Anandabazar Patrika Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading Newspaper

না নাটক, না ছবি


দু’টি দৃশ্যের মাঝের অন্ধকার বোঝাতেই ‘দৃশ্যান্তর’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন পরিচালক। সে অর্থে ছবির নাম সার্থক। কারণ পুরো ছবিতে, বিশেষত প্রথমার্ধে এই দৃশ্যান্তরই ছবির রিলিফ। বরং প্রতিটা দৃশ্য ধৈর্য ধরে দেখাই কষ্টকর। আসল ছবি শুরুই হয় বিরতির পর। প্রথমার্ধের অতি-নাটকীয়তায় নাভিঃশ্বাস উঠে গেলে শুরু হয় মূল গল্প। 

এ বার একটু প্লট বোঝার চেষ্টা করা যাক। কারণ আসলে কী গল্প পরিচালক দেখাতে চেয়েছেন, তাই নিয়ে মনে হয় তিনি নিজেও সংশয়ে। ছবির অন্যতম মুখ্য চরিত্র অসিতরঞ্জন (দেবশঙ্কর) তার নতুন নাটকে জনপ্রিয় তারকা রূপসাকে (শ্রাবন্তী) কাস্ট করতে চায়। রূপসাও রাজি হয়ে যায়। শুরু হয় নাটকের মহ়ড়া। রূপসাকে নিয়ে নাটকের দলে শুরু হয় অন্তর্দ্বন্দ্ব। রূপসার স্বামী অর্ঘ্য (ভিকি) থাকে দুবাইতে। একা নায়িকা মানসিক অবসাদে ভুগতে থাকে। সাময়িক অন্ধত্বের শিকার হয়ে পড়ে। এর মধ্যে হঠাৎ খুন হয় রূপসার বাড়ির উপরের ফ্ল্যাটে। গোয়েন্দা চরিত্রে ইন্দ্রাণী হালদার সেই খুনের তদন্ত শুরু করেন। তবে এই খুন ও তদন্তের অংশটুকুই ছবির মূল বিষয় হতে পারত। নাটককে মাঝে রাখলেও তা জাস্টিফাই করা হয়নি পুরো ছবিতে।

গল্প যা-ই হোক না কেন, পুরো ছবিতে শ্রাবন্তী মন দিয়ে অভিনয় করেছেন। দেখতেও বেশ লেগেছে। ভিকি দেবকেও মিষ্টিই দেখায়, কিন্তু ওই পর্যন্তই। বাকি মনে রাখার মতো দেবশঙ্কর হালদার ও ইন্দ্রাণী হালদার। এ ছাড়া ছবির অন্যান্য চরিত্রাভিনেতাদের অভিনয়ের চেষ্টা বেশ হাস্যকর। ছবির মাঝে জোর করে গোঁজা গানের দৃশ্যের শুটিং উত্তরবঙ্গে। ছবির সিনেম্যাটোগ্রাফার দীপ্যমান ভট্টাচার্যের কাজ ভাল লাগল। তবে গান তেমন মনে রাখার মতো কিছু নয়। গোটা ছবিতে এডিটিংয়ের অভাব। অহেতুক ছবি দীর্ঘ না করে, কিছু অংশ কেটে দিলে মন্দ হতো না। ছবির গল্প নাটকের মোড়কে শুরু হলেও মাঝপথে তা কমার্শিয়াল রোম্যান্টিক মুভি, শেষদিকে তা থ্রিলার। একই ছবিতে এত কিছু করতে যাওয়ার চেষ্টা করাটাই বাতুলতা। তার চেয়ে  শুধু থ্রিলার হলে তা-ও কিছু সম্ভাবনা থাকতে পারত।

দৃশ্যান্তর
পরিচালনা: রানা বন্দ্যোপাধ্যায়
অভিনয়: শ্রাবন্তী, দেবশঙ্কর, ভিকি, ইন্দ্রাণী প্রমুখ
৪/১০

 

Anandabazar Patrika Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading Newspaper