। ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত খেললেন তিনি। তাঁর হাতেই হারতে হল মুম্বইকে। সূর্যেরা অনেক চেষ্টা করেও দলকে জেতাতে পারলেন না। তাঁদের হতাশ মরসুম হার দিয়েই শেষ হল।
ওয়ানখেডে স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই হাত খুলতে শুরু করেন যশস্বী জয়সওয়াল। বেশ কয়েকটি বড় শট মারেন তিনি। কিন্তু উইল জ্যাকসের বলে আউট হন যশস্বী। ১৭ বলে ২৭ রান করেন তিনি। রাজস্থানকে বড় ধাক্কা দেন দীপক চহার। যশস্বী শুরুতে বেশির ভাগ বল খেলায় উল্টো দিকে থাকা বৈভব সূর্যবংশী বেশি স্ট্রাইক পায়নি। ফলে মনঃসংযোগ ভাঙে তার। সুযোগ নেন দীপক। তাঁর বলে ৪ রানের মাথায় ফেরে বৈভব। অধিনায়ক রিয়ান পরাগ আরও একটি ম্যাচে ব্যর্থ। ১৪ রান করে আউট হন তিনি। পাওয়ার প্লে-র মধ্যে ৫৪ রানে ৩ উইকেট হারায় রাজস্থান।
দলের ইনিংস সামলান দাসুন শনকা ও ধ্রুব জুরেল। বেশি আক্রমণাত্মক দেখাচ্ছিল শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারকে। বিশেষ করে মুম্বইয়ের স্পিনার আল্লা গজ়নফরের বলে বেশ কয়েকটি বড় শট খেলেন তিনি। দেখে মনে হচ্ছিল, এই জুটি দলকে বড় রানে নিয়ে যাবে। তখনই নিজের উইকেট ছুড়ে দিয়ে এলেন শনকা। অকারণে রান নিতে গিয়ে ২৯ রানের মাথায় রান আউট হলেন তিনি। জুরেলকে ৩৮ রানের মাথায় বোল্ড করেন কর্বিন বশ। ডোনোভান ফেরেরা ১৮ রানে আউট হন। ১৩৯ রানে রাজস্থানের ৬ উইকেট পড়ে যায়।
দেখে মনে হচ্ছিল, ১৮০ রান করতেও সমস্যায় পড়বে রাজস্থান। ঠিক তখনই ঝোড়ো ইনিংস খেললেন জফ্রা আর্চার। দলকে লড়াইয়ে রাখলেন তিনি। ১৫ বলে ৩২ রানের ইনিংস খেললেন আর্চার। শেষ দিকে রবীন্দ্র জাডেজা ১১ বলে ১৯ ও নান্দ্রে বার্গার ৩ বলে ১০ রান করেন। তাঁদের ব্যাটে ২০০ রান পার হয় রাজস্থানের।
২০৬ রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা খুব খারাপ হয় মুম্বইয়ের। প্রথম ওভারেই আর্চারের বলে শূন্য রানে আউট হন রোহিত শর্মা। আরও একটি খারাপ মরসুম গেল তাঁর। রান পাননি রায়ান রিকেলটন ও নমন ধীরও। বার্গারের বলে ১২ রান করে আউট হন রিকেলটন। ৬ রান করে আর্চারের বলে বোল্ড হন নমন। ব্যাট হাতে ঝোড়ো ইনিংসের পর বল হাতেও মুম্বইয়ের টপ অর্ডার ভেঙে দেন আর্চার। রান পাননি তিলক বর্মা। ৩ রানের মাথায় ব্রিজেশ শর্মার বলে আউট হন তিনি। পাওয়ার প্লে-র মধ্যে ৩৮ রানে ৪ উইকেট পড়ে মুম্বইয়ের। দেখে মনে হচ্ছিল, বড় ব্যবধানে হারবে মুম্বই।
সেখান থেকে ইনিংস ধরেন সূর্যকুমার যাদব ও উইল জ্যাকস। সূর্য চলতি আইপিএলে রান পাননি। কিন্তু একেবারে শেষ ম্যাচে চলল তাঁর ব্যাট। যদিও তাতে কিছুটা সুবিধা করে দিলেন রাজস্থানের ফিল্ডারেরা। সূর্যের ক্যাচ পড়ে। সুযোগ কাজে লাগান সূর্য। ৩২ বলে অর্ধশতরান করেন তিনি। ১০ ইনিংস পর আইপিএলে অর্ধশতরান করলেন সূর্য।
জ্যাকসও ভাল খেলছিলেন। কিন্তু ১৮ বলে ৩৩ রান করে যশরাজ পুঞ্জার বলে আউট হন তিনি। ৬৩ রানের জুটি ভাঙে। হার্দিক পাণ্ড্য নেমে প্রথম বলেই ক্যাচ তোলেন। সেই ক্যাচও পড়ে। পরের কয়েকটি বলে একের পর এক বড় শট মারেন হার্দিক। প্রথম ৯ বলে ৩০ রান করেন তিনি। মুম্বইয়ের রান তোলার গতি অনেকটাই বেড়ে যায়। হার্দিককে দেখে মনে হচ্ছিল, উপভোগ করছেন তিনি। চাপ ছাড়া খেলছেন।
মুম্বইয়ের জিততে শেষ ৩০ বলে দরকার ছিল ৫৯ রান। আইপিএলে এই রান তাড়া হতে বহু বার দেখা গিয়েছে। ক্রিজ়ে হার্দিক ও সূর্য ছিলেন। বাধ্য হয়ে সেরা অস্ত্র আর্চারকে বল দেন পরাগ। শেষ ওভারে হার্দিককে আউট করে মুম্বইকে বড় ধাক্কা দেন আর্চার। ১৫ বলে ৩৪ রান করেন হার্দিক। ব্যাট হাতে ১৫ বলে ৩২ রান করার পাশাপাশি চার ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিলেন তিনি। ফিল্ডিংয়েও নজর কাড়লেন আর্চার। তাঁর কাছেই হারল মুম্বই।
মুম্বইয়ের শেষ ভরসা ছিলেন সূর্য। বার্গারের বলে ৬০ রান করে তিনি ফিরতেই আশা শেষ হয়ে যায় পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়নদের। মুখে হাসি ফোটে রাজস্থানের সমর্থকদের। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১৭৫ রানে শেষ হয়ে যায় মুম্বইয়ের ইনিংস। ৩০ রানে জিতে প্লে-অফে ওঠে রাজস্থান।