আত্মমগ্ন নিঃসঙ্গ এক চিত্রকর বিনোদবিহারী

ছবি: স্বপনকুমার ঘোষ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নন্দলাল বসু, রামকিঙ্কর বেইজকে আমরা সবাই চিনি। কিন্তু বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়কে? নন্দলালের শিষ্য হয়েও রামকিঙ্করের মতোই যিনি নিজের প্রয়াসে ভারতীয় আধুনিক চিত্রকলার সূচনা করেছিলেন। কিন্তু এতটাই অ-পরিচয় ছিল যে, জীবন সায়াহ্নে পৌঁছেও শান্তিনিকেতন সমাজের বাইরে কেউ তাঁকে বিশেষ চেনেনি। বিস্তীর্ণ খোয়াইয়ের মধ্যে একলা দাঁড়িয়ে থাকা একটি তালগাছের মধ্যেই তাঁকে খুঁজে নিতে বলেছিলেন ছাত্র সত্যজিৎ রায়কে। “খোয়াই বাদ দিও না। খোয়াই আর তাতে একটা সলিটারি তালগাছ। ব্যস। আমার স্পিরিট, আমার জীবনের মূল ব্যাপারটা যদি কোথাও পেতে হয়, ওতেই পাবে। বলতে পার, ওটাই আমি।” 

বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে করা তথ্যচিত্র ‘ইনার আই’ তৈরির অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে এমনটাই লিখেছিলেন সত্যজিৎ, তাঁর ‘বিনোদদা’ প্রবন্ধে। এই একাকিত্ব ছিল বিনোদবিহারীর ‘ক্রিয়েটিভ রেক্লুজ়’। যা শিল্পীর নিজের কথায়, “আমি নির্লজ্জের মতো সারাটা জীবন কাগজের ওপর রঙ লেপ্টেই কাটালাম। আসল কথা, আমার স্বভাব এমন যে কোনো সামাজিক দায়িত্বের সঙ্গে আমি নিজেকে মিলিয়ে নিতে পারিনি। পাকিস্তান-হিন্দুস্তানের ইতিহাস তৈরি হয়েছে আমার চোখের সামনে। দুর্ভিক্ষ, বন্যা, ভূমিকম্প ঘটেছে— এর সঙ্গে কোনো ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ আমার ছিল না। এ বিষয়ে কোনো ছবিও আমি করিনি। শিল্পী জীবনের পরাকাষ্ঠাই আমার চিরদিনের লক্ষ্য। আমি নিজেকে জানতে চেয়েছি এবং সেই জানার জন্যই অন্যকে জানতে চেষ্টা করেছি। আমি সাধারণের একজন, একথা আমি কখনো ভুলিনি।”

এই সাধারণের এক জন থেকেই বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায় অসাধ্য সাধন করেছিলেন। তিনি ‘শিল্পসর্বস্বতাবাদী’ বা ‘আঙ্গিকীকরণবাদী’ ছিলেন না। শিল্পের বিষয় হিসেবে গুরু অবনীন্দ্রনাথ, নন্দলালের মতো ধর্মীয় এবং পৌরাণিক ক্ষেত্রকে বেছে না নিয়ে তিনি চোখ রেখেছিলেন তাঁর চারপাশের দৃশ্যমান প্রকৃতি, প্রান্তর, প্রাণী, মানুষ আর বিপুল প্রজ্ঞার জগতের উপরে। কারণ, তাঁর আসল গুরু যে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ! নিজেই বলেছেন, “আমার ছবি না দেখলে আমার জীবনের বৈশিষ্ট দেখতে পাওয়া যাবে না।” 

বিনোদবিহারীর জন্ম ১৯০৪ সালের সাত ফেব্রুয়ারি, কলকাতার বেহালা অঞ্চলে। তাঁদের আদি বাড়ি ছিল হুগলির গরলগাছায়। মায়ের নাম অপর্ণা, বাবা বিপিনবিহারী। মোট পাঁচ ভাই তাঁরা। ব্রজবিহারী (বড়দা), বিমানবিহারী (ছোড়দা), বনবিহারী (মেজদা), বঙ্কুবিহারী (সেজদা), বিজনবিহারী (ন’দা) ও বিনোদবিহারী। একমাত্র বোন শৈল। বাড়ির পরিবেশ ছিল উদার, সংস্কারমুক্ত, প্রগতিবাদী। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যের একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন সবাই। বিনোদবিহারীর ছেলেবেলা কেটেছে উত্তর কলকাতায়। শৈশবে তাঁর জীবন-সংশয়ের ভয় গ্রাস করছিল গোটা পরিবারকে। ডাক্তারের পরামর্শে ছোট্ট বিনোদের খাওয়াদাওয়া, চলাফেরা ছিল নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু মায়ের মন মানত না। চাইতেন মৃত্যুর আগে সন্তানের সুখস্বাদ মিটিয়ে দিতে। বারণ সত্ত্বেও সবার অলক্ষ্যে শিশু বিনোদকে কাঁচকলা দিয়ে মাগুর মাছের ঝোল মাখা ভাত খাওয়াতেন। পিতা বিপিনবিহারী বাড়ি ফিরে সে খবর পেয়ে ভয়ানক রেগে গিয়ে চেঁচাতেন, “মরণাপন্ন ছেলেকে ভাত খাইয়ে দিলে? কীরকম আক্কেল তোমাদের?” এই ভাত খাওয়াই মৃতসঞ্জীবনীর কাজ করেছিল বিনোদবিহারীর জীবনে। বাবা ছেলের নাড়ি টিপে বলতেন, “এখন তো ভালই দেখছি...সকালে ডাক্তার ওরকম অকল্যাণকর কথা বলে গেলেন কেন?”

বড় দুই দাদার সঙ্গে ছোট্ট বিনোদ (মাঝে)

নিজের শৈশব ও কলকাতার বাড়ির বর্ণনা দিতে গিয়ে তখনকার দিনের কলকাতার মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারের পরিবেশ ও সংসারের ছবি সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন বিনোদবিহারী, ‘‘কলকাতার ছোট বাড়ি, ভিজে উঠোন, চৌবাচ্চা, সকালবেলা রক ধোয়া হয়েছে, তরিতরকারির ঝুড়ি, মাছের থলে, ভাঁড়ার ঘরের সামনে বঁটিতে তরকারি কোটা হচ্চে। আমি তারই মধ্যে ঘোরাফেরা করি। কুসুম ঝি কেবলই বলে, ব্যামো থেকে উঠেছো, শুধু পায়ে ভিজে মাটিতে ঘুরে বেড়িও না, ঘরে যাও। ভাঁড়ার ঘরের অনেক হাঁড়ি-কলসি-জালা। সেখানে আমি সহজে ঢুকি না আরশোলার ভয়ে। চৌবাচ্চার কাছে যেতে ভয় কেঁচো-কেন্নোর। ছাতের ওপর দাদাদের পড়বার ঘর। আমার ডাক্তার দাদার (বনবিহারী) ঘরে এখানে সেখানে মানুষের হাড়, দেওয়ালে টাঙানো কেশব সেনের ছবি, জানলার ধারে বড় একখানা আয়না। এ ঘরে ঢুকতে আমার ভয় করে না। কিন্তু সন্ধেবেলা রাস্তার আলো জ্বললে বাইরে নারকেল গাছের পাতার ছায়া আয়নার ওপর যখন দুলতে থাকে তখন আমি সে ঘরে দাঁড়াতে পারি না।”

মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেও তিনি ক্ষীণ দৃষ্টিশক্তির শিকার হয়েছিলেন। সংস্কৃত কলেজিয়েট স্কুল, মডার্ন ইনস্টিটিউশন, ব্রাহ্ম বয়েজ-এর মতো স্কুলে ভর্তি হলেও বেশি দিন টিকে থাকেননি। পরীক্ষা দিয়ে পাশ করার সুযোগও পাননি। ইংরেজি, বাংলা শেখা শুরু বাড়িতে। বই পেলেই পড়ার চেষ্টা করতেন। ইংরেজ ডাক্তার মেনার্ড সাহেব চোখ পরীক্ষা করে নিদান দিলেন, লেখাপড়া করলে চোখের যেটুকু আছে, তাও থাকবে না। সকলে বেরিয়ে গেলে বাড়িতে বসে রাস্তা দেখাই ছিল বিনোদের কাজ। “সকাল থেকে ফেরিওয়ালা ডেকে যায়। গলির উল্টোদিক থেকে আসে কাঁসি বাজাতে বাজাতে বাসনওয়ালা। কাঁসির শব্দ মিলিয়ে যেতে না যেতেই চুড়িওয়ালার হাঁক শোনা যায়, মেয়েরা চুড়িওয়ালার কাছ থেকে চুড়ি পরে। কত রঙের চুড়ি, বেলোয়ারি চুড়ি-রেশমি চুড়ি। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে চুড়ির রং দেখি... ছেলেবেলা থেকে একদৃষ্টে তাকিয়ে দেখবার অভ্যাস আমার হয়েছিল।”

স্ত্রী লীলার সঙ্গে বিনোদবিহারী

ভবিষ্যতের এক চিত্রকরের জন্ম হচ্ছিল এ ভাবেই। না ছিল সঙ্গী, না ছিল খেলা। ভবিষ্যৎ জীবন যে কোন খাতে বইবে, তা নিয়ে নিজেও চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। এমনই অবস্থায় ন’দা বিজনবিহারীর জন্য একটা আলো এসে পড়েছিল তাঁর অনিশ্চিত জীবনে। বিজনবিহারী নিজে শিল্পী হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সম্ভব হয়নি। তিনিই কিশোর বিনোদকে নিয়ে ছবি দেখতে যেতেন। যার শুরু হয়েছিল কলকাতার হ্যারিসন রোড ও কলেজ স্ট্রিটের মোড়ে কেষ্টদাস পালের মূর্তি ঘেরা রেলিং থেকে। রেলিংয়ে ঝোলানো থাকত কোনও শিল্পীর নিজের আঁকা ছবি, কখনও সস্‌ পেন্টিং, ক্যালেন্ডারের ছবি, ইউ রায় বা কে ভি সেনের ছাপা ছবি। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুরেন গঙ্গোপাধ্যায়, প্রিয়নাথ সিংহ বা নন্দলাল বসুর আঁকা ছবিও থাকত। মন দিয়ে সে সব ছবি বিজনবিহারী পর্যবেক্ষণ করতেন। ভাইকেও রং, তুলি, কাগজ তিনিই সরবরাহ করতেন। উৎসাহ দিতেন। শিল্পজগতে প্রবেশের দরজাটা বিনোদবিহারীকে দাদা বিজনবিহারীই দেখিয়েছিলেন। তিনিই শিখিয়েছিলেন, ‘সৃষ্টির উৎস মানুষের অন্তরের বস্তু’।

বারো বছরে পা দেওয়ার আগে বিনোদবিহারীর জীবনে কলকাতার বাইরে দু’টি জায়গায় থাকার অভিজ্ঞতা প্রভাব ফেলেছিল। প্রথমটি রাজশাহীর গোদাগাড়ি, অন্যটি পাবনার পাকশি। দাদা বনবিহারী ছিলেন ডাক্তার। তিনি কর্মসূত্রে যেখানেই যেতেন, গোটা পরিবারকেও সঙ্গে নিতেন। সংস্কারমুক্ত, একরোখা, আধুনিক, প্রগতিশীল, রবীন্দ্রভক্ত মানুষ ছিলেন বনবিহারী। একাধারে সাহিত্যিক এবং কার্টুনিস্টও। তাঁর লেখা ‘দশচক্র’, ‘যোগভ্রষ্ট’ বা ‘সিরাজের পেয়ালা’ সে কালের পাঠক মহলে সমাদৃত হয়েছিল। তিনি তাঁর বিধবা বোন শৈলর বিয়ে দিয়েছিলেন। যা ছিল সে যুগের চতুর্থ বিধবা বিবাহ। সেই বিয়ের আসরে উপস্থিত ছিলেন ‘বাংলার বাঘ’ স্বয়ং স্যর আশুতোষ। এই বনবিহারীকে নিয়েই সাহিত্যিক বনফুল লিখেছিলেন তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘অগ্নীশ্বর’।

গোদাগাড়ি আর পাকশি বিনোদবিহারীকে গ্রামীণ জীবন ও তার পরিবেশকে চিনিয়েছিল। সেখানকার মানুষ, গাছপালা, জীবজন্তু, খোলা প্রান্তর, পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ চর তাঁর মনকে হঠাৎ ওঠা ঝোড়ো হাওয়ার মতো নাড়া দিয়ে গিয়েছিল। ‘অস্বাভাবিক শৈশব ও বাল্যকাল স্বাভাবিক হয়ে এসেছে যখন’, তখনই বিনোদবিহারী শুনলেন বোলপুরে ‘রবিবাবুর স্কুলে’ ভর্তি করা হবে তাঁকে। সেই স্কুলের শিক্ষক কালীমোহন ঘোষের সঙ্গে ইতিমধ্যে আলাপ হয়েছিল দাদা বনবিহারীর। কালীমোহনের সাহায্যে বিনোদবিহারী উপস্থিত হলেন শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের বাড়ি ‘দেহলি’তে। কালীমোহন ক্ষীণদৃষ্টির বালক বিনোদবিহারীকে জিজ্ঞেস করলেন, “রবীন্দ্রনাথকে কখনো দেখেছ?”

“আজ্ঞে না।”

‘‘তাঁকে দেখলে চিনতে পারবে?”

“আজ্ঞে হ্যাঁ।”

না দেখলেও রবীন্দ্রনাথের লেখার মাধ্যমে তাঁর পরিচয় ওই বয়সেই কিশোর বিনোদ পেয়ে গিয়েছিলেন। পরে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে দেখা হতে বিনোদকে খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করে তিনি তাঁর চোখের চিকিৎসার খবর নিয়েছিলেন। তাঁর কোনও লেখা বিনোদ পড়েছে কি না জানতে চেয়েছিলেন। এর কারণ, তখনকার দিনে আজকের মতো সব বাঙালির ঘরে ঘরে রবীন্দ্রনাথ অবশ্যপাঠ্য ছিলেন না। কিন্তু বিনোদবিহারীর বাড়ির মুক্ত পরিবেশে তিনি দেখেছিলেন, দাদারা চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে ‘গোরা’ বা ‘ঘরে বাইরে’ পড়ছেন। তাঁর নিজেরও বই পড়ার ঝোঁক ছিল বিস্ময়কর। ওই বয়সেই তিনি ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ পড়ে ফেলেছেন শুনে রবীন্দ্রনাথ অবাক হয়েছিলেন। খুশি হয়ে আশ্রম বিদ্যালয়ে ঠাঁই দিয়েছিলেন কলকাতার স্কুল থেকে বাতিল করে দেওয়া ছেলেটিকে।

চোখের সমস্যা ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে বিনোদবিহারীকে স্কুলের নিয়ম থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছিল। বিকেল হলে মাঠে খেলতে যাওয়ার বদলে বেড়াতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। পড়াশোনার বদলে কেবল ছবি আঁকাই ছিল তাঁর কাজ। বিনোদ যে ছবি আঁকতে পারে, তা সকলে জেনেছিলেন শিক্ষক জগদানন্দ রায়ের ‘পোকামাকড়’ বইয়ের জন্য ছবি এঁকে দেওয়ার পরে। সৌভাগ্যক্রমে এই সময়েই শান্তিনিকেতনে কলাভবন ও সঙ্গীতভবনের প্রতিষ্ঠা করেন রবীন্দ্রনাথ। তাঁর মনে তখন ‘বিশ্বভারতী’র ভাবনা দানা বাঁধতে শুরু করেছে।

কলাভবনে ভর্তি হওয়ার পরে যেন নিজের জায়গাটিকে খুঁজে পেয়েছিলেন বিনোদবিহারী। যদিও নন্দলাল প্রথম দিকে তাঁকে পছন্দ করেননি। এক জন প্রায় অন্ধ ছাত্রকে তিনি কী করে ছবি আঁকা শেখাবেন, বুঝে উঠতে পারেননি। তবু রবীন্দ্রনাথের অনুরোধে বিনোদকে তাঁর সহপাঠীদের পাশে এককোণে কাগজ, রং, তুলি, জল ও মাদুর দিয়ে যা ইচ্ছে আঁকার  অধিকারটুকু দেওয়া হয়েছিল। নন্দলাল অন্য ছাত্রদের ছবি আঁকায় সাহায্য করলেও বিনোদবিহারীর দিকে ফিরেও তাকাতেন না। কিন্তু তবু তিনি হাল ছাড়েননি। তিনি ছিলেন গুরু নন্দলালের একলব্য। আপন খেয়ালে যা মন চায় তাই আঁকতেন। যেমন শুক্লপক্ষের রাতে বড় একটি কাগজ গাছের তলায় রেখে, তাতে পড়া চাঁদের আলোয় গাছের ছায়া ধরে কাঠকয়লা দিয়ে ছবি আঁকার আশ্চর্য ভাবনা একান্ত ভাবে তাঁরই নিজস্ব ছিল। সকলে যখন ‘রোমান্টিক ও পৌরাণিক ছবি’ এঁকে অসিতকুমার হালদার, নন্দলাল ও অবনীন্দ্রনাথের উত্তরসূরি হয়ে তাঁদের ‘বিদ্যে মারার’ চেষ্টা করছেন, একাকী এক ছাত্র তখন শান্তিনিকেতনের প্রান্তরে নানান দৃশ্য, সাঁওতাল, রুক্ষ দিগন্ত, বিস্তৃত খোয়াই, তালখেজুরের সারির সৌন্দর্যে মগ্ন।  

আর এক ধরনের অভিজ্ঞতাও বিনোদবিহারীকে ঋদ্ধ করেছিল। তা হল, রবীন্দ্রনাথকে জানা। যদিও তাঁর খুব কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ বিনোদবিহারীর বিশেষ হয়নি, তবে বিদ্যালয়ের ছাত্র বা পরবর্তী কালে কর্মী হওয়ার সুবাদে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর প্রায়ই দেখা হত। এখানেও তিনি সেই একলব্য। শান্তিনিকেতন ব্রহ্মচর্যাশ্রম বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথের অনুমতিতে। তার পরে কলাভবনে যোগ দিয়ে তিনি যখন নন্দলালের বিরক্তির কারণ হয়েছেন, একদিন রবীন্দ্রনাথ কলাভবনে এসে নন্দলালকে বলেছিলেন, “যদি ও নিয়মিত আসনে বসে এবং মনোযোগ দিয়ে কাজ করে তবে ওকে স্থানচ্যুত কোরো না। ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা কোরো না। সকলকে নিজের পথ খুঁজে নিতে দাও।” শিল্পীর পথ খুঁজতে রবীন্দ্রনাথই তাঁকে পরোক্ষে সাহায্য করেছিলেন।

দারিদ্র্য আর একাকিত্ব বিনোদবিহারীকে আজীবন ছায়ার মতো অনুসরণ করেছে। শান্তিনিকেতন আবাসিক জীবনেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। তবু তারই মধ্যে তাঁর শিল্পী-পরিচয় নন্দলাল, অবনীন্দ্রনাথ ও রবীন্দ্রনাথ একটু একটু করে পেয়েছিলেন। তাই নন্দলালই একদিন ছাত্র বিনোদকে পাঠিয়েছিলেন কলকাতার জোড়াসাঁকোয়, সেই পর্যায়ে আঁকা তাঁর কিছু ছবি অবনীন্দ্রনাথকে দেখাতে। জোড়াসাঁকোয় গিয়ে তিনি দেখা করেছিলেন তিন ভাই অবনীন্দ্র, গগনেন্দ্র ও সমরেন্দ্রর সঙ্গে। এক সময়ে অবনীন্দ্রনাথ প্রদর্শনীতে তাঁর নিজের ছবির পাশে ছাত্র বিনোদের ছবি ঝুলিয়ে তাঁকে বুঝতে সাহায্য করেছিলেন, কোথায় কোন ত্রুটি রয়েছে। তার পরে অবশ্য অবনীন্দ্রনাথ চিনে ফেলেছিলেন তরুণ এই শিল্পীকে। তাই অবলীলায় বিনোদবিহারীর প্রথম দিকের আঁকা ‘শীতের সকাল’ ছবিটি তিনি প্রবাসীতে ছাপিয়েছিলেন তাঁর ‘ত্রয়ী’ ছবির সঙ্গে। 

শান্তিনিকেতন কখনওই বিনোদবিহারীকে আশ্রয়চ্যুত করেনি। কলাভবনের পর্ব শেষ হওয়ার পরে সহপাঠীরা কেরিয়ার গড়তে শান্তিনিকেতন ছেড়ে চলে গেলেও বিনোদবিহারীর কোথাও যাওয়ার উপায় ছিল না। তাঁকে যুক্ত করে নেওয়া হয়েছিল আশ্রমের গ্রন্থাগারের কর্মী হিসেবে। তাঁর কাজ ছিল লাইব্রেরির বইপত্র গুছিয়ে রাখা। সেই কাজ করতে গিয়ে বিনোদবিহারী পেয়ে গিয়েছিলেন তাঁর অপর ভাল লাগার কাজটি। বই পড়া। আত্মকথায় লিখেছেন, “নন্দলাল না থাকলে আমার আঙ্গিকের শিক্ষা হত না। লাইব্রেরী ছাড়া আমার জ্ঞান আহরণ করা সম্ভব হত না। আর প্রকৃতির রুক্ষ মূর্তি উপলব্ধি না করলে আমার ছবি আঁকা হত না।” 

লাইব্রেরির অজস্র বই বিনোদবিহারীর সামনে নতুন এক দিগন্ত মেলে ধরেছিল। কেবল ছবি আঁকা নয়, সেই সঙ্গে শিল্পের ইতিহাস, দেশ-সমাজ ও মানুষের ইতিহাসকে জানার অদম্য ইচ্ছে পেয়ে বসেছিল তাঁকে। আপন মনে ছবি আঁকতেন আর বই পড়তেন। সবার অলক্ষ্যে নিজেই নিজেকে গড়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করে যেতেন। 

আর ঠিক এই সময়েই রবীন্দ্রনাথের ‘বিশ্বভারতী’ আকার নিতে শুরু করে। ক্রমে আশ্রমে আসতে শুরু করেন দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা মনীষীরা। সিলভা লেভি, মরিস উইন্টারনিৎস, ভিনসেন লেসি, জিসেপ্পে তুচ্চি, আন্দ্রে কারপেলস, স্টেলা ক্রামরিশের মতো পণ্ডিতরা তখন শান্তিনিকেতনে যাতায়াত শুরু করেছেন। এঁদের সঙ্গে কথা বলা ও শিক্ষা নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ সহজেই পেয়ে গিয়েছিলেন বিনোদবিহারী। সবচেয়ে ফলপ্রসূ হয়েছিল স্টেলা ক্রামরিশের সঙ্গে পরিচয়। এঁরা বিনোদবিহারী ও তৎকালীন কলাভবনের ছাত্রছাত্রীদের সামনে এক দিকে যেমন ইউরোপীয় শিল্পের ইতিহাস ও আন্দোলনের দরজা খুলে দিয়েছিলেন,  তেমনই ভারতীয় শিল্পকে বিশ্বের আধুনিক শিল্পের প্রেক্ষিতে রেখে নতুন মননে, নতুন ব্যাখ্যায় হাজির করেছিলেন। এরই সঙ্গে মিলে গিয়েছিল তাঁর শিক্ষাগুরু নন্দলালের শিল্পদৃষ্টি। ঋদ্ধ হয়েছিলেন বিনোদবিহারী। ভারতীয় শিল্পের আধুনিকতার পথ গড়তে তিনি প্রস্তুত হয়েছিলেন তাঁর ছবির মধ্য দিয়ে। 

এরই মধ্যে কলাভবনে নতুন ছাত্ররা এসে যোগ দিচ্ছিলেন। এসেছিলেন রামকিঙ্কর বেইজ, সুধীর খাস্তগীর, সুকুমার দেউস্করের মতো পরবর্তী কালের স্বনামধন্য শিল্পীরা। এই সময়ের ছবি উঠে এসেছে তাঁরই লেখায়, “আমার পুরনো বন্ধুরা তখন কেউই নেই, তাই তখন আমি একা। খোয়াই, সুরুলের শালবন, কোপাইয়ের ধার— এইসব স্থান তখন আমার প্রায় নিত্যসঙ্গী। ছবিও আঁকি এইসব বিষয় অবলম্বনে।”

শান্তিনিকেতনের বাইরে তখন মহাত্মা গাঁধীর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলনে উত্তাল সমস্ত দেশ। সেই উত্তেজনার আগুন যাতে শান্তিনিকেতনেও এসে না পড়ে, তার জন্য যথেষ্ট সাবধান ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। তবু একেবারে আটকানো যায়নি। বিনোদবিহারী খদ্দর পরতে শুরু করলেন। সিগারেট ছেড়ে বিড়ি ধরলেও তার বেশি এগোননি। তিনি ‘নির্লজ্জের মতন’ কেবল ছবি এঁকেই কাটিয়েছেন। লিখেছিলেন, ‘শিল্পী জীবনের পরাকাষ্ঠাই আমার চিরদিনের লক্ষ্য’। তিনি কেবল নিজেকে জানতে চেয়েছেন। তাই বোধ হয় তাঁর প্রিয় রবীন্দ্রনাথের গান ছিল, ‘আপনাকে এই জানা আমার ফুরাবে না’। 

এই জানার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই সময়ে এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটে। যেন নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ। বিনোদবিহারী একখানা কাশফুলের ছবি আঁকছিলেন। ছবি যখন প্রায় শেষ, তখন একদিন ভোররাতে স্বপ্ন দেখলেন, সেই ছবির ‘পৃষ্ঠভুমি আমি লাল রং দিয়ে ভরিয়ে দিচ্ছি’। ঘুম ভেঙে গেল। উঠে পড়লেন। ‘‘ভোরের আলো তখন সবেমাত্র ফুটেছে, ঘরের মধ্যে আবছা অন্ধকার। নিজের আসনে বসে বেশ ভাল করে সিঁদুরে লাল গুললাম। তারপর আলো একটু ফুটে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে রং লাগিয়ে ফেললাম। লাল রং দিয়ে ভরিয়ে ফেললাম ছবির পৃষ্ঠভুমি। সাদা কাশফুল, লাল জমি।’’ সকাল হতেই নন্দলাল সেই ছবি দেখে চমকে উঠলেন। এই ছবিটির নাম ‘লাফটার’। বিনোদবিহারী এত উজ্জ্বল রঙের ছবি আর কখনও আঁকেননি। 

বাতিল এক ছাত্র থেকে ক্রমে মহীরুহে পরিণত হয়ে উঠছিলেন বিনোদবিহারী। তাঁর শিল্প জিজ্ঞাসায় একটা বদল আসছিল। তিনি পাশ্চাত্যের শিল্পভাবনাকে প্রাচ্যের ভাবনার ছাঁকনি দিয়ে বেছে নিয়ে নিজস্ব এক স্টাইলকে খুঁজতে চাইছিলেন। সেই টানেই সম্পূর্ণ নিজের খরচে ১৯৩৬-৩৭ সালে ন’মাস ধরে জাপান ও চিন ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন। জাপানে তাঁর ছবির একটি প্রদর্শনীও হয়। সেখানে কয়েক জন প্রখ্যাত জাপানি শিল্পীর সঙ্গে কথা বলা, কাজ দেখার সুযোগ পান। তাঁর নিজস্ব এক বিশ্বদৃষ্টি গড়ে উঠে। তবে এর আগেই ১৯২৯ সালে তিনি কলাভবনের শিক্ষক নিযুক্ত হন। তিরিশের দশকের গোড়া থেকেই বিনোদবিহারী নতুন মাধ্যমকে বেছে নিয়ে কাজ করতে শুরু করেন। ভিত্তিচিত্র নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা এই সময়ে তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কাজ।

১৯৩৮ থেকে ১৯৪৮... শান্তিনিকেতন বাসের এই পর্বে বিনোদবিহারী এক দিকে যেমন ছাত্রী লীলা মনসুখানিকে বিয়ে করেছেন, তেমনই শান্তিনিকেতনের বিদ্যালয় জীবন ও তার চার দিক নিয়ে তাঁর সেরা ছবিগুলি এঁকেছেন। সন্তোষালয়, শান্তিনিকেতন বাড়ি, কলাভবনের ছাত্রাবাস, পুরনো অতিথিশালা, চিন ও হিন্দিভবনে এমন সব ভিত্তিচিত্র (মুরাল) সৃষ্টি করেছেন, যা পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হিসেবে গণ্য হয়। দুর্ভাগ্য, এই কাজগুলি আজ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হতে বসেছে। 

হিন্দিভবনের ভিত্তিচিত্রটি করার পরে বিনোদবিহারী শান্তিনিকেতনের মায়া কাটিয়ে চাকরি নিয়ে চলে যান নেপালে। সরকারি জাদুঘরের কিউরেটরের পদে যোগ দেন। তাঁর এই যাওয়ার পিছনে রবীন্দ্র-পরবর্তী শান্তিনিকেতনের বদলে যাওয়া পরিবেশ ও তা মানিয়ে নিতে না পারাকেই অন্যতম কারণ বলে মনে করা হয়। নেপালের কারুশিল্পী কুলাসুন্দর শিলাকর্মির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও তাঁর কাজ দেখার অভিজ্ঞতা কারুশিল্প নিয়ে বিনোদবিহারীকে নতুন করে ভাবিয়েছিল। নেপাল পর্বে অনেক ছবিও এঁকেছেন।

এর পরে বিনোদবিহারী পটনা হয়ে চলে যান রাজস্থানের বনস্থলীতে। সেখানে তিনি এমন একটি প্রতিষ্ঠান তৈরির চেষ্টা করেন যেখানে শিল্পী ও কারুশিল্পীরা একযোগে কাজ করবেন। বনস্থালী বিদ্যাপীঠে বিনোদবিহারীর করা ভিত্তিচিত্র আজও আছে। এখান থেকে তিনি আসেন মুসৌরি শহরে, গড়ে তোলেন ‘বিনোদবিহারী মুখার্জি সেন্টার ফর আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট’। যদিও প্রতিষ্ঠানটি সফল হয়নি। জীবিকার সন্ধানে লীলা চলে যান দেহরাদূনের ওয়েলহাম প্রিপারেটরি স্কুলে মেয়ে মৃণালিনীকে নিয়ে। মুসৌরিতে একাই রয়ে যান বিনোদবিহারী। আঁকেন মুসৌরি পর্বের ছবিগুলি। সেখানে ‘ছবি আঁকার অবসর যথেষ্ট কিন্তু রুজি যথেষ্ট নয়’। তাই ‘বেল্ট যখন ঢিলে হয়ে আসছে’ এমন সময়ে ডাক পেয়ে চলে আসেন বিহারের সরকারি চারুকলা বিভাগে। 

বিহারে কাজ করতে করতে বুঝতে পারলেন দৃষ্টির আরও অবনতি ঘটছে। ছবি আঁকতে, বই পড়তে অসুবিধে হচ্ছে। 

১৯৫৭ সালে বিনোদবিহারী দিল্লি গেলেন চোখের চিকিৎসা করাতে। সেখানে ‘মস্ত ডাক্তার’ আশ্বাস দিলেন। কিন্তু অপারেশন টেবিলে শুয়ে বিনোদবিহারী অনুভব করলেন, চোখের বাঁ দিক থেকে ডান দিকে কাঁচি বা ছুরি কিছু একটা এগিয়ে যাচ্ছে। তার পরে শুনতে পেলেন ডাক্তারের সহকারী বলছেন, “স্যার এ কী করছেন?” মস্ত ডাক্তারের উত্তর এল, “উই আর ইন ডিপ ডিফিকাল্টি বিনোদবাবু, প্রে টু গড।” কয়েক দিন হাসপাতালে কাটিয়ে স্ত্রী লীলার হাত ধরে সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে বিনোদবিহারী বাড়ি ফিরেছিলেন আলোর জগতে অন্ধকারের প্রতিনিধি হয়ে। সেই সময়টা ছিল বিনোদবিহারীর শিল্পী জীবনের মধ্যগগন। 

বিনোদবিহারী কী ভাবে তাঁর এই অন্ধত্বকে জয় করেছিলেন, তার আশ্চর্য ইতিবৃত্ত লিখে গিয়েছেন আত্মজীবনীতে। সেখানে তিনি তাঁর নিয়তির সামনে মৃত্যুর আহ্বানকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে জানাচ্ছেন, ‘এখনো অনেক কাজ বাকি’। শাশ্বত সৃষ্টিতে তিনি মগ্ন। তাই তিনি কোথাও নড়বেন না। এই জয় সম্ভব হয়েছিল শান্তিনিকেতনের কলাভবনে ‘এমিরিটাস প্রোফেসর’ হয়ে ফিরে আসার পরে। কলাভবন চত্বরে পেন্টিং স্টুডিয়োর দেওয়ালে আজও রয়েছে তাঁর শেষ ভিত্তিচিত্র। বিশ্বভারতী তাঁকে তাদের সর্বোচ্চ সম্মান ‘দেশিকোত্তম’ ও ভারত সরকার ‘পদ্মবিভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত করেছিল।

 দৃষ্টিহীন জীবনে স্ত্রী ও কন্যা মৃণালিনী সর্বদা পাশে থেকেছেন। ছিলেন কলাভবনের শিক্ষক ও ছাত্ররা। ছবি আঁকা থামাননি। স্কেচ করেছেন অসংখ্য। নিয়মিত চিঠি লিখেছেন। রঙিন কাগজ কেটে তৈরি করেছেন অপূর্ব সব ছবি। ডিক্‌টেশন দিয়েছেন ‘চিত্রকর’, ‘কত্তামশাই’, ‘কীর্তিকর’ ও ‘শিল্প-জিজ্ঞাসা’র মতো লেখার। তাঁর সাহায্যকারী শীলা সিংহরায়ের কাছ থেকে জানা যায়, বিনোদবিহারী গন্ধরাজ আর সাদা ফুল পছন্দ করতেন। “বেলি, গন্ধরাজ, জুঁই, দোলনচাঁপা সাজিয়ে রাখতাম। তারপর হাত দিয়ে আলতোভাবে ফুল ও পাতা স্পর্শ করে অনুভব করতেন। এরপর সেগুলো নিজেই টেবিলে ছড়িয়ে দিতেন। ফুল ও পাতার ফাঁকে ফাঁকে যে খালি জায়গা থাকত তা তিনি আঙুল দিয়ে দেখতেন। আমি কৌতূহলবশত জানতে চেয়েছিলাম, এইভাবে আপনি কী দেখেন? বলেছিলেন, ‘আমি দেখি নেগেটিভ স্পেস। শিল্পকর্মে এই নেগেটিভ স্পেসের একটা বিরাট গুরুত্ব রয়েছে।’” এই নেগেটিভ স্পেসকে বিনোদবিহারী তাঁর শিল্পকীর্তিতে বা জীবনে কোনও দিন ঠাঁই দেননি।  

১৯ নভেম্বর ১৯৮০। দিল্লির একটি নার্সিংহোমে বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু হয়। 

 

ঋণ স্বীকার: ডাঃ দেবাশিস ভট্টাচার্য, রমন শিবকুমার, মৃণালিনী ট্রাস্ট, আনন্দবাজার আর্কাইভ