সভাপতির দায়িত্ব নিয়েই দমদম লোকসভার অধীনস্থ কাউন্সিলরদের নিয়ে মমতার বাড়িতে বৈঠক ডাকলে মদন মিত্র। ফাইল ছবি।
দায়িত্ব নিয়েই কাজ শুরু করে দিলেন মদন মিত্র। ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে পরাজয়ের পর এখন বিরোধী আসনে বসেছে তৃণমূল। শোচনীয় পরাজয়ের পর সাংগঠনিক রদবদলের হাত দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই পর্যায়ে শনিবার দমদম লোকসভার সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব দিয়েছেন কামারহাটির প্রবীণ বিধায়ক মদনকে। দায়িত্ব পেয়েই রবিবার দমদম লোকসভার অধীন আটটি পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠক ডাকার বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছেন তিনি।
দমদম, উত্তর দমদম, দক্ষিণ দমদম, পানিহাটি, খড়দহ, কামারহাটি, বরানগর, নিউ ব্যারাকপুর পুরসভার কাউন্সিলরদের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কালীঘাটের বাসভবনে ডাকা হয়েছে। রবিবার সকলকে ফোন করে মদন স্বয়ং এই বৈঠকের আসতে বলেছেন। প্রসঙ্গত, ক্ষমতা বদলের পর থেকেই গত সাত দিনে ৭০ জনের বেশি তৃণমূল নেতা গ্রেফতার হয়েছেন। কয়েক জন কাউন্সিলর গ্রেফতার হয়েছেন পুলিশের হাতে। শুধু শনিবারই রাজ্য জুড়ে তৃণমূলের অন্তত ১৭ জন গ্রেফতার হয়েছেন। শনিবারই দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। সেই আবহে মমতার বাড়িতে তৃণমূল কাউন্সিলরদের এই বৈঠক যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে দমদম লোকসভার অধীন সাতটি বিধানসভার মধ্যে ছয়টিতেই পরাজিত হয়েছে তৃণমূল। দমদমে ব্রাত্য বসু, উত্তর দমদমে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, পানিহাটিতে তীর্থঙ্কর ঘোষ, রাজারহাট গোপালপুরে অদিতি মুন্সী, খড়দহে দেবদীপ পুরোহিত, বরাহনগরে সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজিত হন। কেবলমাত্র কামারহাটিতে জিতেছেন মদন। তাই তাঁর অভিজ্ঞ কাঁধেই সভাপতির গুরুদায়িত্ব তুলে দিয়েছেন মমতা। এর আগে দমদম এবং ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি পদে ছিলেন সাংসদ পার্থ ভৌমিক। দমদমের দায়িত্ব থেকে সরানো হলেও, ব্যারাকপুরের সভাপতি পদে রয়েছেন এই নাট্যকার-রাজনীতিক।