Bulldozer Model

দখল করা জমিতে তৃণমূলের ১৫ বছরের কার্যালয়ে বুলডোজ়ার

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পরে একটি বাড়ির সামনের অংশ দখল করে প্রথমে ‘মাঠপুকুর ব্যায়াম সমিতি’ নামে ক্লাব তৈরি হয়। পরে সেটিই তৃণমূলের কার্যালয়ে পরিণত হয়। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মদ-জুয়ার আসর ও নানা অসামাজিক কাজ চলত বলেও অভিযোগ এলাকাবাসীর।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ ০৬:০৯
Share:

— প্রতীকী চিত্র।

ই এম বাইপাসের ধারের মাঠপুকুর এলাকায় দেবেন্দ্রচন্দ্র দে রোডের উপরে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয় শনিবার বুলডোজ়ার দিয়ে ভেঙে ফেলা হল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল ট্যাংরা থানার পুলিশ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পরে একটি বাড়ির সামনের অংশ দখল করে প্রথমে ‘মাঠপুকুর ব্যায়াম সমিতি’ নামে ক্লাব তৈরি হয়। পরে সেটিই তৃণমূলের কার্যালয়ে পরিণত হয়। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মদ-জুয়ার আসর ও নানা অসামাজিক কাজ চলত বলেও অভিযোগ এলাকাবাসীর।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই জমি নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। বাড়ির মালিক মানিকলাল কুণ্ডুর অভিযোগ, ২০১১ সালে তাঁকে মারধর করে বাড়ির সামনের অংশ দখল করা হয়। পরে সেখানে ক্লাবের নাম দিয়ে রাজনৈতিক কার্যালয় শুরু হয়। শনিবার ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে মানিকলাল বলেন, “আমাকে প্রথমে জায়গাটি ছেড়ে দিতে বলা হয়। রাজি না হওয়ায় মারধর করে বাড়ির সামনের এই জমি ওরা দখল করে। কত বার কত জায়গায় বলেছি, কোনও লাভ হয়নি।” তাঁর মেয়ে পায়েল কুণ্ডুর দাবি, “স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানানো, তৎকালীন
মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়া— সব করেছি।” নতুন সরকার আসার পরে ফের বিষয়টি প্রশাসনিক স্তরে জানানো হয়েছিল।

এ দিন ভাঙা হয়েছে পাশের একটি শহিদ বেদিও। রাস্তার ধারের এক চাল ব্যবসায়ীর অভিযোগ, “আমার দোকানের সামনের জায়গায় জোর করে এই বেদি বানায়। ”

এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, রাজনৈতিক কার্যালয় হলেও রাত বাড়লেই সেখানে মদ-জুয়ার আড্ডা, জোরে গান বাজানো চলত। এর নেপথ‌্যে স্থানীয় পুরপ্রতিনিধি জীবন সাহার প্রত‌্যক্ষ মদত রয়েছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের একাংশের। পাশাপাশি, এ সবের জন্য অভিযোগের আঙুল উঠেছে উত্তম গঙ্গোপাধ্যায় ও রাজু ঘোষ নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শনিবার সকালে সেই দখলের ঘর ভাঙার শুরুতে তাঁরা বাধা দিতে এলেও পরে কাউকে এলাকায় দেখা যায়নি। জীবন সাহার সঙ্গেও যোগাযোগ করা যায়নি।

এলাকাবাসীর আরও দাবি, গত ৪ মে পালাবদলের পরে রাতারাতি ঘরটির রং সবুজ থেকে কমলা করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, সেটিকে বিজেপির কার্যালয় হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন