অজিঙ্ক রাহানে। —ফাইল চিত্র।
দু’টি ম্যাচের ফলাফল অন্য রকম হলেই হয়তো আইপিএলের প্লে-অফে দেখা যেত কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলার আগেই আইপিএলের প্লে-অফের দৌড় থেকে বেরিয়ে গিয়েছে কেকেআর। অজিঙ্ক রাহানেদের বিদায়ের নেপথ্যে রয়েছে দু’টি ম্যাচ।
মরসুমের শুরুতে পর পর দু’টি ম্যাচ হেরেছিল কেকেআর। তৃতীয় ম্যাচে পঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে খেলা ছিল। ইডেনে সেই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন রাহানে। ৩.৪ ওভারে কেকেআরের রান ছিল ২ উইকেটে ২৫। ঠিক তখনই বৃষ্টি শুরু হয়। আর থামেনি। অনেক ক্ষণ অপেক্ষা করার পর আম্পায়ারের খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। দু’দল ১ পয়েন্ট করে পায়।
সেই সময় পঞ্জাব যে ফর্মে ছিল, তাতে হয়তো পুরো খেলা হলে হারতে পারত কেকেআর। কিন্তু সে সব যদির কথা। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ফলাফল যে কোনও দলের পক্ষে যেতে পারত। পরে অধিনায়ক রাহানে সেই কথাই বলেন। কেকেআর যদি সেই ম্যাচ জিততে তা হলে ২ পয়েন্ট পেত। কিন্তু খেলা না হওয়ায় ১ পয়েন্ট হারায় তারা। সেটাই অবশ্য চলতি আইপিএলে কেকেআরের প্রথম পয়েন্ট।
পঞ্জাবের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগ হওয়ার পরের ম্যাচেই ইডেনে লখনউয়ের মুখোমুখি হয় কেকেআর। প্রথমে ব্যাট করে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৮১ রান করে কেকেআর। রান তাড়া করতে নেমে সমস্যায় পড়ে লখনউ। ১৬ ওভারে ১২৮ রানে ৭ উইকেট পড়ে যায় তাদের। জিততে তখন দরকার ছিল ২৪ বলে ৫২ রান। আর কোনও বিশেষজ্ঞ ব্যাটার ছিলেন না ক্রিজ়ে। সকলেই ভেবেছিলেন, মরসুমে প্রথম জয় পাবে কেকেআর।
সেখান থেকে সকলকে চমকে দেন অনামী মুকুল চৌধরি। আইপিএলে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন তিনি। ২৭ বলে অপরাজিত ৫৪ রানের ইনিংস খেলেন মুকুল। দু’টি চার ও সাতটি ছক্কা মারেন। কেকেআরের জেতা ম্যাচ ছিনিয়ে নিয়ে যান তিনি। বড়় ধাক্কা খায় কেকেআর। সেই ম্যাচ থেকে ২ পয়েন্ট পাওয়া নিশ্চিত ছিল। কিন্তু অনামী মুকুলের দাপটে ২ পয়েন্ট হাতছাড়া হয় রাহানেদের।
সঞ্জীব গোয়েন্কার লখনউয়ের কাছে সেই হার হাত কামড়াতে বাধ্য করবে রাহানেদের। যদি সেই দুই ম্যাচ থেকে কেকেআর ৩ পয়েন্ট পেত, তা হলে দিল্লির বিরুদ্ধে নামার আগেই তাদের ১৬ পয়েন্ট হত। সে ক্ষেত্রে রাজস্থান ও পঞ্জাব তাদের টপকাতে পারত না। দিল্লিকে হারালেই প্লে-অফে উঠত কেকেআর। অন্যদের দিকে তাকাতে হত না রাহানেদের। কিন্তু সেই দুই ম্যাচে পয়েন্ট নষ্ট করার খেসারত দিতে হল কেকেআরকে। আরও একটি মরসুমে হতাশ হলেন কেকেআর সমর্থকেরা।