কলকাতার কড়চা


ভারতীয় সংগ্রহশালায় নব-চিত্রবীথি

পাথরের ভাস্কর্য কি প্রাচীন জীবজন্তুর কঙ্কাল, মিশরের মমি, জনজাতির ডায়োরামা— ভারতীয় সংগ্রহশালা বললেই এই সব ছবি ভেসে উঠত। আস্তে আস্তে চেহারা বদলাচ্ছে, দুশো বছরের এই প্রতিষ্ঠান ক্রমশই আধুনিক হয়ে উঠছে। যোগ হচ্ছে নতুন নতুন গ্যালারি, পাল্টাচ্ছে প্রদর্শনব্যবস্থাও। সেই তালিকায় এ বার যুক্ত হল ভারতীয় চিত্রকলার জন্য একটি ঝকঝকে নতুন গ্যালারি।

ভারতীয় চিত্রকলার এত ভাল একটি সংগ্রহ যে এখানে রয়েছে, এটাই সুবিদিত নয়। হয়তো কোনও এক বা একাধিক ব্যক্তিগত সংগ্রহকে ভিত্তি করে গড়ে ওঠেনি বলেই তা খানিকটা চোখের আড়ালে থেকে গিয়েছিল, খোঁজ রাখতেন গবেষকরাই। এর আগে ‘চিত্রবীথি’ তৈরি হলেও নানা কারণে তা প্রত্যাশা পূর্ণ করতে পারেনি। দরকার ছিল সম্পূর্ণ নতুন প্রদর্শনব্যবস্থার, যা এ বারে করা গিয়েছে।

সরকারি আর্ট স্কুল ও এশিয়াটিক সোসাইটির সংগ্রহ নিয়ে গড়ে ওঠা এই চিত্রসম্ভারের সমৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা ছিল ই বি হ্যাভেল ও পার্সি ব্রাউনের। ভাবা হয়েছিল, লন্ডনের সাউথ কেনসিংটন-এর আদলে কলকাতাতেও গড়ে তোলা হবে এক ছাদের তলায় শিল্প ও কারিগরি শিক্ষার এক প্রতিষ্ঠান, মিউজিয়ম ও আর্ট স্কুল কাজ করবে এক সঙ্গে। পরে অবশ্য তা আর হয়নি, পুরো সংগ্রহটিই রক্ষিত হয় ভারতীয় সংগ্রহশালায়। ১৯২৭-এ নাহার-সংগ্রহের চিত্রনিদর্শনগুলি এর সঙ্গে যুক্ত হয়। 

পাল-সেন পর্বের বৌদ্ধ পুথিচিত্র, পশ্চিম ভারতের জৈন পুথিচিত্র, সুলতানি ও মুঘল চিত্রকলা, দক্ষিণ ভারতীয় সুলতানি চিত্রকলা, রাজস্থানি ও পাহাড়ি চিত্র, এবং কোম্পানি আমলের ছবি বিশেষত অভ্রের পাত ও হাতির দাঁতের উপর আঁকা ছবির সঙ্গে এই সংগ্রহে আছে বেঙ্গল স্কুলের ছবিও। প্রদর্শিত হচ্ছে ২৬২টি ছবি।

আন্তর্জাতিক সংগ্রহশালা দিবসে আশুতোষ জন্মশতবার্ষিকী প্রেক্ষাগৃহে বেলা সাড়ে ১১টায় এই প্রদর্শকক্ষ উদ্বোধন করবেন তপতী গুহঠাকুরতা, সংগ্রহটি সম্পর্কে তিনি ছাড়াও বলবেন রত্নাবলী চট্টোপাধ্যায়। সঙ্গে বাঁ দিকের ছবির শিল্পী পাহাড়ি চিত্রকর নয়নসুখ, ডান দিকের ছবিটি মুঘল চিত্রকর মনসুরের আঁকা।  

 

শতবর্ষে

 

একদা বাংলার মঞ্চ কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন ‘নহবত’ নাটকে বিকাশ রায় (১৯১৬-১৯৮৭)। যে নাটক টানা ১২০০ রজনীর অধিকাংশই হাউসফুল। তাঁর মুকুটের আরও পালক হল ’৪২, রত্নদীপ, জিঘাংসা, জীবন কাহিনী, আরোহী, আরোগ্য নিকেতন, উত্তর ফাল্গুনী, কাঁচ কাটা হীরে-র মতো ছবিতে তাঁর অবিস্মরণীয় অভিনয়। জ্যোতির্ময় রায়ের হাত ধরে প্রথম ছবি ‘অভিযাত্রী’। ছেড়ে দেন রেডিয়োর চাকরি, বিজ্ঞাপনের কাজ, ওকালতি। একই সঙ্গে সিরিয়াস ও হাস্যকৌতুকে তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। একাধারে তিনি পরিচালনা করেছেন— কেরী সাহেবের মুন্সী, মরুতীর্থ হিংলাজ, রাজা সাজা-র মতো ছবিও। বেতার নাটকেরও শিল্পী। শ্রুতি নাটকের জনপ্রিয়তার বলতে গেলে তিনিই প্রবক্তা— শেষের কবিতা ও চিরকুমার সভা। আজ তাঁর জন্মদিন, বেঁচে থাকলে শতায়ু হতেন। তাঁর জন্মশতবর্ষ স্মরণ করছে শিল্পী সংসদ, নন্দন-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে। ১৬-১৮ মে দেখানো হবে তাঁর সেরা অভিনয়ের ৬টি সিনেমা। স্টুডিয়োর বাইরে ছিলেন আপাদমস্তক ভদ্রলোক, আবার ততটাই গম্ভীর। অত্যন্ত পড়ুয়া। তিনি যখন টালিপাড়ায় পা রেখেছেন, তখন এতটাই ক্ষীণকায় ছিলেন যে নিন্দুকেরা তাঁকে আড়ালে ডাকত ‘হ্যাঙারে পাঞ্জাবি’। অথচ তাঁর ব্যক্তিত্বের সামনে অতি বড় পরিচালকরাও গুটিয়ে যেতেন।

 

নৃত্যগুরু

বিশিষ্ট ভরতনাট্যম শিল্পী এবং নৃত্যগুরু পি টি নরেন্দ্রন ‘সুছন্দা সংগীতালয়’-এর রজত জয়ন্তী উৎসব উপলক্ষে কলকাতায়। রুক্মিণী দেবী আরুনডেলের প্রিয় ছাত্র এবং কলাক্ষেত্রের যশস্বী এই শিল্পী দেশবিদেশে ভরতনাট্যম শিক্ষাগুরু হিসেবে সম্মানিত। এখানে তিনি পরিচালনা করছেন ঠাসা কর্মশালা এবং তার পর থাকবেন সুছন্দার অনুষ্ঠানে (২১ মে সন্ধে ৬টায়, জ্ঞানমঞ্চ), ‘প্রকৃতি, শ্যামা, কমলিকা, চিত্রাঙ্গদাকে নিয়ে একটি নৃত্যালেখ্য’। নৃত্যালেখ্যে তিনি বজ্রসেন ও অর্জুনের ভূমিকায়, শ্যামার ভূমিকায় সুছন্দার পরিচালক সুরঙ্গমা দাশগুপ্ত এবং চিত্রাঙ্গদায় এঁদেরই সুযোগ্য শিষ্য লোকেশ্বরী।

 

সমাবর্তন

বিত্ত প্রাচুর্য সৃষ্টিতে সক্ষম, আবার শ্রীবৃদ্ধিতেও সক্ষম। সুতরাং বিত্ত নির্মাণ দেশের জন্য জরুরি হলেও লক্ষ রাখা প্রয়োজন যে, কোন উদ্দেশ্যে বিত্ত ব্যবহৃত হতে পারে। টেকসই বিকাশের স্বার্থে, প্রকৃতি ও পরিবেশকে যথাসাধ্য অক্ষুণ্ণ রেখে যাতে দেশের ও পৃথিবীর উন্নয়ন ঘটে, সে দিকে নজর দেওয়া ছাত্রছাত্রীদের এবং সমাজের সকলের কর্তব্য— রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের একচল্লিশতম সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসেবে দীক্ষান্ত ভাষণে এমন কথাই শোনালেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অনুপ সিংহ। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাঁরা পাঠ নিলেন, তাঁরা আগামী দিনে দেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতির দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, এমনই আশা আচার্য কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর। জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি প্রাঙ্গণে আয়োজিত সমাবর্তনে সাম্মানিক ডি লিট পেলেন শংকর, আশিস নন্দী, অঞ্জলি এলা মেনন এবং এল সুব্রহ্মণ্যম। রাজ্য নৃত্য, নাটক, সংগীত ও দৃশ্যকলা আকাদেমি পুরস্কার তুলে দেওয়া হল মমতাশঙ্কর, শোভা সেন, সুমিত্রা সেন ও সুষেন্দ্রকুমার ঘোষের হাতে। আচার্য দীনেশচন্দ্র সেন স্মারক পুরস্কার পেলেন রেন লিয়াংসং তামসাং।

 

ট্রাম টেলস

ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের ‘কুম্ভীর বিভ্রাট’-এর কথা মনে পড়ে? সে গল্পে কুমিরের পেটের ভেতর যেমন গা-ভর্তি গয়না পরা বুড়িকে রীতিমতো সবজি বেচতে দেখা গিয়েছিল, এখানেও তেমনই আস্ত ট্রামের ভেতর আমজনতাকে পাওয়া গেল ট্রাম নিয়ে সিনেমা, নাটক দেখতে, রবীন্দ্রসংগীত, রক ব্যান্ড শুনতে। এবং খাওয়াদাওয়া আড্ডা আর হস্তশিল্পের দোকানে কেনাকাটা করতে! কলকাতার ট্রামকে বাঁচিয়ে রাখতে ফিউচার মিডিয়া স্কুল, ইয়েস ফাউন্ডেশন, দ্য টেলিগ্রাফ এবং ইনটাক আয়োজিত ‘ট্রাম টেলস’ শীর্ষক দু’দিনের উৎসবে (৭-৮ মে) এ ভাবেই গড়িয়াহাট ট্রাম ডিপোর অচল ও সচল ট্রামগুলিকে অভিনব ভাবে সাজিয়ে, নতুন রং করে ট্রামের ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হল। উদ্যোক্তাদের পক্ষে খেয়া চট্টোপাধ্যায় ও আদিত্য সেনগুপ্ত বললেন, ‘আধুনিক ডিজাইনে আমরা ট্রামের ঐতিহ্যকে পরবর্তী জেনারেশনের কাছে আরও মজার করে তোলার চেষ্টা করছি। কলকাতার ট্রাম মানেই যে কলকাতার ইতিহাস— এই নস্টালজিক ব্যাপারটা যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন ভুলে না যায়।’ সঙ্গের ছবি: বিশ্বনাথ বণিক

 

নতুন গান

ছ’বছর বয়সে রবীন্দ্রসংগীতে হাতেখড়ি। সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বড় হওয়া সাংবাদিক, শিল্পী শুক্তি মুিন্সর জন্ম বারাকপুরে। বাবা দীনেন্দ্রনারায়ণ মুন্সি ভাল আবৃত্তি করতেন। সংগীতে তালিম বিশ্বনাথ সেনগুপ্ত, অরূপ মুখোপাধ্যায়ের কাছে। এ বার, শিল্পীর গাওয়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটদের ছ’টি গান সমৃদ্ধ অ্যালবাম ‘রবি খেলা’ (সাগরিকা) আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশিত হবে ২১ মে বিকেল ৪টেয় কলকাতা প্রেস ক্লাবে। ‘ছেলেবেলার গান ও আমি’ বিষয়ে আলোচনা করবেন গীতিকার মিল্টু ঘোষ, শ্রাবণী সেন, ডা. কুণাল সরকার ও শ্রীজাত। অন্য দিকে, ২০ মে সন্ধে সাড়ে ৫টায় শিশির মঞ্চে ‘দেবব্রত বিশ্বাস স্মরণ কমিটি’র ‘কবিপ্রণাম’ অনুষ্ঠানে দেবব্রত বিশ্বাসের ২৩টি গান নিয়ে সিডি ‘আমরা আছি কাছারাছি’ (বাহার মিউজিক) এই প্রথম কলকাতায় প্রকাশিত হবে। সিডিতে শিল্পীর একক রবীন্দ্রসংগীত ও গণনাট্যের ‘নবজীবনের গান’(জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র) যেমন আছে, তেমনই হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর গাওয়া ৪টি ডুয়েটও আছে।

 

শান্তি

দুনিয়া জুড়ে লাগাতার হিংস্রতার বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে গৌতম বুদ্ধের শরণের কোনও বিকল্প নেই। সে কথাটি মনে রেখেই চিত্রকলা, ভাস্কর্য, পুথিপত্রের সমাহারে এক প্রদর্শনীর উদ্বোধন আজ সন্ধে সাড়ে ৬টায় গোর্কি সদনে। রাশিয়ান সেন্টার আর আইজেনস্টাইন সিনে ক্লাবের উদ্যোগে। সঙ্গে এশিয়া সেন্টার, ফোরাম ফর কালেক্টর্স, জেনারেশন নেক্সট ও প্রোগ্রেস লিটারারি ক্লাব। চলবে ২০ মে অবধি, প্রতিদিন ৪-৭টা। বুদ্ধের শান্তি-আদর্শকে নিয়ে প্রসিদ্ধ ৩টি সিনেমাও থাকছে— লাইট অব এশিয়া, তথাগত, সিদ্ধার্থ। অন্য দিকে, আমাদের শৈশব থেকে বয়ঃসন্ধির বেঁচে-থাকাকে থিয়েটার কী ভাবে ব্যক্তিত্বময় করে তুলতে পারে, কমবয়সিরা যাতে নাটকের ভিতর দিয়ে নিজেদের প্রকাশ করতে পারে, তা নিয়ে ওয়ার্কশপ করলেন অদ্রিতা আর তন্দ্রিমা। তা থেকে উঠে-আসা দু’টি নাটকের অভিনয় কলামন্দিরের কলাকুঞ্জ প্রেক্ষাগৃহে ২০ মে সন্ধে ৬টায়— ‘উই ডোন্ট নিড নো এডুকেশন’ এবং ‘বাত এক শাম কি’। আয়োজক: কর্নাশ।

 

ভারতমাতা

 সাহিত্যে ‘ভারতমাতা’র অন্যতম প্রথম প্রকাশ দেখা যায় দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘যেদিন সুনীল জলধি হইতে উঠিলে জননী ভারতবর্ষ’ কবিতায়, আর শিল্পে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ভারতমাতা’ চিত্রে। ১৯০৫ সালে স্বদেশি আন্দোলনের সময় আঁকা এই ছবি প্রথমে ‘বঙ্গমাতা’ নামাঙ্কিত ছিল। নিবেদিতা এই ছবি সম্বন্ধে উচ্ছ্বসিত ছিলেন, চেয়েছিলেন এর বহু কপি মুদ্রিত করে সবার ঘরে ছড়িয়ে দিতে। ‘স্বদেশি’ ভাবনায় গুরুত্বপূর্ণ ছবিটি এখন রবীন্দ্রভারতী সোসাইটির সংগ্রহভুক্ত হওয়ার সুবাদে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে সংরক্ষিত। এটিকে নিয়ে আজ থেকে সেখানেই বিশেষ প্রদর্শনী, সাড়ে ৫টায় উদ্বোধন করবেন সুগত বসু।  

 

সাফল্য

স্মৃতি হারানো এক জাদুকর গাছের ছায়ায় পার্কের বেঞ্চে শুয়ে থাকেন। আর একটি বাচ্চা শর্টকাটে স্কুলে যায় ওই পার্কের ভেতর দিয়ে। ধীরে ধীরে দু’জনের মধ্যে বন্ধুত্ব জন্মায়। জাদুকর বাচ্চাটিকে ম্যাজিক শিখিয়ে সাফল্যের শিখরে তোলার অদম্য চেষ্টা করেন। এই ভাবেই গল্প এগিয়েছে বি ডি এম ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের তৈরি ২৮ মিনিটের ছবি ‘নিয়তি’তে। ছবিটি সম্প্রতি ‘ষষ্ঠ দাদাসাহেব ফালকে (বেস্ট শর্ট ফিল্ম-জুরি, স্কুল বিভাগ-২০১৬)’ পুরস্কার এনে দিল স্কুলের সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে। ছবি করিয়েরা সবাই দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ে। অভিনয় করেছেন স্কুলেরই শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ রায় ও যাদবপুর বিদ্যাপীঠের ছাত্র অর্পণ ভট্টাচার্য। চিত্রনাট্য সৌহিত্য সর, সম্পাদনা সৃজন প্রতাপ, প্রোডাকশন ডিজাইনিং সাবর্ণী দাশগুপ্ত এবং নির্দেশনা আয়ুষ ভট্টাচার্যের।

 

অক্লান্ত

হাতেখড়ি করাচিতে। পরে পাঠ নেন চেতলা বয়েজ স্কুলে। শিক্ষক ছিলেন কবি দীনেশ দাশ। কিশোরবেলায় সোমেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় রবীন্দ্রনাথকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন। ইচ্ছা ছিল বিশ্বভারতীতে পড়াশোনা করার, কিন্তু ইন্টারমিডিয়েটের আগে সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি। আশুতোষ কলেজ থেকে বি এ পাশ করেন। ১৯৪৮ সালে বাংলা সাহিত্যে এম এ পাশ করেই ‘প্রেমচাঁদ রায়চাঁদ’ বৃত্তি পেয়ে গবেষণা। প্রথমে বিদ্যাসাগর কলেজে অধ্যাপনা, পরে বিশ্বভারতীতে। নব্বইয়েও অক্লান্ত সোমেন্দ্রনাথ এখন রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অব কালচারে গবেষণা বিভাগে গবেষণা তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। জন্ম ১৯২৬ সালে বর্ধমান জেলার বরাচক কোলিয়ারির মাতুলালয়ে। পিতামহ রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে দশ বছর শিলাইদহে কাটিয়েছেন এবং পরে ব্রহ্মচর্যাশ্রমের প্রথম যুগের শিক্ষক ও অর্থসচিবও ছিলেন। বাবা সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন শিল্পশিক্ষক। তাঁর প্রভাবেই তিনি শিল্পকলা চর্চায় মন দেন। রবীন্দ্রসাহিত্যের পটভূমিকায় তিনি রবীন্দ্রচিত্রকলা চর্চায় নতুন পথ দেখান। শিল্পী রামকিঙ্করকে নিয়ে বই লিখেছেন। তাঁর হিন্দুইজম বইটিও অনূদিত হয়েছে (হিন্দুধর্ম, আনন্দ)। পেয়েছেন রবীন্দ্রভারতী ও অসম কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি লিট, এশিয়াটিক সোসাইটির আচার্য সুকুমার সেন স্বর্ণপদক, সরোজিনী বসু স্বর্ণপদক, প্রভৃতি। ১৭ মে তাঁকে সংবর্ধনা জানাচ্ছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগিতায় প্রাক্তনী সংস্থা।

 

কিরণশশী

আবার এক চ্যালে়ঞ্জিং চরিত্র। যে কোনও অভিনেত্রীর কাছেই এমন চরিত্র রীতিমতো লোভনীয়।’ বলছিলেন সেঁজুতি মুখোপাধ্যায়, কিরণশশী চরিত্র নিয়ে। অন্য থিয়েটার-এর নতুন প্রযোজনা ‘নটী কিরণশশী’, উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের নাটক, নির্দেশক বিভাস চক্রবর্তী। চরিত্রটি কাল্পনিক হলেও বঙ্গরঙ্গমঞ্চের ইতিহাস থেকে উঠে আসা। পুরনো দিনের সেই সব নটী, যাঁরা শুধু নিবেদিত-প্রাণই ছিলেন না, মুক্তি খুঁজতেন থিয়েটারে, তাঁদেরই প্রতিনিধি কিরণশশী। সে সময়ে নানা চরিত্রে তাঁর অভিনয়ের উপস্থাপনা আছে এ-নাটকে, ‘কিরণশশীর সঙ্গে তাঁর অভিনীত চরিত্রেও অভিনয় করতে হয়েছে, ফলে বিভিন্ন ধরনের অভিনয়, অনুভূতির নানা স্তর, বহু রকমের শেড... তৈরি হওয়ার সময় বিভাসদা প্রায় অ্যাক্টিং-গাইড-এর মতো পাশে ছিলেন, এই প্রথম কাজ করলাম তাঁর সঙ্গে।’ স্বীকারোক্তি সেঁজুতির। আর বিভাস চক্রবর্তীর পাঁচ মাস লেগেছে প্রযোজনাটি সাজাতে, তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ বোঝাপড়ায় সে সময়কালকে মঞ্চস্থাপত্যে বুনে দিয়েছেন সঞ্চয়ন ঘোষ। ‘আসলে ওই সময়কার অভিনেত্রীদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আরও বেশি এই জন্যেই যে, তাঁরা থিয়েটারের ভিতর দিয়ে আলোর দিকে যাত্রা করেছিলেন, কিন্তু অন্ধকারের জীবন ছিল তাঁদের। সমাজের সঙ্গে, এমনকী নিজের সঙ্গেও দ্বন্দ্ব ছিল সাংঘাতিক।এই টানাপড়েনে অসম্ভব জটিল ছিল কিরণশশীদের জীবন। সেই লড়াই, অন্ধকার আর জটিলতাটাই ধরতে চেয়েছি।’ জানালেন নির্দেশক। আসন্ন অভিনয় ২০ মে গিরিশ মঞ্চে সন্ধে সাড়ে ৬টায় এবং ৯ জুন অ্যাকাডেমিতে সন্ধে সাড়ে ৬টায়। সঙ্গের ছবি নাটক থেকে।