ছবি: এক্স থেকে নেওয়া।
৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিপজ্জনক ভাবে দুলছে ৩৬তলা বহুতল। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ফিলিপিন্সে। সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসা নাটকীয় ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ ফিলিপিন্সে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর ৩৬তলার আবাসিক ভবন এ পাশ-ও পাশ দুলছে। ওই ঘটনায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। শহরাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগেরও সৃষ্টি হয়েছে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
সমাজমাধ্যমে ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, ভূমিকম্পের কম্পন শহরের মধ্য দিয়ে ছড়িয়ে পড়ার সময় বহুতল ভবনটি দুলছে। দুলুনির তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, ভবনের ছাদে থাকা সুইমিং পুলের জল কিনারা ছাপিয়ে প্রবল ভাবে বাইরে ছিটকে পড়তে দেখা যায়। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা আতঙ্কের দৃশ্যের বর্ণনা দিয়ে জানান, ভূমিকম্পের পর পরই বাসিন্দারা ভবন থেকে বেরিয়ে খোলা জায়গায় জড়ো হতে থাকেন।
ভাইরাল ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘পিপল্স নিউজ় চ্যানেল’ নামের একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমনই আবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। যদিও ভূমিকম্পের সময় বহুতল ভবনগুলির দুলুনি একটি সাধারণ ঘটনা। কারণ, আধুনিক বহুতল ভবনগুলিকে এমন নমনীয় কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় যাতে ভূমিকম্পের অভিঘাতে সেগুলি ভেঙে না পড়ে বা ফাটল না ধরে। ইঞ্জিনিয়ারদের মতে, এই ধরনের নড়াচড়া বা দুলুনি দেখে ভয় ধরলেও তা আসলে প্রমাণ করে যে ভবনের ভূমিকম্প-প্রতিরোধী ব্যবস্থাগুলি সঠিক ভাবে কাজ করছে।
সোমবার সকালে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে ফিলিপিন্সে। ইউএস জিয়োলজিক্যাল সার্ভে অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.৮। এর কেন্দ্রস্থল ছিল ফিলিপিন্সের মিন্দানাও অঞ্চল। কম্পন এতটাই শক্তিশালী ছিল যে দক্ষিণ ফিলিপিন্সের বেশ কয়েকটি শহরের মানুষও তাঁদের বাড়ি এবং অফিস থেকে ছুটে বেরিয়ে আসেন। বেশ কয়েকটি ভবন ভেঙে পড়ে। এই ভূমিকম্পে ৩০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেকে আহত হয়েছেন। ফিলিপিন্স বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল ‘প্যাসিফিক রিং অফ ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত এবং এই দ্বীপপুঞ্জের নীচে টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার কারণে এখানে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।