Jahangir Khan Arrested

‘জনরোষ’ এড়াতে কাকভোরে কোর্ট লক আপে ঢোকানো হল জাহাঙ্গিরকে! বিমানবন্দর থেকে বার করা হয় প্রবেশপথ দিয়ে

‘জনরোষ’ এড়াতে ভোরেই কোর্ট লক আপে ঢোকানো হল ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান ওরফে ‘পুষ্পা’-কে। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ তাঁকে ডায়মন্ড হারবার কোর্টে নিয়ে যায় পুলিশ। 

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬ ১৩:১১
Share:

জাহাঙ্গির খান। —ফাইল চিত্র।

‘জনরোষ’ এড়াতে ভোরেই কোর্ট লক আপে ঢোকানো হল ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান ওরফে ‘পুষ্পা’-কে। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ তাঁকে ডায়মন্ড হারবার কোর্টে নিয়ে যায় পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সম্ভাবনা ছিল। আদালতে হাজির করানোর সময় ফলতার পরাজিত তৃণমূল প্রার্থীর দিকেও উড়ে আসত পারত ডিম কিংবা টমেটো। সেই সম্ভাবনা এড়াতেই সকলের নজর এড়িয়ে কাকভোরে আদালতে নিয়ে গিয়ে কোর্ট লক আপে ঢোকানো হয় জাহাঙ্গিরকে। আদালতে শুনানি অবশ্য নির্ধারিত সময়েই শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement

জাহাঙ্গিরকে নিয়ে গোড়া থেকেই সতর্ক ছিল পুলিশ। সোমবার রাতে তাঁকে বাগডোগরা থেকে বিমানে কলকাতায় নিয়ে আসার পর বিমানবন্দরের প্রবেশপথ (অ্যারাইভাল গেট) দিয়ে বার করে আনা হয়। নিরাপত্তাগত কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। একটি ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, পুলিশি পাহারায় মুখে নীল মাস্ক পরে বিমানবন্দরের প্রবেশপথ ধরে বেরিয়ে আসছেন জাহাঙ্গির।

কলকাতা হাই কোর্ট রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, তিনি একা একা নেপালে পালাচ্ছিলেন। ইন্দো-নেপাল সীমান্ত থেকে এসটিএফের হাতে পাকড়াও হন। জানা গিয়েছে, রাজ্য এসটিএফ এবং দার্জিলিং জেলা পুলিশের একটি দল খবর পেয়ে রবিবার থেকে পানিট্যাঙ্কির সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছিল। রাতেই তাঁরা নিশ্চিত হন, খবর ঠিকঠাক। প্রতিবেশী দেশে পালিয়ে যাওয়ার ছক কষেছিলেন ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির। একমুখ দাড়ি আর সাদা টি শার্ট, ধূসর ট্রাউজার্স পরিহিত জাহাঙ্গির তখন বিধ্বস্ত। পুলিশের একটি সূত্র বলছে, রবিবার রাতেই জাহাঙ্গিরকে ধরে ফেলেছিল তারা। নেপাল পুলিশের সঙ্গে কথাবার্তা বলা, বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করা হচ্ছিল। দুপুরে পানিট্যাঙ্কির ইন্দো-নেপাল সীমান্ত দিয়ে জাহাঙ্গিরকে নিয়ে প্রথমে পুলিশ চলে যায় ফাঁসিদেওয়া থানায়। একপ্রস্ত জিজ্ঞাসাবাদ সেখানেই হয়েছে।

Advertisement

বিকেলে জাহাঙ্গিরকে বাগডোগরা বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবারই তাঁকে আনা হয় কলকাতায়।

গত ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন হয়েছিল। নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান জাহাঙ্গির। সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল সোনার ফলতার। তাই আমাদের সম্মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী (শুভেন্দু অধিকারী) ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশ্যাল প্যাকেজ দিচ্ছেন। সেই জন্য আমি ২১ মে যে পুনর্নির্বাচন আছে, সেই লড়াই থেকে আমি নিজেকে দূরে সরিয়ে নিলাম।’’ ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেও ইভিএমে তৃণমূলের প্রতীকের পাশে জাহাঙ্গিরের নাম ছিল। গত ২৪ মে নির্বাচনের ফল বেরোলে দেখা যায়, ফলতায় ১ লক্ষ ৯ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়েছে বিজেপি। ৪০ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে সিপিএম। আর ৭৭৮৩টি ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে নির্বাচনী দৌড় শেষ করেন জাহাঙ্গির। ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকেই কার্যত বেপাত্তা ছিলেন তিনি। বাড়ি বা দলীয় কার্যালয়, কোথাও তাঁকে দেখা যায়নি।

২০১৯ সালে জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলায় রক্ষাকবচ পান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ফলতার ওই তৃণমূল নেতা। এর পাশাপাশি, ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনের আগে হাই কোর্ট থেকে আর একটি রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির। কিন্তু গত ২৬ মে জাহাঙ্গিরকে দেওয়া সমস্ত রক্ষাকবচই প্রত্যাহার করে নেয় কলকাতা হাই কোর্ট। ফলে জাহাঙ্গিরকে গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে আর কোনও আইনি বাধা ছিল না পুলিশের।

জাহাঙ্গিরের ‘ঝুকেগা নেহি’ সংলাপ ঘিরে সরগরম হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। ফলতার নির্বাচনের আগে জাহাঙ্গিরের বাড়িতে হানা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশ। নেতৃত্বে ছিলেন উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং এ রাজ্যের অন্যতম পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল। ভোটারদের হুমকি দিলে ফল ভাল হবে না, মোটামুটি এটাই জাহাঙ্গিরের পরিচিতদের বুঝিয়ে গিয়েছিলেন যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যের ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’। ওই ঘটনার পরে ওই পুলিশ পর্যবেক্ষকের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল তৃণমূল। জাহাঙ্গির বলেছিলেন, ওই পুলিশ আধিকারিক ‘সিংহম’ হলে তাঁরাও এক এক জন ‘পুষ্পা’। নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতমূলক আচরণের সামনে তাঁরা ঝুঁকবেন না। কার্যক্ষেত্রে অবশ্য ঝুঁকতেই হয় জাহাঙ্গিরকে। ভোটের ময়দান ছেড়েই চলে যান তিনি। শেষমেশ গ্রেফতারও হলেন তিনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement