ওমর আব্দুলকাদির আরতান। ছবি: এক্স।
বিশ্বকাপ খেলতে আমেরিকায় পৌঁছেই দীর্ঘ জেরার মুখে পড়তে হয়েছে ইরাকের স্ট্রাইকার আয়মেন হুসেনকে। ১০ ঘণ্টার বেশি জেরা করা হয়েছে ইরাকের বিশ্বকাপ দলের চিত্রগ্রাহককে তালাল শাহকে। তাঁদের শেষ পর্যন্ত দেশে ঢুকতে দেওয়া হলেও এক রেফারিকে বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
আফ্রিকার অন্যতম সেরা রেফারি ওমর আব্দুলকাদির আরতানকে আমেরিকায় ঢুকতেই দেওয়া হল না! তাঁর অপরাধ তিনি সোমালিয়ার নাগরিক। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কালো তালিকায় রয়েছে সোমালিয়া। সে দেশের নাগরিকদের জন্য দেশের দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর সেই নীতির আঁচ সরাসরি পড়ল বিশ্বকাপে। বিশ্বকাপে আর রেফারিং করা হবে না সোমালিয়ার আরতানের।
বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনার জন্য ফিফা যে ৫২ জন রেফারির তালিকা তৈরি করেছিল, সেই তালিকায় ছিল আরতানের নামও। সোমালিয়ার প্রথম রেফারি হিসাবে বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি। ২০২৫ সালে আফ্রিকার সেরা রেফারির পুরস্কার পান। বিশ্বের অন্যতম সেরা রেফারি হিসাবে পরিচিত তিনি।
সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আরতানের কাছে আমেরিকার বৈধ ভিসা এবং সোমালিয়ার কূটনৈতিক পাসপোর্ট ছিল। তা-ও তাঁকে মায়ামি বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তিনি ইস্তানবুল চলে গিয়েছেন। স্বাভাবিক ভাবেই বিশ্বকাপ শুরুর আগেই এই ঘটনায় তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ঘটনায় ক্ষুব্ধ সোমালিয়ার প্রাক্তন ফুটবল অধিনায়ক সিসে আদেন আবশির বলেছেন, ‘‘ওমর আরতান আফ্রিকার সবচেয়ে সম্মানীয় রেফারি। গোটা ফুটবল বিশ্বের উচিত ওঁর পাশে দাঁড়ানো। আমেরিকায় ঢুকতে বাধা দেওয়া এবং বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ কেড়ে নেওয়া শুধু তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়। এটা ফুটবলের ন্যায্যতা, যোগ্যতা এবং ফেয়ার প্লের প্রতি অঙ্গীকারকেও ক্ষুণ্ণ করে।’’ উল্লেখ্য, আরতান সোমালিয়ার যুব এবং ক্রীড়া মন্ত্রকের অন্যতম প্রধান পরামর্শদাতাও।
এর আগে ইরানের ফুটবলার, কোচদের ভিসা দিতেও দীর্ঘ টালবাহানা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরান-সহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশের সাংবাদিক এবং ফুটবলপ্রেমীদের দেশে ঢোকার অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। অনেককে এক বার প্রবেশের ভিসা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ তাঁরা কানাডা বা মেক্সিকোয় খেলা দেখতে বা পেশাগত প্রয়োজনে গেলে আর আমেরিকায় ঢুকতে পারবেন না।