বাংলা ইন্ডাস্ট্রি মাতাচ্ছে এই স্টারকিডেরা

ইদা ও রাজনন্দিনী

বলিউডে নতুন প্রজন্মের সকলেই প্রায় স্টারকিড। টলিউডে কিন্তু পরিস্থিতিটা এ রকম ছিল না এত দিন। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ছাড়া বড় নাম বলতে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, কোয়েল মল্লিক, রাইমা সেন ও রিয়া সেন। তবে ছবিটা বদলাচ্ছে। আগামীর মুখেরা অনেকেই সিনে-পরিবার থেকে। হয়তো কোনও দিন বলিউডের মতো এখানেও নেপোটিজ়মের অভিযোগ উঠবে! তবে শেষ কথা তো বলবে প্রতিভা...

 

ছোট মুখে বড় কাণ্ড

বছর সাতেকের এই পুঁচকেকে যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা জানেন কত বড় অভিনেত্রী সে! বিরসা দাশগুপ্ত এবং বিদীপ্তা চক্রবর্তীর ছোট মেয়ে ইদা। ‘‘শুধু ক্যামেরার সামনে নয়, ও বাড়িতেও সারা ক্ষণ অভিনয় করে চলেছে,’’ মেয়ের ব্যাপারে বলছিলেন বিরসা। ফিউচার ফাউন্ডেশনের ক্লাস টুয়ের ছাত্রী ‘সব ভুতুড়ে’তে অভিনয় করে ফেলেছে। কিছু দিনের মধ্যে শতরূপা সান্যালের ছবিতেও দেখা যাবে তাকে। তা হলে কি ভবিষ্যতে অভিনেত্রীই হচ্ছে ইদা? বিদীপ্তার কথায়, ‘‘এই পরিবারের সকলেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত। সেখানে ইদারও যে এ দিকেই আগ্রহ থাকবে, তা স্বাভাবিক। জানি না বড় হয়ে কী করবে।’’

 

‘টিন’-এর তলোয়ার

কিছু দিন আগেই মুক্তি পেয়েছে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘উমা’। সেই ছবি দেখে সকলে এক বাক্যে স্বীকার করেছেন, যিশু সেনগুপ্তর বড় মেয়ে সারা আগামী দিনের অভিনেত্রী। স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় আর মায়াময় চোখ দিয়েই সকলের মন জিতে নিয়েছে সারা। ক্যালকাটা ইন্টারন্যাশনালের ছাত্রী সারা আগামী দিনে অভিনয় করবে কি না, তা এখনও স্থির নয়। সৃজিতের কথাতেই সে রাজি হয়েছিল ‘উমা’য় অভিনয় করতে।

অমর্ত্য ও সারা

এই মুহূর্তে রাজ চক্রবর্তীর ছবি ‘অ্যাডভেঞ্চার্স অব জোজো’ করতে অরুণাচলে পৌঁছে গিয়েছে বছর বারোর যশোজিৎ। বাবা জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ছোট পর্দার নামী মুখ। তবে জয়জিতের খুব একটা ইচ্ছে ছিল না ছেলে এখনই অভিনয় করুক। ‘‘আমার বাবা পরিবারের কর্তা। তিনি মত দিয়েছেন,’’ বক্তব্য জয়জিতের।

শুধু অভিনয় জগৎ থেকেই নয়, শ্রীকান্ত আচার্যের ছেলে পূরবকেও আগামী দিনে পর্দায় দেখতে পাওয়া যাবে। অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের ছবি ‘মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি’তে অভিনয় করছে পাঠ ভবনের ক্লাস টুয়েলভের পূরব।

 

আমরা অ্যাডাল্ট

যাঁকে নিয়ে এই মুহূর্তে টলিউডে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ, তিনি রাজনন্দিনী পাল। ইন্দ্রাণী দত্তর কন্যা। অভিষেক সাহার ‘উড়নচণ্ডী’তে তাঁকে প্রথম বার পর্দায় দেখা যাবে। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘এক যে ছিল রাজা’তেও রয়েছেন রাজনন্দিনী। তাঁর সম্পর্কে সবচেয়ে বড় সার্টিফিকেট দিয়েছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ‘আগামী দিনের সুপারস্টার’। রাজনন্দিনী অভিনয়ের পাশাপাশি পড়াশোনাও করছেন। হেরিটেজ কলেজের ইংরেজি স্নাতকের ছাত্রী তিনি। তবে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অভিনয়কে ঘিরেই। ‘উড়নচণ্ডী’ দিয়ে টলিউ়ডে ডেবিউ করছেন আরও এক জন। তিনি চৈতী ঘোষালের ছেলে অমর্ত্য রায়। এর আগে ‘টোয়েন্টি টু ইয়াডর্স’ ছবিতে অভিনয় করেছেন অমর্ত্য। পুণে ফিল্ম ইনস্টিটিউটে ফিল্ম ডিরেকশন নিয়ে আপাতত পড়াশোনা করছেন অমর্ত্য। তা হলে পরিচালনা না কি অভিনয়? চৈতী বলছেন, ‘‘সিনেমার প্রস্তাব আসছে অনেক। অমর্ত্য পরিচালনা নিয়ে পড়াশোনা করছে বটে, তবে করবে অভিনয়ই।’’ খেয়ালি দস্তিদারের ছেলে আদিত্যর বিষয়টা আবার উল্টো। ‘প্রজাপতি বিস্কুট’ ছবি দিয়ে অভিনয়ে পা রাখলেও, পরিচালনার দিকেই তাঁর আগ্রহ বেশি। সেই মতো পরিকল্পনাও চলছে তাঁর। একই পথে হাঁটছেন বিরসা দাশগুপ্তর বড় মেয়ে মেঘলা দাশগুপ্তও। টেলিভিশনের ছবি ‘লোডশেডিং’য়ে অভিনয় করেছিলেন তিনি, কিন্তু ইচ্ছেটা পরিচালনার দিকেই। বাবার ইদানীংকার সব ছবিতেই তাঁকে অ্যাসিস্ট করছেন মেঘলা।

ধী ও উজান

বছরের শেষে হতে চলেছে আর একটা প্রতীক্ষিত ডেবিউ। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় এবং চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়ের ছেলে উজানের প্রথম ছবি ‘রসগোল্লা’ মুক্তি পেতে চলেছে ডিসেম্বরে। উজান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ে উজান অভিনীত একটি নাটক দেখেই নন্দিতা রায় এব‌ং শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ‘রসগোল্লা’র জন্য নির্বাচন করেছিলেন উজানকে। অভিনয়ের পাশাপাশি মেধাবী ছাত্র উজান ডিবেটে জেতেন, গান গাইতে পারেন, ছবিও আঁকেন। ভবিষ্যতে তিনি কী হতে চান, সেটা কৌশিক এবং চূর্ণী ওঁর উপরেই ছেড়ে রেখেছেন।

যশোজিৎ

বহুমুখী প্রতিভার এ রকম আর এক উদাহরণ ধী মজুমদার, শিলাজিতের ছেলে। বৃহত্তর দর্শকের সঙ্গে যাঁর পরিচয় হয়েছিল ‘ওপেন টি বায়োস্কোপ’-এর মাধ্যমে। তবে ধী তার আগে কিউয়ের ‘দ্যাট বয়’ এবং বিরসার ‘কে?’ ছবিতেও কাজ করে ফেলেছিলেন। সম্প্রতি ‘রংবেরঙের কড়ি’তে ধীয়ের অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। বেঙ্গালুরুতে এই মুহূর্তে ডিজিটাল ডিজ়াইনিং নিয়ে পড়াশোনা করছেন ধী। সঙ্গে চলছে ড্রামস এবং গিটার বাজানোও। বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। কিন্তু ভবিষ্যতে অভিনয়টাও চালিয়ে যেতে চান ধী।

এই তালিকা যে দুটো নাম ছাড়া অসম্পূর্ণ, তাঁরা হলেন ঋদ্ধি সেন এবং ঋতব্রত মুখোপাধ্যায়। কিন্তু দু’জনেই ইতিমধ্যে নিজেদের জায়গায় সুপ্রতিষ্ঠিত। ঋদ্ধি জাতীয় স্বীকৃতিও পেয়ে গিয়েছেন। আগামী দিনের তারকারা এখন দিগন্তকে কতটা উজ্জ্বল করে তোলেন, তারই অপেক্ষায় আমরা।