ফাদার হুয়ার্টের প্রয়াণ


প্রায় তিন দশক জুড়ে কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের পড়ুয়াদের কাছে ওই প্রতিষ্ঠান এবং তিনি ছিলেন প্রায় সমার্থক। সেই ছাত্রদরদি শিক্ষক ফাদার অ্যালবার্ট হুয়ার্টের জীবনাবসান হল বুধবার, শিক্ষক দিবসে। বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। সেন্ট জেভিয়ার্সের কলা ও বিজ্ঞান বিভাগের ভাইস প্রিন্সিপালের পদে ২৫ বছর ছিলেন তিনি। অবসরের পরে স্বদেশ বেলজিয়ামে ফিরে যান। শেষ শ্বাস ফেললেন সেখানেই।

সেন্ট জেভিয়ার্সের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে ফাদার হুয়ার্টের নাম। তাঁর ছাত্রবাৎসল্য প্রায় প্রবাদ হয়ে গিয়েছে। পুরনো ছাত্রদেরও নাম ধরে ধরে চিনতে পারতেন তিনি। এক দিকে শৃঙ্খলায় কঠোর, অন্য দিকে ছাত্রস্নেহে কোমল। ফাদার হুয়ার্টের এই ভাবমূর্তি তাঁকে দিয়েছিল অনন্য বিশিষ্টতা। ছাত্র-রাজনীতির উত্তাল সময়েও সেন্ট জেভিয়ার্সে কোনও বিশৃঙ্খলা ঘটতে দেননি তিনি। এক বার ধর্মঘটের ডাক দিয়ে বহিরাগত কিছু ছাত্র কলেজের গেটে ভিড় করলে ফাদার হুয়ার্ট তাঁদের চলে যেতে বলেন। উত্তেজিত আন্দোলনকারীরা হুমকি দিলে তিনি অকুতোভয়ে বলেছিলেন, ‘‘আমাকে মারলেও আমি এখানে তোমাদের ঢুকতে দেবো না। আমাকে মেরে ফেললে আমার জায়গায় যিনি আসবেন তিনিও একই কাজ করবেন।’’ তাঁর সাহসের কাছে হার মেনেছিল সেই আন্দোলন।

কলেজের পড়ুয়াদের লেখাপড়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যক্তিগত বিষয়ে খোঁজখবর নিতেন ফাদার হুয়ার্ট। কারও কোনও অসুবিধা হলে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতেন। শিক্ষক দিবসে তাঁর প্রয়াণ  এক অপূর্ব সমাপতন হয়ে রইল।