অজিঙ্ক রাহানে। —ফাইল চিত্র।
হার দিয়ে শুরু। হার দিয়ে শেষ। মাঝে একটা সময় প্লে-অফে ওঠার আশা জাগিয়েছিলেন অজিঙ্ক রাহানেরা। কিন্তু যে দলে ম্যাচ উইনারের এত অভাব সেই দলের কাছে সাফল্য আশা করা বোকামো। যোগ্য দল হিসাবেই আইপিএল থেকে বিদায় নিল কেকেআর। মরসুমের শেষ ম্যাচে অর্ধশতরান করলেন রাহানে। তা কাজে এল না। দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে ৪০ রানে হেরে পয়েন্ট তালিকায় সাত নম্বরে শেষ করল কেকেআর।
দিল্লির বিরুদ্ধে ২০৪ রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা খারাপ করেনি কেকেআর। ফিন অ্যালেন ও রাহানে শুরু থেকে হাত খোলেন। এই মরসুমে দিল্লির বিরুদ্ধে অ্যালেন একটি শতরান করলেও এই ম্যাচে বড় রান করতে পারলেন না। ২০ রান করে লুঙ্গি এনগিডির বলে আউট হলেন।
রাহানের ও তিন নম্বরে নামা মণীশ পাণ্ডে জুটি বাঁধেন। ভাল খেলছিলেন তাঁরা। ওভার প্রতি ১০ রানের বেশি উঠছিল। দেখে মনে হচ্ছিল, কেকেআর অন্তত এই ম্যাচ জিতে সম্মানের সঙ্গে শেষ করবে। কিন্তু ১৬ বলে ২৫ রান করে অযথা বড় শট মারতে গিয়ে ফিরলেন মণীশ। রান পাননি ক্যামেরন গ্রিন। কুলদীপ যাদবের বলে ২ রানে আউট হলেন তিনি। দুঃস্বপ্নের মরসুম শেষ হল কেকেআরের ২৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকার ক্রিকেটারেরা।
রাহানের সঙ্গে জুটি বাঁধেন রভম্যান পাওয়েল। ৩১ বলে অর্ধশতরান করেন রাহানে। মরসুমের প্রথম ম্যাচে অর্ধশতরান করেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় অর্ধশতরান এল শেষ ম্যাচে। যদিও তখনও নাটক বাকি ছিল। কুলদীপের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে আউট হলেন রাহানে। ৩৯ বলে ৬৩ রান করলেন তিনি। ফর্মে থাকা রিঙ্কু সিংহ পরের বলেই আউট হলেন। হ্যাটট্রিকের সুযোগ ছিল কুলদীপের। তেজস্বী দাহিয়ার সহজ ক্যাচ ছাড়েন অভিষেক পোড়েল। নইলে হ্যাটট্রিক হত কুলদীপের। যদিও পরের ওভারেই অক্ষর পটেলের বলে আউট হন তেজস্বী। সাত বলে তিন উইকেট পড়ে কেকেআরের। সেখানেই খেলার ফয়সালা হয়ে যায়।
পাওয়েল ছিলেন বটে, কিন্তু তাঁর পক্ষেও এই রান তাড়া করা সহজ ছিল না। তিনি চেষ্টা করেন। কিন্তু ২৯ রান করে রান আউট হন পাওয়েল। কেকেআরের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দেয় সমীর রিজ়ভির থ্রো। পুরো ২০ ওভার খেলতে পারেনি কেকেআর। শেষ পর্যন্ত ১৮.৪ ওভারে ১৬৩ রানে শেষ হয়ে যায় কেকেআরের ইনিংস। ৪০ রানে হারে তারা।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২০৩ রান করে দিল্লি। ভাল খেলেন লোকেশ রাহুল। দিল্লি প্লে-অফে উঠতে না পারলেও ভাল মরসুম গেল রাহুলের। ওপেনার পোড়েল ২২ রানে ফিরলেও রাহুল দ্রুত গতিতে রান তুলতে থাকেন। তাঁকে সঙ্গ দেন সাহিল পরখ (২৪), অক্ষরেরা (২৯)। রাহুল ৩০ বলে ৬০ রান করেন। শেষ দিকে ডেভিড মিলার ১৯ বলে ২৮ ও আশুতোষ সর্মা ১১ বলে ১৮ রান করেন। রাহুল ছাড়া আর কেউ বড় রান করতে না পারলেও প্রত্যেকে কিছু কিছু রান করায় ২০০ পার হয় দিল্লির।
কেকেআরের বোলারদের মধ্যে নজর কাড়েন সৌরভ দুবে। ২৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন তিনি। দুই স্পিনার সুনীল নারাইন ও বরুণ চক্রবর্তী খুব একটা ভাল বল করতে পারেননি। হতাশ করলেন কার্তিক ত্যাগী। চার ওভারে ৫৫ রান দিলেন তিনি। হতাশ করল কেকেআর। হার দিয়েই মরসুম শেষ হল তাদের।