‘জীবন নিয়ে এখন অনেক বাস্তববাদী’

রাহুল।ছবি: অর্পিতা প্রামাণিক

প্র: মুসৌরি সফর কেমন ছিল?

উ: ইন্টারেস্টিং। রাস্কিন বন্ডের ভক্ত হওয়ায় ওই দিকটা সম্পর্কে এক প্রকার ইলিউশন ছিল। তবে টুরিস্টরা তো যে কোনও জায়গারই অনেকটা নষ্ট করে দেয়। সেটা দেখে দুঃখ হচ্ছিল। প্রকৃতি আমাদের দেশকে সাজাতে কোনও কার্পণ্য করেনি। আমরা যদি একটু সচেতন হই, তা হলে প্রকৃতির সম্মানটা বাঁচে।

প্র: ‘ব্যোমকেশ গোত্র’র সেটে তো প্রিয়ঙ্কাও ছিলেন...

উ: এবং ঠিক সেই সময়েই আমাদের মধ্যেকার ঝামেলাটা মাথাচাড়়া দিয়েছিল। আসল কথা হল, আমি যদি আগামিকালও মারা যাই, তা হলে লোকে আমাকে অভিনেতা এবং লেখক হিসেবে মনে রাখবে। আমি কত দিন বিবাহিত ছিলাম বা কত দিন ডিভোর্সের জন্য লড়েছিলাম, সেটা ইতিহাস বেশি দিন মনে রাখবে না। ফলে আমার কাজের সামনে কোনও বাধাই আর বাধা থাকে না। প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে আমার বিরোধটা ব্যক্তিগত। অভিনেত্রী প্রিয়ঙ্কাকে আমি এখনও সম্মান করি। এবং অরিন্দমদা (শীল) পুরো সিচুয়েশনটা অত্যন্ত ডেলিকেটলি হ্যান্ডল করেছেন। অস্বস্তি ছিল। তবে অসুবিধে হয়নি কোনও।

প্র: সহজের সঙ্গে দেখা করতে পারেন?

উ: প্রায় আট মাস ওকে দেখতে পাইনি। প্রিয়ঙ্কার আপত্তির কারণে। ও চায় না, ওই বাড়িতে আমি পা রাখি। তবে কোর্টে মুভ করেছি কাস্টডির জন্য।

প্র: আপনাদের ডেবিউ ছবি ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর দশ বছর পূর্ণ হল। পার্টিতে আপনি ছিলেন না কেন?

উ: রাজদা আর প্রিয়ঙ্কা ছিল তো! আমাকে ডাকা হয়নি, তাই যাইনি। অ্যাজ় ইফ আমার কোনও ভূমিকাই ছিল না ছবিতে! প্রিয়ঙ্কা হয়তো বলেছিল, আমি থাকলে ওর কিছু অসুবিধে হবে। যাক গে, এগুলো পার্ট অব লাইফ।

আরও পড়ুন: বিখ্যাত হয়েই পুরনো সঙ্গীর দিকে ফিরেও তাকাননি এই বলিউড তারকারা

প্র: এত বছরের কেরিয়ারে আর একটা মূলধারার বিগ বাজেট ছবিতে আপনাকে একক হিরো হিসেবে পাওয়া গেল না কেন, বলতে পারেন?

উ: এসভিএফ আমাকে আর ডাকেনি। ‘চিরদিনই...’র পর ওদের সঙ্গে যে ছবিটা করেছিলাম, সেটা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘জ্যাকপট’। মেন লিড ছিল হিরণ। ‘চিরদিনই...’ এত সফল হওয়ার পরেও আমি কিন্তু সেকেন্ড লিড পেলাম। ‘প্রেম আমার’টা খুব সম্ভবত আমার জন্য ডিজ়াইন করা হয়েছিল। কিন্তু রাজের সঙ্গে সমস্যার জন্য আমাকে প্রযোজকরা বাদ দেন এবং সোহমকে আনেন। তবে আমি অনেক কাজ করেছি, যা যথেষ্ট প্রমাণ দেয় যে, আমি ওয়ান ফিল্ম ওয়ান্ডার ছিলাম না। ১৫ বছরের কেরিয়ারে এখনও মাধ্যম নির্বিশেষে নিজেকে প্রমাণ করে চলেছি।

প্র: সেই কারণেই কি টেলিভিশনের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন?

উ: শুধু ছবি করেও আমি সংসার চালিয়ে যেতে পারব। কিন্তু ‘হৃদয়ে লেখো নাম’ বা ‘বাদল দিনের মুখর ধারায়’ টাইপের ছবি করলে ইতিহাসের দিক থেকে আমার কোনও লাভ হবে না। সহজ বরং আরও খারাপ চোখে দেখবে! টেলিভিশন আমাকে খারাপ ছবিকে ‘না’ বলার অধিকার দিয়েছে।

প্র: কিন্তু সেই টেলিভিশনের কারণেই তো ‘যকের ধন টু’ করতে পারলেন না...

উ: ‘ব্যোমকেশ গোত্র’-র কাজটা করে সবে ফিরেছিলাম তখন। অজিত করার পর ‘যকের ধন’ আর না করলেও চলত... আর কোয়েল (মল্লিক) আর পরমব্রতর (চট্টোপাধ্যায়) ডেট এমন একটা জায়গায় পৌঁছেছিল যে, আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তবে যে আমাকে রিপ্লেস করেছে, সেই গৌরব চক্রবর্তী কোনও অংশে কম অভিনেতা নয়।

প্র: আপনার বিরুদ্ধে কতকগুলো অভিযোগ আছে ইন্ডাস্ট্রিতে। তার মধ্যে প্রধান, আপনি অ্যালকোহলিক। কাজেও তার প্রভাব পড়ছে...

উ: তাই? ঘণ্টার পর ঘণ্টা না ঘুমিয়ে থাকি। সারা রাত জেগে শুটিং করি। আমিই একমাত্র অভিনেতা যে টেলিভিশন করতে করতেও সিনেমা করে। বছরে চারটে ছবি করে, লি়ড চরিত্রে, প্রতিষ্ঠিত পত্রিকায় যার নিয়মিত কলাম বেরোয়। নেশার কবলে পড়ে থাকা মানুষের পক্ষে এত কিছু করা সম্ভব নয়। মনে পড়ছে না, শেষ কবে অ্যালকোহল নিয়েছি। এত কাজ করি, এত ভাবে কাজ করি যে, আমার জবাব দেওয়ার দরকার নেই।

প্র: সন্দীপ্তার (সেন) সঙ্গে সম্পর্কটা এখন কোন জায়গায়?

উ: আমরা বন্ধু। আর কিছু বলার সময় আসেনি। এখনই আমার প্রেমের সঙ্গে গ্যারান্টি কার্ড দিচ্ছি না। জীবন নিয়ে এখন অনেক বাস্তববাদী আমি।