কার্ল মার্কস মৃত নন, এখনও তাঁকে প্রয়োজন

কার্ল মার্কস।

কার্ল মার্কস পটনা এসেছিলেন!

খবর পেয়েছেন?

পাঁচ দিন ছিলেন তিনি | অনেক আলোচনা হল মার্কসবাদ নিয়ে | মার্কসীয় দর্শন নিয়ে! সব শুনে তিনি বললেন, আমার কি কোনও দর্শন বা তত্ত্ব সত্যি আছে?

রসিকতা থাক| আসল ঘটনাটিও যথেষ্ট চাঞ্চল্যকর! ভারতের রাজনীতি থেকে যখন কমিউনিস্টদের শক্তি কার্যত নিশ্চিহ্ণ হতে চলেছে ঠিক সে সময় প্রাচীন মগধ নগরী, কমিউনিস্ট আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত এই পটনা শহরেই কার্ল মার্কসের জীবন এবং ভাবনা নিয়ে আলোচনা, এ কি কম কথা?

আলোচনা চক্রের আয়োজক এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট (আদরি)| তার চেয়ারম্যান জেএনইউ-র এমিরেটাস অধ্যাপক অঞ্জন মুখোপাধ্যায়| মেঘনাথ দেশাই ছিলেন| ছিলেন দীপঙ্কর গুপ্ত| বিস্তর আলোচনা| যেটা ভাল লাগছে সেটা হল খোলা মনে কার্ল মার্কসের প্ৰাসঙ্গিকতা নিয়ে কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করা| সবাই একমত, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুকোয়ামা যতই বলে থাকুন আসলে কার্ল মার্কস এখনও মৃত নন | দ্বিশতবর্ষ পরেও তাঁকে প্রয়োজন|

আমার মনে কিছু প্রশ্ন আছে | এই সম্মেলনে সে সব প্রশ্ন নানা ভাবে উঠেছে। সে কথাগুলো আপনাদের জানাতে চাই|

প্রথমত, কার্ল মার্কস নিজে বলেছিলেন, পৃথিবীতে নানা দার্শনিক নানা ভাবে এ সমাজকে ব্যাখ্যা করেছেন| এখন দরকার সমাজটাকে বদলানো! এ কথা মার্কস নিজেই বলেছেন| তার মানে তিনি নিজেকে দাৰ্শনিক বা এক জন তাত্ত্বিক হিসেবে দেখতে চাননি! তিনি প্রয়োগবাদী হতে চেয়েছিলেন?

দ্বিশতবর্ষ পরেও তাঁকে প্রয়োজন| কার্ল মার্কস এখনও মৃত নন | ফাইল চিত্র।

দ্বিতীয়ত, দীপঙ্কর গুপ্ত নিজেও স্মরণ করিয়েছেন, মার্কস নিজেও কিন্তু কোনও দিন আলাদা দল গঠনের কথা বলেননি! ১৮৪৮ সালে ম্যানিফেস্টো-তে তিনি আন্দোলন চেয়েছেন| অনেকে ১৯১৭ সালে বলশেভিক আন্দোলনকে মার্কসিজম বলে মনে করেন| আমি বলব, লেনিন যা যা করেছেন সেটা মার্কসবাদ বলে স্ট্যাম্প লাগানোটা অতি সরলীকরণ. মার্কস যে সামাজিক স্তরের কথা বলেছিলেন তাতে পুঁজিবাদের পূর্ণ বিকাশের কথা বলেছিলেন| সামন্ততন্ত্র থেকে ডবল প্রমোশন দিয়ে জারদের হত্যা করে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে কি মার্কস বলেছিলেন?

তৃতীয়ত, মার্কস কোথাও কি হিংসার কথা বলেছেন? এই সমাবেশে পৃথিবীর বহু পন্ডিত বলছেন, হিংসার কথা তো মার্কস বলেননি! তা হলে লেনিন এবং তার পর স্তালিন এই হিংসার তত্ত্ব আনলেন কোথা থেকে? Force is the midwife of every old society which is pregnant wth the new. এই ‘ফোর্স’ কি বন্দুকের নল? নাকি ইতিহাসের শক্তি?