সবুজের ছোঁয়া


জায়গা তো নেই-ই, অভাব সময়েরও। তবু মন চায়, ঘরে থাকুক একটু সবুজ। এ ক্ষেত্রে মুশকিল আসান হয়ে দেখা দিতে পারে স্প্যাতিফেলাম। খটোমটো নাম হলেও গাছটি ঘরে রাখা কিন্তু একদমই ঝক্কির নয়। লম্বাটে, চকচকে পাতার গাছটি আদতে দক্ষিণ আমেরিকার বৃষ্টি অরণ্যের বাসিন্দা হলেও এর কদর বিশ্ব জুড়েই। গাঢ় সবুজ পাতার সঙ্গে দুধসাদা ফুলের বৈপরীত্যে গাছটি দৃষ্টিনন্দন। ফুল তাজা থাকে ২-৩ সপ্তাহ। সাদা ফুলের জন্যই এ গাছের অন্য নাম পিস লিলি। নাসার একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই গাছ ঘরের ভিতরে রাখলে বিশুদ্ধ থাকে বাতাসও।

 

যত্ন কী ভাবে

• ঘরের মধ্যেই ভাল থাকে স্প্যাতিফেলাম। বারান্দা বা জানালার পাশে অল্প রোদেও রাখা যেতে পারে। তবে বেশি রোদ চলবে না একেবারেই।

•  রোজ জল দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। মাটি একটু শুকিয়ে এলে ফের জল দিন। সপ্তাহে দু’-তিন বার জল দেওয়াই যথেষ্ট। মাঝেমাঝে স্প্রে করে পরিষ্কার করে দিন গাছের পাতার ধুলো।

•  টবে ভাল মাটি দিয়ে বসান। বসন্ত ও গরমকালে বেশি ফুল ফোটে, তাই শীতের শেষে জৈব সার দিতে পারেন। এ ছাড়াও বছরে কয়েক বার সার দিন।

• গাছ ঝিমিয়ে পড়লে বা পাতা খয়েরি হয়ে যেতে থাকলে, বুঝতে হবে, মাটিতে জল বেশি হয়ে শিকড়ে পচন ধরেছে। অতিরিক্ত রোদে পাতার রং বিবর্ণ হয়ে যায়।

বসাবেন কীসে

ঘরে রাখার জন্য সেরামিকের রঙিন টবে বসাতে পারেন এই গাছ। যে কোন উজ্জ্বল রঙের টবের সঙ্গে মানাবে ভাল। ব্যবহার করতে পারেন সাদা রঙের টবও। বারান্দায় রাখলে মাটির টবও চলতে পারে।

 

রাখবেন কোথায়

বসার ঘরে সোফা, ডিভানের পাশে বা সিঁড়ির ল্যান্ডিং... স্প্যাতিফেলাম রাখতে পারেন সব জায়গাতেই। মেঝেতে বা সুদৃশ্য রট আয়রন স্ট্যান্ডের উপরে রাখুন টবগুলি। রান্নাঘরে বা স্নানের ঘরে বেসিন কাউন্টারেও মন্দ লাগবে না। বেশি জায়গা থাকলে সারি দিয়ে একাধিক গাছ রাখুন।

প্রজাতি ভেদে ১৫ ইঞ্চি থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে স্প্যাতিফেলাম। ঘরে রাখার জন্য ছোট গাছই ভাল, তবে জায়গা থাকলে চলতে পারে বড় প্রজাতির গাছও। পাতায় সাদা ডোরাওয়ালা ভেরিগেটেড স্প্যাতিফেলামের খোঁজও করতে পারেন নার্সারিতে।