প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত ৯ মে ব্রিগেডে শপথ সমারোহে। —ফাইল চিত্র।
এক লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে ফলতা জিতে নিয়েছে বিজেপি। রেকর্ড ব্যবধানে ফলতা জয়ের পর এ বার পশ্চিমবঙ্গবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লিখলেন, এই জনাদেশে গণতন্ত্রের জয় হল। হেরে গেল ভয়ভীতি-হুমকি। পশ্চিমবঙ্গের উন্নতির জন্য ভবিষ্যতেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করলেন রাজ্যবাসীর কাছে।
এ বারের নির্বাচনে যে বিজেপি জিতবে, তা প্রত্যাশিতই ছিল। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ভোটের আগেই ময়দান ছেড়েছেন। তবে বিজেপি যে এই বিপুল ব্যবধানে ফলতায় বিজয়ধ্বজা ওড়াবে, তা আগে থেকে অনুমান করতে পারেনি অনেকেই। ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটে জিতেছেন বিজেপির দেবাংশু পান্ডা। তৃণমূল সেখানে নেমে গিয়েছে চতুর্থ স্থানে। এই বিরাট ব্যবধানের জয়ের পর দলীয় প্রার্থী, নেতা-কর্মী-সহ পশ্চিমবঙ্গবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “ফলতাবাসী নিজেদের রায় দিয়ে দিয়েছে! গণতন্ত্রের জয় হয়েছে। ভয়ভীতি-হুমকি হেরে গিয়েছে।” এর পরেই ফলতায় রেকর্ড ব্যবধানে জয়ের জন্য দলীয় প্রার্থী দেবাংশুকে অভিনন্দন জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “বিজেপির উপর যে পশ্চিমবঙ্গবাসীর অটুট আস্থা রয়েছে, এটা তারই প্রতিফলন।” গত ৯ মে, রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের সমারোহ থেকে গঠিত হয় এ রাজ্যে বিজেপির প্রথম সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে ইতিমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপও করেছে নতুন বিজেপি সরকার। আগামী ১ জুন থেকে অন্নপূর্ণা ভান্ডার, সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাত্রা শুরু করার ঘোষণা করা হয়েছে। সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের কাজও শুরু হয়েছে।
নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার দু’সপ্তাহ পরেই এই নির্বাচন হচ্ছে। রাজ্যের নতুন সরকার যে ইতিমধ্যে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ করেছে, তা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীও। তিনি লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ কাজ করে চলেছে, তা মানুষের নজর এড়ায়নি। এই কারণেই পশ্চিমবঙ্গবাসী আবার আমাদের আশীর্বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।” ফলতা জয়ের পরে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সকল নেতা-কর্মীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী দিনেও পশ্চিমবঙ্গের উন্নতির জন্য বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকার নিরন্তর কাজ করে যাবে।
ফলতার নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হত, তাতে রাজ্য রাজনীতির সার্বিক হিসাবে মোটের উপর কোনও প্রভাব পড়ত না। এই ভোটে জয়ের ফলে বিজেপির শক্তি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বিধানসভায়। ২০৭ থেকে ২০৮ হয়েছে বিজেপি। এ হেন একটি পুনর্নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী মোদীর শুভেচ্ছাবার্তা স্পষ্ট করে দেয়, পশ্চিমবঙ্গ জয়কে এ বছরে কতটা গুরুত্ব দিয়েছিল বিজেপি। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইউরোপ সফরে গিয়েও নেদারল্যান্ড্সে পশ্চিমবঙ্গে ঝালমুড়ি খাওয়ার কথা তুলে ধরেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।