Anandabazar Patrika Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading Newspaper

অবলম্বন

ছবি: বৈশালী সরকার

আচ্ছা, এটা আপনি কোথা থেকে কিনেছেন?’’ বড় রাস্তা থেকে বারান্দার মধ্যে দৃষ্টি চালিয়ে জানতে চাইলেন ভদ্রলোক। রংটা শ্যামলা। বয়স বছর ষাট হবে। রোগা চেহারা বলে ষাটের চেয়ে কম মনে হচ্ছে।

সকাল ছ’টা থেকে সাতটা, এই সময়টুকু মন্দিরা বারান্দায় বসে চা-বিস্কুট খান। চাকরি জীবনে এটুকু অবসরও ছিল না। সাত মাস হল স্কুলের চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। পূর্ব দিকে বড় রাস্তা আর উত্তরে এ পাড়ায় ঢোকার পথ। সে নিরিখে মন্দিরার দু’কামরার একতলা বাড়িটাই পাড়ার প্রথম বাড়ি।

মন্দিরা মৃদু হেসে বললেন, ‘‘ও। এই অ্যাক্রলিক শিট-টা? ওটা আলমারি করার সময় কেনা হয়েছিল। ওটুকু আর কাজে লাগেনি।’’ এত ক্ষণে মন্দিরার মনে হল মানুষটাকে মাঝেমধ্যেই দেখেন। পাড়ার ভিতর এখন কত যে নতুন নতুন বাসিন্দা। কাউকেই চেনেন না। লোকটা খানিক ইতস্তত করে বলল, ‘‘আমার একটা ভাঙাচোরা সেগুন কাঠের টেবিল আছে। নিজেই ওটা মেরামত করেছি। উপরটায় এমন একটা নীল-সাদা লতাপাতা অ্যাক্রলিক শিট লাগিয়ে দিলে মন্দ হয় না।’’ মন্দিরার মনে হল বাহ্‌, দারুণ কাজের লোক তো!

কথায় কথায় বললেন ভদ্রলোক, কলের পাইপ, লাইনের কাজ, পাম্প সারানো, রাজমিস্ত্রির গাঁথনির কাজ, দরজা জানালা ফার্নিচার বানানো এমনকি পেন্টিং, সফ্‌ট ডল মেকিং-ও পারেন। আর্মিতে থাকাকালীন পায়ে গুলি লাগে। পা খোঁড়া হয়ে যায়। তিনি বাতিল হয়ে গেলেন।

মন্দিরা জিজ্ঞেস করলেন,  ‘‘আপনি কি এ পাড়াতেই...?’’

‘‘হ্যাঁ। প্রায় শেষ প্রান্তে একটা এক কামরার বাড়িতে থাকি। সবাই বলে ভূতুড়ে বাড়ি। পাশে একটা বড় পুকুর ছিল। প্রোমোটিংয়ের জন্য ওটা এখন বোজানো হচ্ছে,’’ বললেন ভদ্রলোক।

নতুন বিয়ের পরে মন্দিরা মনে হয় এই পুকুরটাতে স্নানও করেছেন। এখন কত বছর আর ও দিকে যাওয়া হয় না। কত গাছ ছিল। বৃক্ষরোপণ দিবসে এখন সবচেয়ে বেশি গাছ কাটা হয়। মানুষের মন মুখ এক হলে, জগৎ সোনা হত।

ভদ্রলোকের নাম জানা হল। অসিত। কুমোরটুলির পৈতৃক বাড়ির ভাগের টাকা পেয়ে এটা কিনেছেন নিরিবিলি শহরতলি দেখে। একা। এক মুঠো ভাত, একটু আকাশ আর একটা কামরা। আর কিছুর চাহিদা নেই। বললেন, অভাব নেই। অভাব বোধ নেই বলে।

মন্দিরার জীবনসঙ্গী চলে গিয়েছেন ইহলোক ছেড়ে সাত-আট বছর হল। ছেলে বেলজিয়ামে আর মেয়ে চেন্নাইয়ে।

বারান্দায় বসে এক কাপ চা খাওয়ার অনুরোধ করায় এত ক্ষণ চা পানের ফাঁকে ফাঁকে এ সব কথা চলছিল। অ্যাক্রলিক শিট-টা নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করায়, কিছুতেই বিনে পয়সায় নিতে রাজি নন অসিত। মন্দিরাও বিনিময়ে দিতে একেবারেই নারাজ। শেষে এই চুক্তি হল, অসিতবাবুর ভূতুড়ে বাড়িতে, এক দিন পদধূলি দিয়ে চা-সেবা নেবেন মন্দিরা, তবে টেবিলের উপরটা লাগানোর পর।

কাকভোরে অসিত মর্নিং ওয়াক সারেন আর মন্দিরা বিকেলে। ডাক্তাররা বলেছেন, ভোরে দূষণ বেশি, বিকেলই উপযুক্ত।

মুশকিলে পড়লেন মন্দিরা। গ্যাস ওভেনটা গড়বড় করছে। মোবাইলে মিস্ত্রির নম্বরটা থাকলেও কী নামে সেভ করা আছে সেটা মনে নেই। এই হয়েছে মুশকিল। সব কিছুতেই ভুল হয়। হঠাৎ স্মরণে এল অসিতবাবুর কথা। উনি তো বললেন সব কিছুর কারিগর। গ্যাস ওভেনটার কথা যদি ওকে বলা যায়? কিন্তু মানুষটাকে ক’দিন দেখতেও পাননি। এক বার অনুরোধ করলে হত। পড়বি তো পড় সে দিনই ইভনিং ওয়াক সেরে বাড়ি ফেরার পথে বাজারে দেখা অসিত আর মন্দিরার। এমন একটা কথা বলতেও দ্বিধা, লজ্জা। তবু সদ্য পরিচিতের কাছে অনুরোধটা রেখেই ফেললেন। সুদর্শন না হলেও হাসিতে একটা সরলতা প্রকাশ পায় ভদ্রলোকের, “এ এমন কী কাজ। কাল সকালেই যাব।”

আধ ঘণ্টার মধ্যেই কাজ শেষ। বাহ্! চমৎকার ফ্লেম। “এত ভাল কাজ আপনি শিখলেন কী ভাবে!” “ওই যে বলে না, জ্যাক অব অল ট্রেডস মাস্টার অব নান!” আজ ডাইনিং-এ বসিয়েই চা খাওয়ালেন মন্দিরা।

‘‘আসলে আমার ছোট বয়স থেকেই মেরামতির নেশা। টেবিল, সিলিং ফ্যান, রেডিয়ো মেরামত করতে  পারি। তার পর পুরনো ঘড়ি। আমরা বলি, ক’টা বাজে? আগেকার দিনে তো ঘড়ি বাজত। এখন আর বাজে না। তবু কথাটা রয়ে গেছে। তালা মেরামতিও পারি।”

“পারেন!” বিস্ময়, আনন্দ দুটোই মন্দিরার চোখে। “দেখুন না, ওঁর হাতের তালা। পুরো পেতলের। পেল্লাই। ফেলতে মায়া লাগে। এ তো আর বুড়ির ঘর নয়। ঝরা পাতা জড়ো করে পুড়িয়ে দিলাম। মন কি সব স্মৃতি নষ্ট করতে পারে?”

“আপনি কি বাংলার টিচার ছিলেন?”

 “না। বিজ্ঞানের।”

‘‘বেশ। মন খুলে তবে আপনাকে একটা কথা বলি। দেখুন পুকুর চুরি, হাজার হাজার গাছ কেটে চুরি, বিরল বন্যপ্রাণী চুরি, পরিবেশ চুরি... এ সব চুরির কোনও সাজা আছে? পৃথিবীকে ধোঁয়াশা কেমন গ্রাস করছে দেখেছেন? কারও কোনও হেলদোল আছে? ইউরোপ এশিয়া আমেরিকায় সর্বত্র দূষণ গ্রাস করেছে। গাড়ির ধোঁয়া, কারখানার বর্জ্য, গাছ কাটা, স্যরি...’’ কী খেয়াল হওয়ায় কথা থামালেন ভদ্রলোক। কণ্ঠস্বর নামিয়ে বললেন, ‘‘অথচ দেখুন, ক্ষুধার্ত মানুষ খাদ্য চুরি করে গণপ্রহারে মরছে। আবার কারও দশ জন এসকর্ট পাইলট-কার আগে-পিছে। অথচ কেউ স্ত্রীর মরদেহ নিয়ে হাঁটছে মাইলের পর মাইল। চল্লিশ বছর আগে চাকরির প্যানেল থেকে চুরি গিয়েছিল আমার নাম। বিচার হয়নি।’’

যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালেন অসিত। রাস্তায় নেমে নতমুখে উদাস হয়ে বললেন, “আসলে কী জানেন, কথাগুলো মনের মধ্যে পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়। শোনার লোক...” হাতের ভঙ্গির সঙ্গে মাথা নেড়ে ঠোট উল্টে বোঝালেন ‘নেই’।

মন্দিরার ধারণা হয়েছিল, মানুষটা নিতান্ত সাদামাটা কিন্তু কিছু সারবস্তুও যেন আছে।

চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে। হঠাৎ মনে পড়ল মন্দিরার। আরে! স্বামীর ছোট্ট ওই সিন্দুকটা, চাবি ঘোরালেও যেটা খোলে না, ওকে বললে হত। খুব জানার ইচ্ছে হয় কী আছে ওটায়।

সন্ধেয় রান্নাঘরে রুটি করছেন মন্দিরা। ডোরবেল বাজল। বারান্দার ও পারে রাস্তায় অসিত। বিনম্র হেসে ফাঁক দিয়ে তালাটা বাড়িয়ে দিলেন। আনন্দে মন্দিরা বাচ্চার মতো আচরণে চাবি ঘুরিয়ে কয়েক বার খোলা-বন্ধ করলেন, “কী সুন্দর! পুরো নতুনের মতো! কী যে আনন্দ হচ্ছে!” অসিত একদৃষ্টিতে দেখছেন।

‘‘আপনাকে ক্ষীরের সন্দেশ খাওয়াব,’’ বললেন মন্দিরা।

‘‘আমার অতি প্রিয়। আসলে আমি তো অসিত মানে কৃষ্ণবর্ণ।  তার উপর আমি কুৎসিত। আর ক্ষীর সিত, মানে সাদা,’’ বলে প্রাণখোলা সলজ্জ হাসি হাসলেন। হাসি থামিয়ে বললেন, ‘‘কৃষ্ণের হাতে বাঁশি থাকত। আমার লোহালক্কড় আর যন্ত্রপাতি। ঠিক আছে, কাল সকালে আসব। আপনার হাতের এক কাপ চা-ই অমৃততুল্য। ক্ষীরের সন্দেশ আর কষ্ট করে করতে হবে না।’’

একটা ব্যাগের মধ্যে একগাদা রেঞ্জ, স্ক্রু ড্রাইভার, করাত, বাটালি, ছেনি-হাতুড়ি। আরও যা যা ছোট বড়, ও সবের নাম জানেন না মন্দিরা। ভাবলেন, বেশ খানিকটা শব্দ আর বুঝি ভাঙাভাঙি হবে। এটা ভেবেই  হিসেব করেই বললেন, ‘‘ডালাটা যদি ভাঙতেই হয়...’’

কথা শেষ করতে না দিয়ে অসিত বললেন, ‘‘ভাঙলে আপনিই তো পারতেন। স্মৃতি কেউ ভাঙে?’’

কাজ করতে করতেই বললেন, ‘‘আমার টেবিলের কাজ কিন্তু কমপ্লিট। কবে আসবেন?’’

মানুষটার অতীত কিছুই জানা হয়নি। এত মার্জিত, নম্র, বিনয়ী। সবচেয়ে বড় গুণ, মেয়েদের সম্মানের দৃষ্টিতে দেখা। এই দৃষ্টি কামুক নয়। সমাজে এখন সবচেয়ে বেশি প্রাদুর্ভাব, নারীর অসম্মানকারক বিকার রোগের।

‘‘আপনি বিয়ে করেননি?’’ লাজুক হেসে নতমুখেই তিনি উত্তর দিলেন, ‘‘না।’’

পরের কথাটা নিজেই বললেন যেটা জিজ্ঞাসা করবেন ভাবছিলেন মন্দিরা।

‘‘মাকে নিজের চোখের সামনে মরতে দেখেছি। কিছুই করতে পারিনি।’’

কোনও বিকট শব্দ ছাড়াই সিন্দুকের ডালা খুলে গেল। গুপ্তধন কিছুই বেরোল না। প্রচুর মাছপোকার নিশ্চিন্ত সংসারে বিবর্ণ তিনটে বই। ভদ্রলোক মেঝেতে ছড়িয়ে পড়া যন্ত্রপাতি ব্যাগে ভরে উঠে পড়লেন। ব্যস্ত হয়ে পড়লেন মন্দিরা একটু কিছু খাওয়ানোর জন্য। অন্য দিনের মতো আজ অতটা হাসিখুশি লাগছে না অসিতবাবুকে। গরম কচুরি আর হিং দেওয়া আলুর চচ্চড়ি খাওয়াবেন বলে তৈরি করেই রেখেছিলেন মন্দিরা। এর পর চা। নীরবে খাওয়ার পর একটু হেসে প্রশংসা করলেন অসিত, ‘‘বহু দিন পরে মনে হল মায়ের হাতের কচুরি খেলাম।’’

কথাটা হঠাৎ যেন অজান্তেই মুখ থেকে বেরিয়ে পড়ল মন্দিরার, ‘‘আপনার মায়ের কী হয়েছিল?’’

 অসিতের দীর্ঘশ্বাস, ‘‘থাক ও সব কথা। সেই যে একটা কবিতায় আছে না, ‘কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালোবাসে!’’’ যেতে উদ্যত হয়ে বললেন, ‘‘সিন্দুকটা ভাল করে দেখলেন না?’

বারান্দার গ্রিলে তালা লাগাতে লাগাতে বললেন মন্দিরা, ‘‘মানুষটা সাত্ত্বিক ছিলেন। বই পাগলও। যেখানেই পারতেন বই গুঁজে রাখতেন।’’

যেতে যেতে অসিত থমকালেন, ‘‘টেবিল দেখতে কবে আসছেন? আমি আবার ক’দিন না-ও থাকতে পারি।’’

মন্দিরা স্থির করে ফেললেন, কাল সকালেই যাবেন। সেটা বলায় মনমরা মুখে যেন একটু আনন্দের ঝিলিক উঠল। কথাটা মুখ থেকে বেরিয়েই পড়ল মন্দিরার, ‘‘এই বয়সে এসে আপনার মতো এক জন ভাল বন্ধু পেলাম।’’ অসিত বললেন, ‘‘একটু কষ্ট দেব আপনাকে। যন্ত্রপাতির ব্যাগটা একটু রেখে দিন। আমি দু’দিন পরে এসে নিয়ে যাব।’’

‘‘এ মা, আপনার দরকারি...’’

‘‘বন্ধুর কাছে এটুকু অবলম্বন তো চাই। আমার বাড়ির ভগ্নদশা। ভাঙা টালির চাল দিয়ে চাঁদ সূর্য বর্ষা সবই আসে। বাড়িতে থাকব না, যদি কেউ ঢুকে এগুলো নিয়ে যায়? থমকে থাকা সময়, অন্ধকার সিন্দুক, খুলব কী করে বলুন?’’

‘‘তবে আপনি নিজে হাতেই রেখে যান,’’ বললেন মন্দিরা। অসিত সদ্য খোলা সিন্দুকের মধ্যেই ওগুলো রাখলেন। বই তিনটে উল্টে মন্দিরাকে বললেন, একটা কোরান, একটা বাইবেল আর একটা গীতা। ‘‘‘ওই তো। বই পাগল বললাম না? এ সবই করতেন।’’

‘‘ও ভাবে দেখলেন? তিনটের সহাবস্থান দেখলেন না? এটাই তো চাহিদা হওয়া উচিত বর্তমান সমাজের। নয় কি?’’

তাই তো, এ দৃষ্টিতে তো দেখেননি মন্দিরা! অসিত যেতে যেতে বললেন, ‘‘আমি যদি অসিত না হয়ে আসিফ হই তা হলে আর ঢুকতে দেবেন না?’’

‘‘ও মা! কেন দেব না?’’ মন্দিরা বিস্ময়ে বললেন।

‘‘অথচ দেখুন, সব শিক্ষা এখানে এসেই পথ হারাচ্ছে। তাই না?’’

আজ মন্দিরার ঘুম ভাঙল সকাল সাতটায়। গত রাতে ঘুমটা গাঢ় হচ্ছিল না কিছুতেই। এত দেরি কোনও কালেই হয় না। কাল দুপুর থেকেই অনেক লোক চলাচল ছিল রাত অবধি। হয়তো সে জন্যই, না কি? কে জানে, রাতে ঘুম ভেঙে যাচ্ছিল বারবার।

গ্যাসে চা চাপিয়েই খবরের কাগজে চোখ রাখলেন। একটা অদ্ভুত খবর কাগজের প্রথম পাতায়— ‘এ কালের রবিনহুড। এবং তার দুই অনুচর। তিন জন, বাড়ি বাড়ি ক্যানসার রোগাক্রান্ত রোগীদের সাহায্যার্থে অর্থ ভিক্ষা করে দুঃস্থ পরিবারগুলোর হাতে তুলে দিয়ে আসতেন। যাঁদের চিকিৎসা চালানোর সামর্থ্য নেই। ঘটনার চমক অন্যখানে। যাঁরা সঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও সাহায্য না করে দরজা বন্ধ করে দিতেন মুখের উপর, রাতে অভিনব পদ্ধতিতে তাঁদের বাড়িতে ডাকাতি করত ওই তিন জন। সিসি ক্যামেরা থাকলেও সাময়িক অকেজো করে দিতে পারত সামান্য যন্ত্রের ব্যবহারে। যে কোনও শক্তপোক্ত আলমারি, দরজার লক, সামান্য লোহালক্কড়ের যন্ত্র দিয়ে তারা নিঃশব্দে খুলে চুরি করে আবার তালা আটকেও দিত।

বাড়ির মালিকরা এই অদ্ভুত রহস্যের মুখোমুখি হয়ে চরম বিভ্রান্ত আর বিস্মিত হয়েছেন এত দিনে। এ চক্রের হদিশ পেয়ে গতকাল সন্ধেয় ঘটনার নাটের গুরুকে এক ভগ্নদশা টালির বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এলাকায় এ বাড়িটা ভূতের বাড়ি বলে খ্যাত। রবিনহুড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হওয়া সত্ত্বেও, শত চেষ্টাতেও নাকি চাকরি পাননি। নিজের মা অর্থাভাবে ক্যানসারে বিনা চিকিৎসায় মারা যান। সমাজকে উচিত শিক্ষা দিতেই নাকি এই পন্থা। সমস্ত যন্ত্রপাতিই তার আবিষ্কার। এই অপরাধমূলক কাজে তার কোনও পরিতাপ নেই। পুলিশ এই যন্ত্রগুলোর কোনও সন্ধান পায়নি। আজ তাকে আদালতে তোলা হবে। রবিনহুডের আসল নাম অসিত বিশ্বাস। রবিনহুডের বক্তব্য, ‘‘সে অসিত, আসিফ আর জোসেফ এই তিন নামের সহাবস্থানে মনে শান্তি পায় সবচেয়ে বেশি।’’ ’

গ্যাসের জল ফুটে শুকিয়েই গিয়েছে। নিভিয়ে দিলেন মন্দিরা।


Anandabazar Patrika Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading Newspaper