গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে উত্তেজনা শুরু হয়ে গিয়েছে। এ বার সবচেয়ে বড়, ৪৮টি দেশের বিশ্বকাপ হচ্ছে। ফলে অনেক বেশি দেশের ফুটবলার বিশ্বকাপে খেলতে পারছেন। বিশ্বকাপে খেলতে চলা দেশগুলির মধ্যে কাদের গড় বয়স সবচেয়ে বেশি, কাদের সবচেয়ে কম, কোন দেশের লিগের কত জন ফুটবলার বিশ্বকাপে খেলছেন তা নিয়ে থাকল আনন্দবাজার ডট কম-এর হালহকিকত।
ম্যাঞ্চেস্টার সিটি এ বার প্রিমিয়ার লিগ জেতেনি ঠিকই। তবে সেই দলের ১৯ জন ফুটবলার ১২টি দেশের হয়ে বিশ্বকাপে খেলতে চলেছেন। জার্মানি, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স এবং স্পেনের লিগের চ্যাম্পিয়ন দলগুলির প্রতিনিধিত্ব রয়েছে এর পরেই। যেমন আর্সেনালের ১৬ জন ফুটবলার প্রতিনিধিত্ব করবেন ১০টি দেশের। সিরি এ চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলানের সাত জন ফুটবলার খেলবেন বিশ্বকাপে। তবে ইটালি বিশ্বকাপে না থাকায় তাদের প্রতিনিধিত্বের সংখ্যা অনেকটাই কম। সিটির ১৯ জন বাদে, বায়ার্ন মিউনিখের ১৮, আর্সেনালের ১৬, প্যারিস সঁ জরমেঁর ১৫ এবং বার্সেলোনার ১৪ জন ফুটবলার খেলবেন বিশ্বকাপে।
প্রিমিয়ার লিগে ২০টি ক্লাব খেলে। তবে ১২ জন ফুটবলার এমন একটি ক্লাবের হয়ে খেলেন, যারা শেষ করেছে ১৫তম স্থানে। তারা ক্রিস্টাল প্যালেস। তাদের থেকে বেশি ফুটবলার রয়েছে শুধু আর্সেনাল, ম্যাঞ্চেস্টার সিটি এবং ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের। চেলসি এবং লিভারপুলের (১১) সমান প্রতিনিধিত্ব থাকছে অখ্যাত ক্লাব সান্ডারল্যান্ডের। সবচেয়ে কম লিডসের (৪)।
ইউরোপের পাঁচটি সেরা লিগ হল ফ্রান্সের লিগ ওয়ান, ইটালির সিরি এ, ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লিগ, স্পেনের লা লিগা এবং জার্মানির বুন্দেশলিগা। এর মধ্যে একমাত্র স্পেন দলের সব ফুটবলার এই পাঁচটি লিগের কোনও না কোনওটিতে খেলেন। ইংল্যান্ড যেমন সৌদি আরবের আল আহলিতে খেলা ইভান টনিকে দলে রেখেছে। জার্মানি রেখেছে তুরস্কের গালাতাসারে-তে খেলা লেরয় সানেকে। ফ্রান্স রেখেছে আল হিলালের থিয়ো হের্নান্দেজ় এবং ফেনেরবাচের এনগোলো কান্তেকে।
সুইৎজ়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস এবং বেলজিয়ামের বেশির ভাগ ফুটবলার খেলেন ইউরোপের প্রথম সারির লিগে। ইউরোপের বাইরে একমাত্র আর্জেন্টিনা এবং সেনেগালের ফুটবলারেরা খেলেন ইউরোপের প্রথম সারির লিগে। কুরাসাও, ইরান, ইরাক এবং কাতারের দলের কেউ ইউরোপের প্রথম পাঁচটি লিগে খেলেন না। ইরাকের ফরোয়ার্ড আলি জাসিম যদিও আদতে ইটালির কোমো ক্লাবের ফুটবলার। কিন্তু তিনি লোনে বেশির ভাগ সময়ই কাটিয়েছেন সৌদি আরবের আল-নাজমাতে। ব্রাজ়িলের এমন অনেক ফুটবলার রয়েছেন যাঁরা ইউরোপের সেরা পাঁচটি লিগের কোনওটিতে খেলেন না।
গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ পানামা। তারা সবচেয়ে বেশি বয়সের দল নিয়ে বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে। ইরান এবং কলম্বিয়ার গড় বয়সও ৩০-এর বেশি। ব্রাজ়িলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তিও ভরসা রেখেছেন অভিজ্ঞ নেমার, দানিলো, কাসেমিরোর (সকলের ৩৪ বছর) উপরে। পানামার গড় বয়স ৩০ বছর ১৫৫ দিন। এর পর রয়েছে ইরান (৩০ বছর ১২১ দিন) এবং কলম্বিয়া (৩০ বছর ৩২ দিন)। ব্রাজ়িলের গড় বয়স ২৯ বছর ৭৪ দিন।
স্কটল্যান্ডের গোলের নীচে দাঁড়াবেন ক্রেগ গর্ডন, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার সময় যাঁর বয়স হবে ৪৩ বছর ১৬২ দিন। এর পরেই রয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, যাঁর বয়স হবে ৪১ বছর ১২৬ দিন। মেক্সিকোর গিলেরমো ওচোয়া (৪০ বছর ৩৩৩ দিন) এবং ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদ্রিচও (৪০ বছ ২৭৫ দিন) পিছিয়ে থাকবেন না।
আইভরি কোস্ট (২৫ বছর ৩১০ দিন) খেলতে নামবে সবচেয়ে কম বয়সি দল নিয়ে। তাঁদের দুই তারকা ফুটবলার ইয়ান দিয়োমান্দে (১৯) এবং বাজ়ুমানা তুরে (২০) তরুণ প্রতিভা। মরক্কো (২৬ বছর ১৪৪ দিন) এবং স্পেনেরও (২৬ বছর ২৭৩ দিন) তরুণ দল বিশ্বকাপে খেলবে। তালিকায় চমক বসনিয়া (২৬ বছর ১৫৪ দিন)।
মেক্সিকোয় যেমন ৪০ বছরের ওচোয়ো খেলছেন, তেমনই সবচেয়ে কমবয়সি ফুটবলারও সেই দেশেরই। ১৭ বছর ২৪০ দিন বয়সে খেলবেন গিলবার্তো মোরা। এ ছাড়া চেকিয়ার হুগো সোচুরেক রয়েছেন। জার্মানিক লেনার্ত কার্ল, সেনেগালের ইব্রাহিম এমবায়ে সবে ১৮ পেরিয়েছেন।