(বাঁ দিকে) কংগ্রেসের দুই বিধায়ক জুলফিকার আলি ও মোতাব শেখের (ডান দিকে) হাতে সংবর্ধনার স্মারক তুলে দিচ্ছেন এআইসিসি-র নেতা গুলাম আহমেদ মীর এবং বি কে হরিপ্রসাদ। মৌলালি যুব কেন্দ্রে। —নিজস্ব চিত্র।
বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আসা তৎকালীন সাংসদ মৌসম বেনজির নূর, বিধায়ক কাজী আব্দুর রহিমকে (দিলু) নির্বাচনে প্রার্থী করেছিল কংগ্রেস। পুরনো দলের প্রতীক নিয়ে লড়ে তাঁরা কেউ এ বার জিততে পারেননি। তবে বিধানসভা ভোটের ফলে রাজ্যেরক শাসন ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়েছে তৃণমূলও। পালাবদলের পরে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন উদ্যমে এগোতে চাইছে কংগ্রেস। সেই পথে দরজা খোলা রাখার কৌশল নিয়েই চলবে তারা। পাশাপাশি, তৃণমূলের পতনের পরে পশ্চিমবঙ্গে সংগঠনকে চাঙ্গা করার দিকেও নজর দিচ্ছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। সে কারণে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ২১শে জুলাই কলকাতার শহিদ মিনার ময়দানে কংগ্রেসের উদ্যোগে ‘শহিদ সমাবেশ’ হবে।
ভোটের ফলের পর্যালোচনার জন্য শনিবার মৌলালি যুব কেন্দ্রে দলের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এআইসিসি-র পর্যবেক্ষক গুলাম আহমেদ মীর, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, ভোটের সময়ে এআইসিসি-র গড়া স্ক্রিনিং কমিটির চেয়ারম্যান বি কে হরিপ্রসাদ। ছিলেন বি পি সিংহ, অম্বা প্রসাদ, প্রদীপ ভট্টাচার্য, অমিতাভ চক্রবর্তী এবং বিধানসভা ভোটে লড়াই করে আসা প্রার্থীদের বেশির ভাগই। তবে দিল্লিতে থাকায় বহরমপুরের প্রার্থী ও প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি অধীর চৌধুরী, অসুস্থতার কারণে সাগরদিঘির প্রার্থী মনোজ চক্রবর্তীরা বৈঠকে ছিলেন না। হাজির ছিলেন মুর্শিদাবাদ জেলা থেকেই জয়ী দুই বিধায়ক মোতাব শেখ ও জুলফিকার আলি। বৈঠকে মীর, শুভঙ্কর-সহ কংগ্রেস নেতৃত্ব বার্তা দিয়েছেন, রাজ্যে ভোটের ফল বেরোনোর পরে তৃণমূলের প্রাক্তন ও বর্তমান বিধায়কদের অনেকেই যোগাযোগ করছেন। প্রাক্তন শাসক দলের অনেক নেতা-কর্মীও কংগ্রেস শিবিরে আসতে চাইছেন। ‘অপরাধী’ বা গুরুতর অভিযোগ আছে, এমন ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে বাকি সকলের জন্য দরজা খোলা থাকবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। তাঁদের যুক্তি, বিজেপির সঙ্গে আদর্শগত ভাবে লড়াই করার উপযুক্ত শক্তি কংগ্রেসই। প্রসঙ্গত, তৃণমূলের বিজয়ী বিধায়কদের মধ্যে কেউ কেউ কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছেন বলে দলীয় সূত্রের ইঙ্গিত।
কংগ্রেস সূত্রের খবর, সংগঠনকে চাঙ্গা করার জন্য কাঠামোয় কিছু রদবদলের প্রস্তাবও এসেছে বৈঠকে। বিজেপির কায়দায় এর পরে ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের এলাকা ধরে কংগ্রেসের সাংগঠনিক জেলা ভেঙে নেওয়া হরতে পারে। ‘সংগঠন সৃজন’ কর্মসূচির আওতায় এই প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকবেন এআইসিসি-র নিযুক্ত পর্যবেক্ষকেরা। বিধানসভা ভোটে পরাজিত প্রার্থীদেরও সংশ্লিষ্ট এলাকায় থেকে মানুষের সঙ্গে সংযোগ রেখে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মীর বলেছেন, “যাঁদের জন্ম কংগ্রেসে, কংগ্রেসে যাঁদের চোখ ফুটেছে, যাঁরা এই দলের আদর্শে বড় হয়েছেন, অথচ পরিস্থিতি, চাপ বা ক্ষোভে ডান, বাঁ দিকে গিয়েছেন, তাঁদের ফিরে আসার এটাই সুবর্ণ সুযোগ। খোলা মনে বলছি, আমাদের দরজা খোলা।” প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্করও বলেছেন, “আমাদের দরজা-জানলা খোলা। যে কোনও রাজনৈতিক দল থেকে আসতে পারেন। প্রাক্তন, বর্তমান বিধায়কদের অনেকেই আসতে চাইছেন কংগ্রেসে।” দলে যোগদান-পর্ব হলে, তা যাতে নির্দিষ্ট যাচাইয়ের পরে হয়, সে জন্য প্রদেশ কংগ্রেস একটি কমিটিও তৈরি করছে।
তৃণমূলের বিধায়ক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ অবশ্য পাল্টা বলেছেন, “রাজনৈতিক দল হিসেবে কংগ্রেস কোনও বার্তা দিতেই পারে। মাঝেমধ্যেই ওঁরা এমন বার্তা দেন। আমরা এখন বিরোধী হলেও, তৃণমূলই যে বিজেপিকে হারাতে পারে, তা প্রমাণিত। তৃণমূল কর্মীরা নেত্রীর উপরেই আস্থাশীল।”
এরই মধ্যে, এ বার শহিদ মিনারে ২১শে জুলাই সভা করতে চলেছে কংগ্রেস। শুভঙ্কর বলেছেন, “দীর্ঘ দিন ধরে আমরা ২১ জুলাই দিনটিকে প্রতীকী হিসাবে সম্মানের সঙ্গে পালন করেছি। এ বার শহিদ মিনারে সভা হবে। প্রদেশ কংগ্রেসের ডাকে ও যুব কংগ্রেসকে সামনে রেখে এই কর্মসূচি হবে।” রাজ্যে ১৯৯৩-এর ২১ জুলাই তৎকালীন যুব কংগ্রেস সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সংগঠনের যে জমায়েত হয়েছিল, সেখানে বাম সরকারের পুলিশের গুলিতে ১৩ জন নিহত হয়েছিলেন। তৃণমূল গঠিত হওয়ার পরে তারা ওই দিনটিতে ভিক্টোরিয়া হাউসের (এক বার ব্রিগেড ময়দানে) সমাবেশ করে। সে দিনে কংগ্রেসের কর্মসূচি চোখে পড়ানোর পথ এত দিন ছিল না। রাজ্যে পালাবদলের পরে ২১ জুলাই কংগ্রেস বড় মঞ্চে সভার ডাক দিয়ে সংগঠনকে চাঙ্গা করতে চাইছে। দলের এক প্রাক্তন বিধায়ক অবশ্য বলছেন, ‘‘বামেদের সঙ্গে এককালে আমাদের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ছিল। কিন্তু এই রাজ্যে আমাদের দলটাকে ভেঙে শেষ করেছে তৃণমূল, তাদের অপকর্মের জেরে ক্ষমতায় এসে গিয়েছে বিজেপি। এখন বাম আমলের ঘটনাকে বড় করে উদযাপন করে কী বার্তা দিতে চাইছি, বোঝা যাচ্ছে না! সমসাময়িক কোনও বিষয়কে সামনে রেখে ময়দানে নামলে ভাল হত।’’ ন্যায্য ভোটারদের ভোটাধিকার ফেরানোর দাবিতে সোমবার অবশ্য রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরেও যাবে কংগ্রেস।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে