Medicine

যুদ্ধের ‘প্রভাব’ ওষুধে, রাজ্যে সঙ্কটে সরবরাহ

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের দাবি, স্থানীয় ভাবে কেনার পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালের ওষুধ কেনার পুরনো দরপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে দরপত্র ডাকা হয়েছে। ৭ জুনের মধ্যে আগ্রহী সংস্থাগুলিকে আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

পারিজাত বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ ০৮:১০
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

এত দিন ছিল গ্যাস এবং তেল। এ বার পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের ওষুধের ভাঁড়ারেও। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, এই প্রভাবের জন্য রাজ্যে পালাবদলের পর নতুন সরকার এসেই স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ওষুধের সঙ্কটের মুখোমুখি হয়েছে। ওই সূত্রের দাবি, পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্বিমুখী নীতি নিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। সম্প্রতি সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোর্সের অধিকর্তা রাজ্যের সব হাসপাতালকে পাঠানো নির্দেশে জানিয়েছেন যে ওষুধের আকালের মোকাবিলা করতে আপাতত জরুরি ভিত্তিতে সরকারি তালিকাভুক্ত (ক্যাট আইটেম) ওষুধগুলি স্থানীয় ভাবে (লোকাল পারচেজ়) কেনা যাবে। এমনিতে, সরকারি তালিকাভুক্ত ওষুধ বাইরে থেকে কেনার নিয়ম নেই। নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে সেগুলি কেনার কথা। যদিও পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব ওষুধ শিল্পে কত দূর পড়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ওষুধের দোকান মালিকদের সংগঠন।

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের দাবি, স্থানীয় ভাবে কেনার পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালের ওষুধ কেনার পুরনো দরপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে দরপত্র ডাকা হয়েছে। ৭ জুনের মধ্যে আগ্রহী সংস্থাগুলিকে আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সেই তালিকায় প্যারাসিটামল, স্যালাইন, ব্যথার ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক, স্নায়ুর ওষুধ, মানসিক রোগের ওষুধ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিসের ওষুধ, অ্যান্টাসিড, জ্বরের ওষুধ, হাঁপানির ওষুধ আছে। এর মধ্যে কোনওটি ৩ কোটি ৬০ লক্ষ স্ট্রিপ, কোনওটি আড়াই কোটি স্ট্রিপ, আবার কোনওটি দেড় কোটি থেকে ৫০ লক্ষ স্ট্রিপ কেনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। সূত্রের দাবি, পুরনো দরপত্রের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত রয়েছে। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে ওষুধের কাঁচামাল ও পরিবহণের খরচ প্রচুর বেড়ে যাওয়ায় পুরনো দামে সংস্থাগুলি ওষুধ সরবরাহ করতে পারছে না। তাই নতুন দরপত্র ডাকতে হয়েছে।

এ ছাড়াও সমস্যা আছে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে ‘শ্যাডো ফান্ড’ বা ছদ্ম বরাদ্দে বহু ওষুধ কেনা হয়েছিল। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত জেলায়-জেলায় সরকারি ওষুধ সরবরাহকারীদের শ্যাডো ফান্ডের প্রায় ৩২ কোটি টাকা এবং শহরাঞ্চলে প্রায় ২২ কোটি টাকা বকেয়া। এই বকেয়া নিয়ে ওষুধ সরবরাহ করতে রীতিমতো নাকানিচোবানি খাচ্ছে সংস্থাগুলি। তাতেও ওষুধের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।

স্বাস্থ্য দফতরের এক শীর্ষ কর্তার কথায়, ‘‘যুদ্ধের জন্য ওষুধের কাঁচামালের দাম বেড়ে গিয়েছে। যথেষ্ট পরিমাণে কাঁচামাল এবং ওষুধ দেশে এসে পৌঁছচ্ছে না। তবে সরকার সঙ্কটের মোকাবিলার সব ধরনের চেষ্টা করছে। তাই আপাতত ওষুধ লোকাল পারচেজ় করতে বলা হয়েছে।’’ শ্যাডো ফান্ডের টাকা বকেয়া সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য, ‘‘কয়েক হাজার কোটির ওষুধ কেনা হয়। ভাগে-ভাগে সারা বছর আমরা টাকা দিই। কখনও এমন হয়নি যে সংস্থাগুলি টাকা পায়নি। জানুয়ারি থেকে মার্চের বকেয়াও পেয়ে যাবে।’’

ওষুধের দোকানের মালিকদের সংগঠন ‘বেঙ্গল কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশন’-এর মুখপাত্র শঙ্খ রায়চৌধুরী বলেন, ‘‘ওষুধ বা কাঁচামালের দাম বেড়েছে বলে আমরা এখনও তেমন টের পাচ্ছি না। তা ছাড়া, আগে ওষুধের কাঁচামাল চিন থেকে আসত। এখন ভারতেই অধিকাংশ কাঁচামাল তৈরি হয়। তাই যুদ্ধের জেরে কেন ওষুধের আকাল হবে, তা আমাদের ঠিক বোধগম্য হচ্ছে না।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন