নিশেষ বাসবরেড্ডি। ছবি: রয়টার্স।
ফরাসি ওপেনে তিনি খেলছেন আমেরিকার হয়ে। কিন্তু আদতে তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত। টেনিসে যদিও খুব একটা পরিচিত নন নিশেষ বাসবরেড্ডি। তাঁর র্যাঙ্কিং ১৫৪। ফরাসি ওপেনে ওয়াইল্ড কার্ড হিসাবে সুযোগ পেয়েছেন। সেই বাসবরেড্ডির কাছেই হার মানতে হল সপ্তম বাছাই টেলর ফ্রিৎজ়কে। ফরাসি ওপেনের প্রথম রাউন্ডে চার সেটের লড়াই (৭-৬, ৭-৬, ৬-৭, ৬-১) জিতলেন বাসবরেড্ডি।
বাসবরেড্ডিরা আদতে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোরের বাসিন্দা। ১৯৯৯ সালে তাঁর বাবা মুরলীকৃষ্ণ বাসবরেড্ডি ও মা সাইপ্রসন্ন বাসবরেড্ডি আমেরিকায় চলে যান। সেখানেই জন্ম নিশেষের। তাঁর দাদা নিশান্তও টেনিস খেলোয়াড়। তাঁর বাবা আমেরিকায় একটি গাড়ি সংস্থায় চাকরি করেন। ছোটবেলা থেকেই টেনিস খেলা শুরু বাসবরেড্ডির। পড়াশোনা করেছেন কারমেল হাইস্কুলে। তাঁর আদর্শ নোভাক জোকোভিচ ও রাজীব রাম।
ফ্রিৎজ়ের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই টক্কর দেওয়া শুরু করেন বাসবরেড্ডি। তাঁর পাওয়ার গেম দেখে হতবাক হয়ে যান ফ্রিৎজ। দু’জনেই একে অপরের সার্ভিস ভাঙার সুযোগ পেয়েছিলেন। গোটা ম্যাচে ফ্রিৎজ়ের সার্ভিস তিন বার ভেঙেছেন বাসবরেড্ডি। তাঁর সার্ভিস এক বার ভেঙেছেন ফ্রিৎজ়।
হাড্ডাহাড্ডি টক্কর চলছিল। প্রথম তিনটি সেটই টাইব্রেকারে যায়। সেখানে স্নায়ুর চাপ ধরে রাখেন বাসবরেড্ডি। প্রথম দু’টি সেট জিতে নেন তিনি। তৃতীয় সেটে টাইব্রেকার জিততে পারলে স্ট্রেট সেটে জিততেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত। কিন্তু সেই সেটে ফেরেন ফ্রিৎজ়। জেতেন তিনি।
চতর্থ সেটে ফ্রিৎজ়কে দাঁড়াতে দেননি বাসবরেড্ডি। পর পর পাঁচটি গেম জেতেন তিনি। ষষ্ঠ গেম ফ্রিৎজ় জিতলেও তত ক্ষণে আর ফেরার সুযোগ ছিল না তাঁর। অবশেষে নিজের চতুর্থ ম্যাচ পয়েন্ট কাজে লাগিয়ে জিতে যান বাসবরেড্ডি। খেলা জিতে তিনি জানিয়েছেন, এ ভাবে ফ্রিৎজ়কে হারাবেন তা তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না। তবে নিজের খেলার উপর তাঁর ভরসা ছিল। আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে পরের রাউন্ডে উঠেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত।