Krishnanagar Student Murder

‘ক্রাইম থ্রিলার’ দেখেই খুন শিখেছে ছাত্রী, দাবি

যে মিশনারি আবাসিক স্কুলে ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে একটি বড় হলঘরে জনা তিরিশ মেয়ে থাকে। প্রথম শ্রেণির ছাত্রীর বাবা তাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন।

সুস্মিত হালদার

শেষ আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬ ০৮:৪৮
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

মোবাইলে নিয়মিত ‘ক্রাইম থ্রিলার’ আর ‘হরর মুভি’ দেখত মেয়েটি। আর সেখান থেকেই বালতির জলে মাথা চুবিয়ে রেখে খুনের উপায় জানতে পারে সে। নদিয়ার আবাসিক স্কুলে ছ’বছরের বালিকা খুনের তদন্তে জানা গিয়েছে বলে পুলিশের দাবি।

শুক্রবার রাতে দশম শ্রেণির দুই ছাত্রী বালিকাটিকে শৌচাগারে নিয়ে যায় বলে অন্য এক ছাত্রী পুলিশকে জানিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, তার আগের রাতেই তারা দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়া অন্য এক বালিকাকে খুনের ছক কষেছিল। কিন্তু অঘোরে ঘুমিয়ে থাকায় তাকে তারা শৌচাগারে নিয়ে যেতে পারেনি। পরে, প্রথম শ্রেণির ছাত্রীটিকে নিশানা করা হয়। অভিযুক্ত দুই ছাত্রীকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করে বহরমপুরে হোমে পাঠানো হয়েছে।

যে মিশনারি আবাসিক স্কুলে ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে একটি বড় হলঘরে জনা তিরিশ মেয়ে থাকে। প্রথম শ্রেণির ছাত্রীর বাবা তাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। মা অন্য ফের বিয়ে করে ভিন্-রাজ্যে‌ থাকেন। ক’দিন আগে মেয়েটির সৎ-বাবা গ্রামে ফিরে মেয়েকে নিয়ে যান। শুক্রবারই ফের হস্টেলে রেখে যান। পুলিশ জেনেছে, ওই রাতে ছোট মেয়েটিকে নিজেদের কাছে নিয়ে শোয় দশম শ্রেণির দুই ‘দিদি’। তাদের এক জনের চেহারা বড়সড়। অন্য জন ছোটখাটো। এই দ্বিতীয় মেয়েটিরই ফোনে ‘থ্রিলার’ বা ‘হরর’ সিনেমা-সিরিজ় দেখার নেশা। পুলিশের দাবি, বালিকাটিকে শৌচাগারে নিয়ে গিয়ে সে তার মাথা বালতির জলের মধ্যে ঠেসে ধরেছিল। বড় চেহারার ছাত্রীটি চেপে ধরে রাখে দুই হাত। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তারা পেনসিল ছোলার ‘শার্পনার’ থেকে খুলে রাখা ব্লেড দিয়ে বালিকার দুই হাতের শিরা কাটার চেষ্টা করে। তা-ও সিনেমা দেখে শেখা। কিন্তু ভোঁতা ব্লেডে গভীর ক্ষত হয়নি। এর পর দু’জনেই নিজেদের বিছানায় এসে শুয়ে পড়ে। শনিবার সকালে এক ছাত্রী বালিকার মৃতদেহ দেখতে পায়।

তদন্তকারীরা জেনেছেন, ওই রাতে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী শৌচাগারে গিয়েছিল। সে ফেরার পরে, মিনিট পনেরো অপেক্ষা করে বালিকাটিকে তারা তুলে নিয়ে যায় শৌচাগারে। কিন্তু সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী দেখে ফেলে। সোমবার তাকে কৃষ্ণনগরে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে নিয়ে গিয়ে জবানবন্দি দেওয়ানো হয়। আরও দুই ছাত্রী জবানবন্দি দিয়েছে— যে প্রথম মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেছিল এবং আর একটি মেয়ে যাকে ওই দুই ছাত্রী বলেছিল যে, তারা এই হস্টেল বন্ধ করে দেবে। কিন্তু কেন? তদন্তকারীদের দাবি, দু’জনেরই ‘প্রেমিক’ আছে। অথচ, হস্টেল থেকে বেরোনো নিষেধ, মোবাইল রাখাও মানা। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ দেবাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, “ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বা নেট দুনিয়ার আসক্তি মাদকের চেয়ে কম নয়।”

(সহ-প্রতিবেদন: সম্রাট চন্দ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন