সম্পর্ক

ছবি: কুনাল বর্মণ

যদি ভেবে থাকেন আপনার আর প্রার্থনার প্রেমের কথা আপনার স্ত্রী তৃষা জানে না, তা হলে ভুল ভাবছেন। প্রার্থনার আগে আপনি কিছুদিন সঙ্ঘমিত্রার সঙ্গে ঘোরাঘুরি করেছেন। তারও আগে অদিতির সঙ্গে। মাঝে তন্নিষ্ঠার সঙ্গে আপনার খুচরো সম্পর্ক হয়েছিল। তন্নিষ্ঠার স্বামী সন্দেহ করায় আপনি সরে আসেন। তৃষার কাছে কিন্তু এ সব খবরই আছে।

নিশ্চয়ই ভাবছেন শিলিগুড়িতে বসে তৃষা এত খবর পাচ্ছে কী ভাবে? তবে এটা আপনার ভারী ছেলেমানুষি ভাবনা। এখন তো জানাজানিরই যুগ। টিভি চ্যানেল থেকে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট, সবাই তো জানানোর জন্য উন্মুখ। সব সময় সব জায়গায় খবর দেওয়া-নেওয়া চলছে। আপনিও কি কলকাতার বাঁশদ্রোণীর ফ্ল্যাটে বসে জানতে পারছেন না, তৃষা গত মাসে প্রিয়ব্রতর সঙ্গে দার্জিলিং ঘুরে এসেছে? শুধু প্রিয়ব্রত তো নয়, এর আগে আদিত্য বলে একটি ছেলের শিলিগুড়ির সুভাষপল্লির বাড়িতেও যে তৃষা নিয়মিত যেত, সেটাও আপনি জানেন।

না না, উত্তেজিত হবেন না। মানছি, সাত বছরের প্রেমিকা আর পাঁচ বছরের স্ত্রী আপনার পৌরুষের বেলুনে পিন ফুটিয়েছে। কিন্তু ভেবে দেখুন, পালটা অভিযোগও উঠতে পারে, আপনার এত পরকীয়া সম্পর্ক তৃষার নারীত্বকে অপমান করেছে। যাক বাদ দিন ওই সব পৌরুষ, নারীত্ব, পরকীয়া, অপমানের মতো গেরামভারী শব্দ। শুনলেই মনে হয়, বাংলা সাহিত্যের নোট্স লেখা হচ্ছে। আপনি তো আর বাংলা সাহিত্যে পিএইচ ডি করতে চাইছেন না। আপনি করতে চাইছেন তৃষার সঙ্গে এসপার-ওসপার। আর সেই উদ্দেশ্যে ঘুরতে আসার ছুতোয় ত়়ড়িঘড়ি তৃষাকে নিয়ে সুনতালেখোলা এসেছেন। কটেজে জায়গা পাননি। লাক্সারি টেন্ট বুক করেছেন।

আজই দুপুরে আপনারা দু’জনে এসে উঠেছেন তাঁবুতে। গোড়ার দিকে আপনার মন খুঁতখুঁত করছিল। সুনতালেখোলায় আপনি আগেও এসেছেন। কিন্তু তাঁবুতে থাকেননি। তা ছাড়া সেটাও প্রায় বছর দশেক আগে। তখন তৃষা সঙ্গে ছিল না। বন্ধুরা মিলে ঘুরেছিলেন। তাই তাঁবুতে থাকা আদৌ ঠিক হবে কি না আপনি বুঝতে পারছিলেন না। তৃষা না জানলেও আপনি তো জানেন, এ ঘোরা নিছক ঘোরা নয়। আপনার মাথায় অন্য ছক কাজ করছে।

তবে এখানে আসার পর অবশ্য আপনাদের মন ভাল হয়ে গিয়েছে। তিরতির করে বয়ে যাচ্ছে সুনতালেখোলা নদী। গোড়ালি ডোবানো জল। নদীর ওপর সরু সাঁকো। আর সাঁকো পেরিয়ে সার-সার তাঁবু। এক পাশে ক্যান্টিন। সেটাও ভারী ছিমছাম। খোলামেলা। আপনাদের তাঁবুর সামনে আবার চমৎকার বারান্দা রয়েছে। নদীর কাছ ঘেঁষে সেই বারান্দায় বসলে পাহাড়, বড়-বড় গাছে ঢাকা গ্রামটার অনেকটা দেখা যায়।

দুপুরবেলা জায়গাটা ছবির মতো সুন্দর। কত ধরনের পাখি ওড়াওড়ি করছে। অন্য তাঁবুগুলো ফাঁকা থাকলেও কর্মচারীরা ছিল। স্থানীয় মানুষজন, টুরিস্টদের দূরের রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে দেখছিলেন আপনারা। তবে আপনি এখানে এসেই তৃষার সঙ্গে মুখোমুখি বসতে চাননি। সারা রাত ট্রেন জার্নি করেছেন, তার ওপর নিউ মাল জংশন থেকে গাড়ি করে আসা— আপনি বড়ই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তৃষাকে জেরা করার মতো মানসিক অবস্থা আপনার একেবারেই ছিল না। তাই জামাকাপড় বদলে, হাত-মুখ ধুয়ে আপনি আগে খেয়ে নিলেন। তার পর গভীর ঘুম।

এখন সন্ধেবেলা ঘুম থেকে উঠে আপনি টের পেলেন, জায়গাটা পুরোপুরি পালটে গিয়েছে। নদীর শব্দ ছাড়া চারপাশে আর কোনও শব্দ নেই। ক্যান্টিনে এক-আধজন থাকলেও বাকি জায়গা শুনশান। শুধু থোকা-থোকা অন্ধকার। আর অন্ধকারে মাঝে-মাঝে রাস্তা, নদীর ধারের পোস্টের আলো চৌকো আকৃতি নিয়ে ছড়িয়েছে। এ ভাবে আলো আর অন্ধকার অদ্ভুত নকশা বুনেছে আপনার তাঁবুর সামনে।

বারান্দা অবশ্য অন্ধকার। তৃষা সেখানে একটা চেয়ারে এলিয়ে। পাশের ছোট টেবিলে খালি চায়ের কাপ রাখা। আপনার খেয়াল হল, এই সময় কলকাতা শহরে আলো ঝলমল করছে। এই ভাবনা থেকেই আপনার হাত তাঁবুর দেওয়ালে ঝোলানো সুইচবোর্ডের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু আপনি আলো জ্বালানোর আগেই তৃষা বলে উঠল, ‘‘অনেক তো আলোয় থাকো। এ বার একটু অন্ধকারকে কাছে আসতে দাও না!’’

আপনি থমকে গেলেন। আলো না জ্বেলেই তৃষার পাশের চেয়ারে বসলেন। এমন পরিবেশে আপনার অস্বস্তি হচ্ছে। এক বার তাকালেন তৃষার দিকে। কিন্তু তৃষার মুখে কোনও আলো নেই। আপনি কী বলবেন ভেবে উঠতে পারছেন না। এক বার ভাবলেন, এক্ষুনি আসল প্রসঙ্গ তোলার প্রয়োজন নেই। হাতে আরও দু’দিন আছে। আর একটু জিরিয়ে, সময় নিয়ে কথা বলা যাবে। ঠিক তখনই আপনার খেয়াল হল প্রিয়ব্রত আর আদিত্যর ব্যাপারে। মনে পড়ল, গত মাসে এ ভাবে প্রিয়ব্রতর সঙ্গে দার্জিলিং গিয়েছিল তৃষা।

আপনি সোজা হয়ে বসলেন।

কিন্তু আপনি প্রসঙ্গ তোলার আগে তৃষা হাঁক দিল, ‘‘কুমারজি, দো কাপ চায়ে। অউর চিকেন পকোড়া।’’

ক্যান্টিন থেকে জবাবে ভেসে এল নেপালি টানের হিন্দি, ‘‘জি মেমসাব।’’

তৃষা আর কোনও কথা বলল না। তবু ওই আচমকা চিৎকারে আপনার ভাবনাগুলো দমকা হাওয়ায় এলোমেলো হয়ে যাওয়া কাগজের মতো ছত্রখান হয়ে গেল। আপনি ভাবনাগুলো কাগজেরই মতো কুড়িয়ে-কুড়িয়ে পর পর সাজাতে থাকলেন।

এমন সময় শুনতে পেলেন নদীর শব্দ ছাপিয়ে তৃষা বলছে, ‘‘কত দিন বাদে এ ভাবে এলাম। মনে আছে, আগে এক বার শঙ্করপুর গিয়ে হোটেলের বারান্দায় বসেছিলাম? সে বারও বারান্দা থেকে সমুদ্র দেখা যাচ্ছিল।’’

আপনি তাকালেন তৃষার দিকে। বোঝার চেষ্টা করলেন, ও কী বলতে চাইছে। কিন্তু তৃষার মুখ তলিয়ে আছে অন্ধকারে। শুধু ওর অবয়ব দেখে বোঝা যাচ্ছে, তৃষার মুখ নদীর দিকে ফেরানো। তৃষাকে দেখতে-দেখতে আপনি হঠাৎ টের পেলেন, বারো বছর উজিয়ে এসেও ওর অবয়ব একই আছে। এই বারো বছরে তৃষার শরীর ভারী হয়েছে। সিঁথির কাছে চুল পাতলা। ত্বকও আগের মতো মসৃণ নেই। তৃষাকে দেখলে বলে দিতে হয় না, ও পুরনো হচ্ছে। তা হলে তৃষার অবয়ব কী ভাবে একই থাকে? নাকি অন্ধকারে আপনারই কোথাও ভুল হচ্ছে!

এ বার আপনি নিজেকে সামলে নিলেন। এলোমেলো ভাবনা আবার সংহত। সব দিক গুছিয়ে আপনি মূল প্রসঙ্গে ঢুকতে যাবেন, এমন সময় কুমারজি একটি ট্রে হাতে বারান্দায় উঠে এল। ট্রে-তে ধোঁয়া ওঠা দু’কাপ চা। আর চায়ের গন্ধ ছাপিয়ে আপনার নাকে ঝাপটা দিল গরম-গরম চিকেন পকো়ড়ার গন্ধ। আপনাদের দু’জনের মাঝখানে ট্রে রেখে কুমারজি ফের নিঃশব্দে ফিরে গেল ক্যান্টিনে। আপনি প্রথমেই একটা চিকেন পকোড়া তুলে কামড় দিয়েই লাফিয়ে উঠলেন। পকো়ড়াটা জ্বলন্ত কয়লার টুকরোর মতো গরম।

তৃষা চায়ের কাপ তুলে আলতো চুমুক দিল। বলল, ‘‘সাবধানে!’’

আপনি সেই কথায় আমল দিলেন না। একে মুখের ভিতর অমন জ্বলন্ত পকোড়া, তার ওপর যে প্রয়োজনে এসেছেন, তাতে বারবার বাধা পড়ছে। দুয়ে মিলিয়ে আপনার মেজাজও পকোড়াটার মতোই হয়ে উঠল। এত প্রস্তুতি, সময় এবং আরও যা যা হিসেব আসার আগে করে রেখেছিলেন, সব ছুড়ে ফেলে কোনওমতে পকোড়াটা গিলে আপনি সটান বলে উঠলেন, ‘‘ক’দিন ধরে তোমায় একটা কথা জিজ্ঞেস করব ভাবছিলাম। সেটা হল, এখন ক’জনের সঙ্গে তোমার অ্যাফেয়ার চলছে বলো তো?’’

এই পরিবেশে আচমকা আপনার এমন প্রশ্নে কি তৃষা ঝাঁকুনি খেল? তৃষার চারপাশে জমে থাকা অন্ধকার কি নড়েচড়ে উঠল? আপনি ভাল করে বুঝতে পারলেন না। তবে আপনার প্রশ্ন শুনে তৃষা চুপ করে থাকল। কোনও জবাব দিল না।

তৃষার নীরবতায় আপনি সামান্য উসখুস করলেন। কিন্তু কত ক্ষণ আর এ ভাবে বসে থাকা যায়! আপনি যখন প্রায় ধরেই নিয়েছেন তৃষা কোনও উত্তর দেবে না এবং আপনিই আবার অন্য দিক থেকে প্রশ্নটা করবেন, ঠিক তখনই তৃষা বলে উঠল, ‘‘দু’জন।’’

তৃষার এমন সহজ স্বীকারোক্তির জন্য আপনি প্রস্তুত ছিলেন না। আপনি ভেবেছিলেন, ঘটনাটা খুব নাটকীয় ভাবে ঘটবে। তৃষা নিশ্চয়ই গোড়াতে অস্বীকার করবে। কিংবা হয়তো অবাক হওয়ার ভান করে জানতে চাইবে, এমন প্রশ্নের মানে কী? আর আপনিও যুক্তি এবং তথ্য দিয়ে একটু-একটু করে ওকে ঘিরে ফেলবেন। সোজা কথায় কাজ না হলে আপনার সাইডব্যাগের চেনে রাখা পলিথিনের প্যাকেটটা বের করবেন। আলো জ্বেলে একে-একে প্রমাণ রাখবেন টেবিলে।

কিন্তু তৃষা কথাটা বলতেই আপনি কেমন থতমত খেয়ে গেলেন। সেই সঙ্গে যেন উপলব্ধি করলেন, ওই আলো-অন্ধকারটা নিছক নকশা নয়, একটা দাবার খোপ। আপনারা দু’জন ওই খোপে ঢুকে পড়েছেন। এখন আর আলো জ্বেলে ঘুঁটি উলটে দিয়ে জেতা যাবে না। পরের দান দিতে হবে।

অতএব আপনি যখন আবার জেরা করতে যাচ্ছেন, তখন তৃষাকে ঘিরে থাকা অন্ধকারটাই যেন বলে উঠল, ‘‘তোমার সঙ্গে ক’জনের চলছে?’’

আপনি ধরতে পারলেন, তৃষা নৌকো এগিয়ে দিয়েছে। এই চালের জন্য আপনি তৈরি ছিলেন কি? চায়ের কাপ ধরতে গিয়েও আপনার হাত যে ভাবে পিছিয়ে এল তাতে মনে হল, এ বার আপনিও খানিক ক্ষণ চুপ করে পরের চাল ভাবছেন। তবে সেটা কোনও ধরা পড়ে যাওয়ার অপরাধবোধে নয়। আপনাকে আগেই জানিয়েছি যে তৃষা সব জানে। আপনি ভাবছেন, কার-কার সম্পর্কে তৃষা কত দূর জানে। আর কী কী প্রমাণ ওর ব্যাগের খোপে রাখা। মানে আপনি হিসেব কষছেন, কার সম্পর্কে কতটা কবুল করবেন।

শেষ পর্যন্ত আপনি নৌকোর সামনে একটা বোড়ে এগিয়ে দিলেন। বললেন, ‘‘আপাতত এক জন। তবে আগে আরও ছিল।’’

তৃষা হাসল। বলল, ‘‘তোমার বয়স হচ্ছে।’’

আপনি চায়ের কাপ নিয়ে তাতে চুমুক দিলেন। একটু কি হালকা লাগছে? গত তিন-সাড়ে তিন বছর ধরে যে গোপনীয়তায় পুরো বিষয়টা সামলেছিলেন, সেটার ভার নামতে কি স্বস্তি পেলেন? কিন্তু এই ফুরফুরে ভাব বেশি ক্ষণ থাকল না। আপনি বুঝতে চাইলেন, পুরো বিষয়টা কোথায় গিয়ে দাঁড়াল। এখনও কেন গলা চ়়ড়ানো কিংবা হিসহিসে ঝগড়া শুরু হল না?

কিন্তু নদীর শব্দ ছাড়া আপনাদের মাঝখানে আর কোনও শব্দ নেই।

এ ভাবে কত ক্ষণ আপনারা বসে থেকেছেন, আপনার খেয়াল নেই। হঠাৎ তৃষা বলে উঠল, ‘‘প্রথম-প্রথম তোমার বিভিন্ন রিলেশনশিপের খবর জানতে পারলে কষ্ট হত। আদিত্যর সঙ্গে আমার হালকা সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর অদ্ভুত অপরাধবোধ কাজ করত। ভাবতাম, আমরা শুধু দূরে চাকরি করছি না, আমাদের মধ্যেও দূরত্ব এসে গিয়েছে। না হলে এ ভাবে অন্যরা মাঝখানে ঢুকছে কী ভাবে?’’

তৃষা থামল। আপনি কি কিছু বলতে চাইছেন? তৃষার কথায় কি আপনার কথাগুলো ভেসে যাচ্ছে?

তৃষা আবার বলতে শুরু করল, ‘‘কিন্তু এর পর যখন কলকাতায় ফিরতাম, বাঁশদ্রোণীর ফ্ল্যাটে কয়েক দিনের জন্য দু’জনে এক সঙ্গে কাটাতাম, দেখতাম কী ভালই না লাগছে! বুঝতে পারতাম, তোমারও ভাল লাগছে। তখন একটা প্রশ্ন খুব তাড়া করত, আমরা কি একে-অন্যকে ঠকাচ্ছি? তা হলে কেন পরস্পরের কাছাকাছি এলে এত আনন্দ হচ্ছে? আর এই ভাবে আমি এক দিন বুঝতে পারলাম, যে সব ছোট-ছোট সম্পর্কে আমরা জড়িয়েছি, এই সম্পর্কগুলো কোনওটাই থাকবে না। আদিত্যর সঙ্গে আমার আজকাল তেমন দেখাই হয় না। তুমিও তো সঙ্ঘমিত্রাকে ছেড়ে এখন প্রার্থনার সঙ্গে সময় কাটাও। খেয়াল আছে, এক বছর আগেও সঙ্ঘমিত্রাকে নিয়ে কী পাগলামি করেছ? কিন্তু এই ছোট-ছোট সম্পর্কগুলোই আমাদের সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রেখেছে। এগুলো আছে বলেই আমরা একে-অপরের কাছে পুরনো হয়ে যাইনি। আজও আমরা পরস্পরকে ভালবাসি। কোনও সম্পর্কই তাই আমার কাছে খারাপ কিংবা ফ্যালনা নয়। এই মহাবিশ্বেও তো সব কিছু পারস্পরিক সম্পর্কের ওপরেই চলছে।’’

তৃষার কথা ফুরলো। আপনি চুপ করে বসে। সুনতালেখোলার স্রোতের মতো সময় গড়িয়ে যাচ্ছে। আলোছায়ারাও নিশ্চল। আর নিশ্চল আলোছায়া দেখতে-দেখতে আপনি অনুভব করলেন, যেটাকে দাবার খোপ ভেবেছিলেন, সেটা দাবার খোপ নয়। ওই আলোছায়ার মাঝে তৃষার বলা মহাবিশ্ব নেমে এসেছে। এই নদী, পাহাড়, বড়-বড় গাছ, অন্ধকার, আকাশ— সব মিলেমিশে পরস্পরকে জড়িয়ে। সবের সঙ্গে জড়িয়ে আপনারাও। এই সম্পর্কে মিশে একাকার হয়ে গেছে শিলিগু়ড়ি-কলকাতা-প্রেম-দাম্পত্য।

আপনার মনে পড়ছে অনেক কথা। আপনি বলতেও চাইছেন। সেই জন্য হাত বাড়িয়ে তৃষার হাত ধরলেন। আপনার হাতে জড়িয়ে গেল তৃষার হাত। চারপাশে তখন কেউ নেই। কিছু নেই। কিংবা সবই আছে।