উজ্জীবনের নানা চরিত্র


উনিশ শতকের বাংলা ও বাঙালি/ প্রসঙ্গ ব্রাহ্মসমাজ

গৌতম নিয়োগী

৩৫০.০০ 

অভিযান পাবলিশার্স

 

‘‘ব্রাহ্মসমাজ যেমন পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে শ্রদ্ধা করতেন, তেমনি বিদ্যাসাগরও ব্যক্তিগত ভাবে বহু ব্রাহ্মকে খুবই পছন্দ করতেন।’’ বিশেষ করে ‘তত্ত্ববোধিনী সভা’য় বিদ্যাসাগরের সক্রিয়তা, ‘তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা’ প্রকাশে তাঁর সহায়তা বিশেষ উল্লেখযোগ্য। ব্রাহ্ম নেতা দুর্গামোহন দাস, রাজনারায়ণ বসু কি শিবনাথ শাস্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল। আবার বঙ্কিমচন্দ্রের সঙ্গে তো আদি ব্রাহ্মসমাজের রীতিমতো মসীযুদ্ধই হয়েছিল, দ্বিজেন্দ্রনাথ-রাজনারায়ণ-রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত কলম ধরেছিলেন বঙ্কিমের বিপক্ষে। শিবনাথ শাস্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর সুসম্পর্ক ছিল না। তবে সহপাঠী কেশবচন্দ্র কি প্রতাপচন্দ্র মজুমদারের সঙ্গে যথেষ্ট হৃদ্যতাই ছিল তাঁর। অন্য দিকে, ‘‘ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজই তখনকার কলকাতার শিক্ষিত মধ্যবিত্ত মানুষদের সামনে দক্ষিণেশ্বরের কালীসাধক রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে তুলে ধরে পরিচয় করিয়েছিলেন।’’ প্রায় সাড়ে চার দশক ধরে ব্রাহ্ম আন্দোলনের নানা দিক নিয়ে গবেষণা করছেন গৌতম নিয়োগী। তা থেকেই চৌদ্দটি প্রবন্ধ এখানে সঙ্কলিত। আছে রামমোহন (৪টি প্রবন্ধ ও ৩টি পরিশিষ্ট), দেবেন্দ্রনাথ ও কেশবচন্দ্র-প্রসঙ্গ, নারীশিক্ষা আন্দোলনে ব্রাহ্মসমাজের ভূমিকা, বঙ্কিম-বিদ্যাসাগর-রামকৃষ্ণ কি ডিরোজিয়ানদের সঙ্গে সম্পর্ক, শ্রীচৈতন্য ও বৈষ্ণব ধর্মের প্রভাব, সমাজসংস্কার ও মানবসেবা ইত্যাদি বিবিধ প্রসঙ্গ। উনিশ শতকের বহুবিতর্কিত উজ্জীবনের নানা চরিত্র পাঠকের চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।     

 

এক অখ্যাত আমলার আত্মদর্শন

দীপঙ্কর মুখোপাধ্যায়

৩৫০.০০ 

   ঋত প্রকাশন

                      

যে কোনও আখ্যানেরই অন্বিষ্ট আসলে ব্যক্তিমানুষ। সময় সমাজ ইতিহাস নয়। কিন্তু সে-ব্যক্তি কখনওই ‘ব্যক্তি’ হয়ে ওঠে না, বা তার ব্যক্তিত্বের বিবরণ অপূর্ণ থেকে যায়, যতক্ষণ না সে-ব্যক্তি সময় সমাজ ইতিহাস-এর অবিরত দিকবদলে স্নাত হয়ে ওঠে। সদ্য-পরাধীনতামুক্ত দেশ যখন গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে, সেই সন্ধিক্ষণে জন্মানো এই লেখকের আত্মকথন কখনওই একাকী কলমে আটকে থাকেনি, ফেলে-আসা সময় আর সমাজের স্মৃতিতে ফিরতে-ফিরতে ফের চিনতে শেখায় ইতিহাসকে। যেমন নির্মলকুমার মুখোপাধ্যায়, ভারতের শেষ আইসিএস অফিসার, এই প্রবাসী বঙ্গসন্তান ছিলেন অসম্ভব সৎ বেপরোয়া। ১৯৭৫, ২৬ জুন জরুরি অবস্থা ঘোষণার দিন সকালেও তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব... ‘‘শ্রীমতী গান্ধি সচিবদের জরুরি অবস্থায় তাঁদের কী করণীয় বোঝাচ্ছিলেন, মুখার্জি সাহেব দুম করে বলে বসেছিলেন— Madam, just because you have lost a court case, why should the entire country suffer?’’ এক ঘন্টার মধ্যে নির্মলবাবুকে অসামরিক বিমান-চলাচলের সচিব করে সরিয়ে দেওয়া হল। এ ভাবেই উঠে আসে: চাসনালা কয়লাখনির ছাদ ভেঙে জল ঢোকার পর ‘হাহাকার, স্তূপীকৃত মৃতদেহ, অসহায় নির্বাক নারী-পুরুষের চোখ—’। কিংবা ইন্দিরা গাঁধীর হত্যার ‘পরপর তিন দিন ভারতের রাজধানীতে ব্যাপক গণহত্যা...’। কেন্দ্রীয় তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রকের এক প্রাক্তন আমলার স্মৃতিগদ্যে এই দেশটার গত শতকের দ্বিতীয়ার্ধের কত-না বাস্তব, পড়তে-পড়তে মনে হয় অলীক স্বপ্ন যেন সব!

 

গীতিকার শব্দকোষ

জয়ন্ত বিশ্বাস

২৫০.০০ 

     অক্ষর প্রকাশনী       

ইংরেজি Ballad-এর প্রতিশব্দ গীতিকা হলেও এদের মধ্যে পার্থক্য বিস্তর। বাংলা গীতিকা সাধারণত কাহিনি নির্ভর। প্রেম, বিরহ, মিলনের সমন্বয়ে গঠিত। Ballad সাধারণত আখ্যানমূলক, এবং বৈচিত্রে ভরা ঘটনায় সংহত ও দৃঢ়পিনদ্ধ। মূলত এগুলো গীত হওয়ার জন্যই রচিত হয়। এখানেই বাংলা গীতিকা ও ইংরেজি Ballad-এর তফাত। বাংলা গীতিকা লোকসাহিত্যের ভাণ্ডারে আজ অমূল্য সম্পদ। গীতিকা লোকায়ত জীবনের গীতময় প্রকাশ। লোকজীবনের সুর তাল লয় ছন্দ লেগে আছে প্রতিটি শব্দের শরীরে। যে হেতু গীতিকাগুলো আঞ্চলিক প্রভাবপুষ্ট, তাই ভৌগোলিক বিভাজন সম্মিলিত বিচিত্র বুলির অর্থ ও বাগ্‌ভঙ্গির মধ্য দিয়ে আঞ্চলিকতার স্বরূপকে চিনিয়ে দিয়েছে আলোচ্য বইটি। শব্দগুলো কী ভাবে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবর্তিত রূপ পরিগ্রহণ করেছে, সে দিকেও দৃষ্টি দিয়েছেন গ্রন্থকার। গীতিকা-র রচয়িতারা অজানা অবলুপ্তপ্রায় বাংলা ভাষাকে ব্যবহার করেছেন। সে সব শব্দের অর্থ আজ অজ্ঞাত। বইটিতে সে সব শব্দের বিশেষ্য, বিশেষণ, ক্রিয়া-বিশেষ্য, অব্যয়জাত শ্রেণি বিভাগ করে গীতিকা থেকে উদাহরণ দিয়ে দেখানো হয়েছে। দু’একটি দৃষ্টান্ত দিলেই বোঝা যাবে— ‘হেরেদি’ শব্দটির অর্থ ফাঁকে— ‘বেড়ার হেরেদি নুর ফুইক্যা মারি চায়।’, ‘সাইরবাসী’র অর্থ প্রতিবেশী— ‘সাইর বাসীর সঙ্গে রঙ্গে খলখল।’, ‘মামানী’ শব্দটির অর্থ হল মামাতো— ‘দেওয়ানের মামানী ভাই যাইব রণেরে।’ নিঃসন্দেহে কাজটি অত্যন্ত পরিশ্রমী।