Tamia

মন ভোলাতে পারে সাতপুরাও, পাহাড়-উপত্যকার মায়াবী রূপ নিয়ে অপেক্ষা করছে তামিয়া

গরম পড়লেই হিমালয়ের কোলে শান্তির পরশ খোঁজেন অনেকে। তবে যদি বেড়াতে চান চেনা ছকের বাইরে, না জানা কোনও শৈলশহরে, তবে মধ্যপ্রদেশের ছিন্দাওয়াড়ার পাহাড়ি শহর তামিয়া হতে পারে সেই ঠিকানা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ ১১:৩৯
Share:

মধ্যপ্রদেশের স্বল্পচেনা শৈলশহর তামিয়া। গরমেও ঢুঁ মারতেও পারেন সেখানে। ছবি:সংগৃহীত।

ঋতু ভেদে তার এক এক রকম রূপ। পাহাড়ের উচ্চতা বেশি নয়। কিন্তু উপত্যকার সৌন্দর্য অপার। অরণ্য, বণ্যপ্রাণ, পাহাড়-প্রকৃতি নিয়েই তৈরি হয়েছে রূপের মায়া। গরম পড়লেই হিমালয়ের কোলে শান্তির পরশ খোঁজেন বহু মানুষ। তবে যদি বেড়াতে চান চেনা ছকের বাইরে, না জানা কোনও শৈলশহরে, তবে মধ্যপ্রদেশের ছিন্দাওয়াড়ার পাহাড়ি শহর তামিয়া হতে পারে সেই ঠিকানা।

Advertisement

গরমকালে যে এখানে পুরোপুরি শীতল পরশ মিলবে, তেমনটা নয়। গরমে সকাল এবং বিকেল বেশ মনোরম। চাইলে গ্রীষ্ম পার করে বর্ষাতেও আসতে পারেন তামিয়ায়। পাহাড়ের উপর প্রায় সমতল উপত্যকা এই এলাকার সৌন্দর্যে অন্য মাত্রা যোগ করছে। গরমে তা কিঞ্চিৎ রুক্ষ, তবে বর্ষার পরশ পেলে তা হয়ে ওঠে ঘন সবুজ।

তামিয়া বড় শান্ত, নির্জন। এখানে রয়েছে ব্রিটিশ আমলের কিছু বাংলো, যা এখনও বসবাসযোগ্য। তিন-চার দিন অবসর যাপনের জন্য আদর্শ শৈলশহরটি। তা ছাড়া, এখানে রয়েছে বিলাসবহুল রিসর্টও। চাইলে পাহাড়ের মাথার চ্যাপ্টা আঙিনায় প্রাতরাশের ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয় কোনও কোনও রিসর্টের তরফে।

Advertisement

এখানে এলে আলাদা করে ঘুরতে যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। কারণ, সর্বত্রই যেন ক্যানভাসের ছবি। গাছগাছালি ঘেরা একাধিক রিসর্ট রয়েছে এখানে। সেখানে বসেই উপভোগ করা যাবে সৌন্দর্য।

বর্ষায় এই জনপদ ঘন সবুজ। ছবি: সংগৃহীত।

আর যদি গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়তে চান, পথঘাট, অরণ্য সঙ্গ দেবে। এখানে রয়েছে ঝর্না, ঝোরা। সূর্যাস্ত এবং সূর্যোদয় এখান থেকে ভারি সুন্দর দেখায়।

পাতালকোট উপত্যকা

সাতপুরা পর্বতে ঘেরা পাতালকোট উপত্যকার সৌন্দর্য মনভোলানো। ঘন সবুজ চারপাশ। মেঘ-রোদ্দুরের খেলায়, উপত্যকা হয়ে ওঠে মায়াবী। পাতালকোটে উপত্যকার ভিউ পয়েন্ট পর্যন্ত আসতে আসতেই প্রকৃতির সৌন্দর্য টের পাওয়া যায়। সবুজ অরণ্যের বুক চিরে মসৃণ রাস্তা এগিয়েছে। কোথাও গাছ, কোথাও ক্ষেত, কোথাও বাড়িঘর। সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের সময় এই উপত্যকা হয়ে ওঠে আরও সুন্দর। মূল শহর থেকে স্থানটির দূরত্ব ২০-২২ কিলোমিটারের মতো।

ঝিঙ্গারিয়া ঝর্না

ছিন্দাওয়াড়া জেলায় রয়েছে একাধিক ঝর্না। তামিয়া থেকে ঘুরে নিতে পারেন ঝিঙ্গারিয়া। বর্ষায় জল বেশি থাকে। অরণ্যের মধ্যে পাথরের উপর থেকে নেমে আসছে অবিশ্রান্ত জলধারা। তামিয়া থেকে ৪৭ কিলোমিটার দূরে রয়েছে সাতধারা জলপ্রপাত। গরমে যদিও জল একটু কমই থাকে এখানে, তবে পুরোপুরি শুকিয়ে যায় না।

ছোট মহাদেব


ছোট মহাদেব। চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এখানে পৌঁছনোর পথটিও ভারি মনোরম। ছবি:সংগৃহীত।

তামিয়ায় এসে পায়ে হেঁটে ঘুরতে চাইলে পৌঁছতে পারেন ছোট মহাদেব। হেঁটেই যেতে হয় সেখানে। ছোট্ট একটি গুহা প্রকৃতির সঙ্গে মিশে রয়েছে। সেখানে যেতে হয় অজস্র সিঁড়ি ভেঙে। সিঁড়ি শেষ হলে শুরু হয় অরণ্য। পথেই পরবে ঝর্না। স্থানটির সৌন্দর্য সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দিতে পারে। সবশেষে ছোট্ট গুহায় মহাদেবের অবস্থান।

ভিউ পয়েন্ট

তামিয়ার আশপাশে রয়েছে একাধিক ভিউ পয়েন্ট। দালেল সানরাইজ পয়েন্ট, চিমটিপুর ভিউ পয়েন্ট, ভালচার পয়েন্ট। খাড়া পাহাড়, উপত্যকা এই সমস্ত পয়েন্ট থেকে দৃশ্যমান হয়।

পাঁচমারি

তামিয়া থেকে প্রায় ৮২ কিলোমিটার দূরে রয়েছে মধ্যপ্রদেশের আরও একটি জনপ্রিয় শৈলশহর পাঁচমারি। এখানে একাধিক চুনাপাথরের গুহা, পাণ্ডব গুহা, ভিউ পয়েন্ট দর্শনীয় স্থানের তালিকায় থাকে।

পেঁচ জাতীয় উদ্যান

তামিয়া থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে পেঁচ জাতীয় উদ্যান। বাঘ, হরিণ, সম্বর-সহ অজস্র পাখি, বন্য প্রাণের ঠিকানা এই পেঞ্চ। শোনা যায়, জনপ্রিয় উপন্যাস ‘জঙ্গল বুক’-এর লেখক রুডওয়ার্ড কিপলিং এই অরণ্য দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে বইটি লিখেছিলেন। পেঁচ জাতীয় উদ্যানে কোর এবং বাফার এরিয়ায় জঙ্গল সাফারির ব্যবস্থা আছে সকাল এবং বিকালে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement