বিশেষ প্রতিবাদী ব্যাজ পরে মেক্সিকোয় পৌঁছোল ইরানের ফুটবল দল। ছবি: এক্স।
বিশ্বকাপ খেলতে পৌঁছেই ইরানের ফুটবলারেরা বিশ্বকে মনে করিয়ে দিলেন গত ২৮ ফেব্রুয়ারির ক্ষত এখনও শুকোয়নি। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ সামরিক হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মঞ্চ হিসাবে তাঁরা বেছে নিলেন বিশ্বকাপকে। হ্যাশট্যাগ ১৬৮ লেখা ব্যাজ পড়ে মেক্সিকোয় গিয়েছেন তাঁরা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যৌথ ভাবে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল। পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। পশ্চিম এশিয়ার দেশটির অভিযোগ, অসামরিক এলাকাতেও হামলা চালানো হচ্ছে। বাদ যাচ্ছে না স্কুল, হাসপাতালও। সংঘাত শুরুর দিনই দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালানো হয়। তাতে শিক্ষক এবং পড়ুয়া-সহ ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়। পড়ুয়ার সংখ্যা ছিল ১৬৮। ইরানের ফুটবলারেরা বিশ্বকাপ খেলতে এসে আমেরিকার অমানবিকতাকে মনে করিয়ে দিলেন।
এর আগে মৃত স্কুল পড়ুয়াদের সম্মান জানাতে ইরানের জাতীয় দলের ফুটবলারেরা নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে একটি প্রীতি ম্যাচে জাতীয় সঙ্গীতের সময় স্কুল ব্যাগ হাতে নিয়ে দাঁড়ান। ম্যাচও খেলেন কালো বাহুবন্ধনী পরে।এ বার হ্যাশট্যাগ ১৬৮ লেখা ব্যাজ পড়লেন তাঁরা। তুরস্ক থেকে ইরানের ফুটবলারেরা বিমানে ওঠার সময়, তাঁদের জ্যাকেটে কোনও ব্যাজ ছিল না। পরে বিমানের মধ্যে তোলা একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে ফুটবলারদের ঘন নীল জ্যাকেটের উপর হ্যাশট্যাগ ১৬৮ লেখা ব্যাজ। মেক্সিকোর বিমানবন্দরে নামার সময়ও ফুটবলারদের জ্যাকেটে ব্যাজটি আটকানো ছিল। সেই ছবি ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলার সময় এই ব্যাজ ব্যবহার করতে পারবে না ইরান দল। ফিফার নিয়মে পরিষ্কার বলা রয়েছে, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, ব্যক্তিগত কোনও স্লোগান, বক্তব্য বা ছবি ব্যবহার করা যাবে না। নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট দল বা খেলোয়াড়কে শাস্তির মুখে পড়তে হবে। দলের সঙ্গে যুক্ত কেউ এমন কিছু ব্যবহার করতে পারে না।
কোস্টারিকার বিরুদ্ধে একটি ম্যাচে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সামনেই আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন ইরানের ফুটবলারেরা। সেই ঘটনার পর ফিফা বিবৃতি দিয়ে জানায়, নিয়ম অনুযায়ী শাস্তি হবে ইরানের। তবে বিমানের ঘটনাটি ফিফার এক্তিয়ারের বাইরে।