—প্রতীকী চিত্র।
রাজ্যে বন্দিসংখ্যার তুলনায় সংশোধনাগারের জায়গা কম থাকা নিয়ে অভিযোগ আছে। তা নিয়ে মামলাও চলছে। যদিও কারা দফতরের খবর, বিভিন্ন জেলায় সংশোধনাগার তৈরির পরিকল্পনা আছে। পূর্বতন সরকারের আমলে কয়েকটি সংশোধনাগার তৈরির অনুমোদনও চাওয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যে পালাবদল ঘটে গিয়েছে। নতুন সরকারের আমলে সেই অনুমোদন মেলে কি না, সে দিকে তাকিয়ে আছে কারা দফতরের একাংশ। কারা-কর্তাদের একাংশ অবশ্য এ-ও বলছেন, কারাকর্মী পদও অনেক খালি। নতুন সংশোধনাগার তৈরি হলে কর্মী সংখ্যাও বাড়াতে হবে। তাই নিয়োগের বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে।
কলকাতা হাই কোর্টের মামলায় বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের সংশোধনাগার সংক্রান্ত বিষয়ে রিপোর্ট তলব করেছিল। সেই মামলায় কারা দফতর জানিয়েছে, মালদহের চাঁচলে ইতিমধ্যেই একটি নতুন সংশোধনাগার চালু করা হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের নিমতৌড়িতে নতুন একটি সংশোধনাগার নির্মাণের কাজ শেষ হলেও আনুষঙ্গিক কাজ বাকি। সেই কাজ শেষ হলেই সেটি কারা দফতরের হাতে আসবে। এ ছাড়াও, বাঁকুড়ার খাতড়া, হাওড়ার সাঁতরাগাছি এবং উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে নতুন সংশোধনাগার তৈরির জন্য অর্থ দফতরের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। জলপাইগুড়ির মালবাজারে নতুন সংশোধনাগার তৈরি করতে জমি চিহ্নিত করার কাজ শেষ হয়েছে। জমি হস্তান্তর ও নির্মাণের জন্য অর্থ দফতরের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, হাই কোর্টের মামলায় কারাকর্মীদের বিভিন্ন পদ শূন্য আছে বলেও তথ্য উঠে এসেছিল। কারা দফতরের কর্তাদের একাংশও বলছেন, নতুন সংশোধনাগার তৈরি হলে সেই সংশোধনাগারের পরিপ্রেক্ষিতে কারারক্ষী ও অফিসার পদ সৃষ্টি হবে। তার পরিপ্রেক্ষিতে নিয়োগও করতে হবে। তবে রীতি অনুযায়ী, গোড়াতেই নিয়োগ না-হলে অন্য সংশোধনাগার থেকে কর্মী নতুন সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তী কালে নিয়োগ করা হয়। কারণ, সংশোধনাগার চালুর ন্যূনতম এক মাস আগে সেখানে কারাকর্মীদের মোতায়েন করা হয়। কিন্তু কারা দফতরের একাংশের মতে, বর্তমানে যে পরিমাণ কর্মী ও অফিসার আছেন, তাতে একাধিক নতুন সংশোধনাগার চালু করতে গেলে অন্যান্য সংশোধনাগার থেকে নিতে হবে। সে ক্ষেত্রে ওই সংশোধনাগারগুলিতে পর্যাপ্ত কর্মীর অভাব হবে কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে।
এক কারা-কর্তা বলেন, ‘‘নতুন সরকার এসেছে। দফতরের নতুন মন্ত্রী এলে নতুন সংশোধনাগার, নিয়োগ, পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে তাঁকে পুুরো বিষয়টি জানানো হবে।’’ তিনি জানান, বেশ কিছু সংশোধনাগারের পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজও চলছে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে