Sarasari Shankar

‘সরাসরি শঙ্কর’-এ অভিযোগ জানাতে শিলিগুড়িতে দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দারাও! বিধায়কের দ্বারস্থ পুলিশ থেকে শিক্ষক

সমস্ত অভিযোগ-অনুযোগ খতিয়ে দেখতে শঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘‘গত ১৫ বছরের শাসনব্যবস্থায় এই রাজ্যের মানুষ ন্যায়বিচার পাননি। সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, অভাব-অভিযোগ বর্তমান সরকার দূর করবে। সেই কাজই করছি।’’

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ ১৫:০৪
Share:

নয়া কর্মসূচি নিয়ে অভিযোগ শুনতে বসেছেন শঙ্কর ঘোষ এবং তাঁর দলের নেতারা। —নিজস্ব চিত্র।

রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনতে দলীয় কার্যালয়ে ‘জনতার দরবার’ করছেন। সেই পথে হাঁটলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষও। নাগরিকদের অভাব-অভিযোগ শুনতে তাঁর ‘সরাসরি শঙ্কর’ কর্মসূচির প্রথম দিনেই জমল অভিযোগের পাহাড়।

Advertisement

রবিবার শিলিগুড়িতে ‘সরাসরি শঙ্কর’ কর্মসূচির প্রথম দিন কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, মালদহ থেকে মুর্শিদাবাদ জেলার মানুষ ভিড় করেছেন বিধায়কের দরবারে। তাঁদের কেউ চাকরিহারা, কেউ আবাস প্রকল্প থেকে বঞ্চিত তো কেউ জমিজমা সংক্রান্ত সমস্যায় পড়ে শঙ্করের কাছে এসেছেন। প্রায় সকলেরই বক্তব্য, দূরত্ব বড় কথা নয়, অভিযোগ জানিয়ে যদি সুরাহা হয়, সেটাই তাঁদের আশা।

পুলিশরকর্মী থেকে স্কুলশিক্ষক, বিজেপি বিধায়কের কাছে গিয়ে বিগত সরকারের আমলে প্রতারণা এবং বঞ্চনার অভিযোগ করছেন অনেকে। অভিযোগ, অতীতে বিভিন্ন দফতরে ঘুরছেন। কিন্তু সুরাহা মেলেনি। তৃণমূল সরকারের আমলে ‘মেয়রকে বলো’ অনুষ্ঠানে অভিযোগ করেছেন। কাজ হয়নি। এক চাকরিহারার কথায়, ‘‘তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আশ্বস্ত করেছিলেন যে তাঁরা ক্ষমতায় এলে একজন যোগ্য ব্যক্তিরও চাকরি যাবে না। সেই প্রতিশ্রুতির কথা মাথায় রেখে শঙ্কর ঘোষের কাছে এসেছি।’’

Advertisement

মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার বাসিন্দা শুভাশিস মান্না বলেন, ‘‘কোনও প্রকার দুর্নীতি না করেও ২০১৬ সালের প্যানেলের সঙ্গে আমাদের চাকরিও চলে গিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, যোগ্য ব্যক্তিরা চাকরি পাবেন। আজ তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রতিনিধির কাছেই এই সমস্ত বিষয় তুলে ধরতে এসেছি। তিনি কথাও দিয়েছেন যে দ্রুত বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন।’’

শিলিগুড়ির বাসিন্দা সুবর্ণা সাহার সমস্যা হল তাঁর মায়ের নামের জমি হঠাৎ বেদখল হয়ে গিয়েছে। এক ব্যক্তিকে ভাড়া দেওয়ার পর পরে জানা যায় তিনি সেই জমি অন্য কোনও ব্যক্তির কাছ থেকে কিনে নিয়েছেন। মহিলার অভিযোগ, ‘‘শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবকেও জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। তাই শঙ্কর ঘোষকে জানালাম।’’ পুলিশকর্মী নন্দিত মজুমদার বিধায়কের কাছে অভিযোগ করেছেন, তিনিও জমি নিয়ে আর্থিক প্রতারণার শিকার। অতীতে তৃণমূল সরকার তাঁর অভিযোগ গ্রহণ করেননি। বিধায়ক শঙ্করের কাছে তাঁর আশা, এ বার সমস্যা মিটবে।

সমস্ত অভিযোগ-অনুযোগ খতিয়ে দেখতে দেখতে শঙ্কর বলেন, ‘‘গত ১৫ বছরের শাসনব্যবস্থায় এই রাজ্যের মানুষ ন্যায়বিচার পাননি। সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, অভাব-অভিযোগ বর্তমান সরকার দূর করবে। সেই কাজই করছি। শিক্ষা সংক্রান্ত যে যে বিষয় রয়েছে, সেগুলোও মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর দফতরে পৌঁছে দেব।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘একাধিক বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষ এসেছেন। সরকারি অফিসের দুর্নীতির শিকার হয়েছেন, এমন মানুষও এসেছেন। আবার বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন না, এমন ব্যক্তিরাও এসেছেন। আমি চেষ্টা করব সমস্যা সমাধানের।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement