প্রাক্তন মন্ত্রী জাভেদ খানের অফিসে বেআইনী নির্মাণের নোটিশ দিল কলকাতা পুরসভা। ফাইল ছবি।
কলকাতা শহরের ২ নম্বর জে জি খান রোডে অবস্থিত প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কসবার তৃণমূল বিধায়ক জাভেদ আহমেদ খানের কার্যালয়কে বেআইনি নির্মাণ বলে চিহ্নিত করল কলকাতা পুরসভা। শুক্রবার ওই ভবনের গায়ে কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে ৪০০ (১) ধারা অনুযায়ী নোটিস সাঁটিয়ে দেওয়া হয়। নোটিসে স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপযুক্ত জবাব বা বৈধ নথি পেশ করা না হলে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সংশ্লিষ্ট অংশ ভেঙে ফেলার মতো পদক্ষেপ করা হবে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগ ছিল যে ওই ভবনের একাংশ অনুমোদিত নকশা-বহির্ভূত ভাবে নির্মিত হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকেরা সম্প্রতি পরিদর্শনে যান। প্রাথমিক তদন্তে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ার পরেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে খবর। এর পরই কলকাতা পুর আইন অনুযায়ী নোটিস জারি করা হয়েছে। নোটিসে বাড়ির মালিক করিম বক্স খানকে সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টের সময় স্পেশ্যাল অফিসার (বিল্ডিং) দফতরে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁকে সংশ্লিষ্ট নির্মাণের অনুমোদিত নকশা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং অন্যান্য বৈধ কাগজ জমা দিতে বলা হয়েছে। পুরসভার দাবি, নির্ধারিত সময়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে ভাঙার কাজ শুরু হতে পারে।
এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরেই ওই ভবনে নিয়ম ভেঙে নির্মাণকাজ চলছিল। যদিও কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। পুর প্রশাসনের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে পুরসভা। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে একাধিক বেআইনি নির্মাণে নোটিস দেওয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই জে জি খান রোডের এই কার্যালয়ের ক্ষেত্রেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি প্রশাসনের।
এ প্রসঙ্গে বিধায়ক জাভেদের বক্তব্য, ‘‘যে বাড়িটিকে অবৈধ বলা হচ্ছে, তার সব বৈধ কাগজপত্র ও প্ল্যান আমার কাছে রয়েছে। সেই সব কিছুই কলকাতা পুরসভা অনুমোদন দিয়েছিল। আমি সেই সব নথি জোগাড় করার কাজ শুরু করেছি। আশা করি আগামী দু’এক দিনের মধ্যেই সব কিছু কলকাতা পুরসভার হাতে পৌঁছে দিতে পারব।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমার একতলার একটি বাড়িকেও অবৈধ বলা হচ্ছে। আমি বলতে চাই, ১৯৯৫ সালে যখন আমি নির্দল কাউন্সিলর হিসাবে জয়ী হয়েছিলাম, তখন সেই বাড়িটি পুরসভার যাবতীয় অনুমোদন নিয়ে তৈরি করেছিলাম। সেই বাড়ির নথিও আমি পুরসভার কাছে পেশ করব।’’