ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া।
১০ বছর বয়সি এক বালিকার হত্যাকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তিন জন পুলিশকর্মী। দু’জন পুরুষ পুলিশকর্মীর মাঝে বসেছিলেন এক মহিলা পুলিশকর্মী। অভিযোগ, সম্মেলন চলাকালীন সকলের সামনে তিন পুলিশকর্মী হাসাহাসি করছিলেন। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমের পাতায় এমনই একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তে নেটপাড়ায় সমালোচনার বন্যা বয়ে গিয়েছে (যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)।
‘মহালক্ষ্মী রামনাথন’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলের পাতায় একটি ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়েছে। সেই ভিডিয়ো পোস্ট করে এক আইনজীবী অভিযোগ করেছেন যে, তিন জন পুলিশকর্মী সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত থেকে হাসাহাসি করছেন। পুলিশকর্মীদের এই অমানবিক আচরণ দেখে ক্ষুব্ধ নেটপাড়া। এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘এমন সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সময় কোনও মানুষের কী ভাবে এত হাসি পায় সত্যিই বুঝতে পারছি না। অত্যন্ত অমানবিক আচরণ।’’ আবার এক জন সন্দেহপ্রকাশ করে লিখেছেন, ‘‘ভিডিয়োটি ভুয়োও হতে পারে। আজকাল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে অনেক কিছুই তৈরি করা যায়। তবে ঘটনাটি যদি সত্য হয়, তা হলে তা অত্যন্ত খারাপ।’’
তামিলনাড়ুর কোয়ম্বত্তূরে ১০ বছরের বালিকাকে বাড়ির সামনে থেকে অপহরণ করে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুলুর এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। বাড়ির কাছে একটি মুদির দোকানে গিয়েছিল ওই বালিকা। তার পর থেকে আর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না তার। শুক্রবার কান্নমপালায়াম হ্রদের কাছ থেকে তার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়।
ন্যায়বিচারের দাবিতে সুলুর থানার সামনে শনিবার ভোর পর্যন্ত বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন নাবালিকার আত্মীয়-পরিজন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার দুপুরে নতুন মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় এই হত্যাকাণ্ডকে ‘অমানবিক’ ও ‘ক্ষমার অযোগ্য’ বলে উল্লেখ করে সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘এই ধরনের ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ করা হবে।’’ পুলিশ সূত্রে খবর, এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অপরাধীকে চিহ্নিত করা গিয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কার্তিক নামে এক পড়শি মেয়েটিকে কোথাও নিয়ে যাচ্ছেন। ভিডিয়োটি দেখে কার্তিকের খোঁজ শুরু করে পুলিশ। পুলিশ দেখে কার্তিক পালানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। দৌড়োনোর সময় পড়ে গিয়ে তাঁর হাত-পা ভেঙে যায়। এর পর পুলিশ গ্রেফতার করে কার্তিককে। জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন কার্তিক স্বীকার করেন যে, বালিকাকে তিনি বাড়ির সামনে থেকে অপহরণ করেছিলেন।
অভিযোগ, একটি বাগানে নিয়ে গিয়ে তিনি প্রথমে বালিকার উপর যৌন নির্যাতন চালান। তার পর তাকে হত্যা করেন। কার্তিকের দাবি, তাঁকে এই কাজে সাহায্য করেছেন মোহন রাজ নামে এক যুবক। পুলিশ মোহন রাজকে গ্রেফতার করে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে। কার্তিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জাতীয় মহিলা কমিশনও এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে পদক্ষেপ করেছে। কমিশনের তরফে পুলিশ প্রধানকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।