আমডাঙা-কাণ্ডে নিহত আরও এক

প্রতীকী ছবি।

মাথায় গভীর ক্ষত, গায়ে ধারালো অস্ত্রের কোপ নিয়ে রাতভর পড়েছিলেন ঝোপের মধ্যে। পর দিন সকালে উদ্ধার করা হয় সাত্তার আলি মণ্ডলকে (৫১)। বারাসত হাসপাতাল থেকে পাঠানো হয় আরজিকরে। রবিবার রাতে সেখানেই মারা গিয়েছেন আমডাঙার বইচগাছির বাসিন্দা সাত্তার।

এই বইচগাছিতেই বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে গত ২৮ অগস্ট সিপিএম-তৃণমূলের মধ্যে বোমাবাজি, গুলির লড়াই বেধেছিল। এলাকায় পুলিশকে ঢুকতে না দিয়ে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ঘণ্টা তিনেক ধরে আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ চলে। হাজার হাজার বোমা ফাটে বলে অভিযোগ। গুলিও চলে প্রচুর। মারা যান তৃণমূলের ২ জন এবং সিপিএমের এক কর্মী। নিহত সাত্তারকে তাদের দলের বলেই দাবি করেছে তৃণমূল। এই নিয়ে আমডাঙার ঘটনায় মারা গেলেন ৪ জন।

সাত্তারের মৃত্যুতে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে গ্রামে। জনা দশেক সিপিএম কর্মীর বাড়িতে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গোলমালের পর থেকে পুলিশ পিকেট ছিল। পর পর কয়েক দিন ধরপাকড়, বোমা উদ্ধার হয়। গন্ডগোলের আশঙ্কায় রবিবারের পর থেকে আরও পুলিশ, র‌্যাফ মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবারও এলাকা থেকে বেশ কিছু বোমা উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ দিন বিকেলে সাত্তারের দেহ নিয়ে বইচগাছি যান খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। দলের কর্মী-সমর্থকেরা তাঁকে জানান, রাজমিস্ত্রি ছিলেন সাত্তার। ঘটনার দিন কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন। গোলমালের মাঝে পড়ে যান। সিপিএম কর্মী-সমর্থকেরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কোপায়। সাত্তারের স্ত্রী অহিদা বলেন, ‘‘উনি গোলমালে ছিলেন না। তবু প্রাণ গেল।’’ জ্যোতিপ্রিয় বলেন, ‘‘সাত্তারের মৃত্যুর পরে বোঝা যাচ্ছে, সিপিএম আমডাঙায় পরিকল্পিত ভাবে হত্যালীলা চালিয়েছে। এখনও এলাকায় বোমা উদ্ধার হচ্ছে।’’ অভিযোগ অস্বীকার করে সিপিএমের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক মৃণাল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘খুনোখুনির রাজনীতিতে সিপিএম বিশ্বাস করে না।’’

বইচগাছি যে পঞ্চায়েতের অধীন, সেই তারাবেড়িয়ায় ১৭ সেপ্টেম্বর বোর্ড গঠন হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। আরও যে দু’টি পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন স্থগিত ছিল, সেই বোদাই ও মরিচাতেও পর পর বোর্ড গঠন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।