ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
‘বিয়ে’ করার পর তাঁর সঙ্গে থাকতে রাজি হচ্ছে না কিশোর স্বামী! ১৪ বছর বয়সির বিরুদ্ধে তেমনটাই অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থ হলেন ৪০ বছর বয়সি এক মহিলা। অদ্ভুত সেই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের মহারাজগঞ্জে। চার সন্তানের মা ওই বধূর অভিযোগ, সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামের সূত্রে যোগাযোগ হওয়া এক কিশোরের প্রেমে পড়েন তিনি। এক অপরকে ‘বিয়ে’ও করেন। কিন্তু এখন তাঁর ১৪ বছর বয়সি কিশোর স্বামী কিছুতেই তাঁর সঙ্গে সংসার করতে রাজি হচ্ছে না।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নৌতনওয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই বধূ। দাবি করেছেন, কিশোরের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব শুরু হয় ইনস্টাগ্রামে, একে অপরের রিল লাইক করার পর। এই অনলাইন বন্ধুত্ব শীঘ্রই একটি প্রেমের সম্পর্কে পরিণত হয়। বধূ আরও দাবি করেছেন, কিশোর প্রেমিক তাঁকে বিয়ে করেছিল। কিন্তু এখন সে সম্পর্কে থাকতে অস্বীকার করছে বলে অভিযোগ মহিলার। অন্য দিকে পুলিশ জানিয়েছে, ওই বধূ চার সন্তানের জননী এবং যে কিশোরকে তিনি ‘স্বামী’ বলে দাবি করছে সে তাঁর বড় ছেলের চেয়েও পাঁচ বছরের ছোট।
নৌতনওয়া থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক বসন্ত সিংহ জানিয়েছেন, মূলত গোরখপুরের বাসিন্দা ওই বধূ প্রথমে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন যে, কিশোর তাঁকে বিয়ে করে পরে ছেড়ে দিয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, ১৪ বছর বয়সি ওই কিশোর চেন্নাইয়ে তার বাবার সঙ্গে থাকে এবং সমাজমাধ্যমে ওই বধূর সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল। এই ঘটনায় কোনও আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়নি বলেও জানিয়েছে পুলিশ। পরিবর্তে পুলিশের তরফে উভয় পক্ষকে কাউন্সেলিংয়ের জন্য ডেকে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়। বসন্ত জানিয়েছেন, “স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আলোচনা এবং মধ্যস্থতার পর মহিলা পরে পুলিশকে জানান যে তিনি এই বিষয়ে কোনও আইনি ব্যবস্থা নিতে চান না।’’ কাউন্সেলিংয়ের পর উভয় পক্ষ আর কখনও একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ না করতে রাজি হয়েছে এবং বিষয়টির শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর বধূর অস্বাভাবিক অভিযোগটি স্থানীয়দের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। সমাজমাধ্যমেও আলোড়ন ফেলেছে। অসম বয়সের ব্যবধান এবং অভিযোগের ধরনের কারণে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে নেটপাড়ায়। পুলিশের তরফে জনগণকে, বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সমাজমাধ্যমে অপরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের সময় সতর্কতা অবলম্বন করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।