বাঁকুড়া আদালতে হাজিরার সময় তৃণমূলের দুই নেতা। —নিজস্ব চিত্র।
একই দিনে দু’টি পৃথক অভিযোগে বাঁকুড়ার বেলিয়াতোড় ও বাঁকুড়া শহরে গ্রেফতার তৃণমূলের দুই ‘দাপুটে’ নেতা। বেলিয়াতোড় থেকে গ্রেফতার পল্লব পাণ্ডে। তিনি তৃণমূল পরিচালিত গঙ্গাজলঘাটি পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ। আর বাঁকুড়া শহর থেকে গ্রেফতার পীযূষ চক্রবর্তী ওরফে ‘ক্যাসেট বাপি’ বাঁকুড়া পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর পিঙ্কি চক্রবর্তীর স্বামী।
পুলিশ এবং আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বাঁকুড়ার বেলিয়াতোড় থানায় এক চাকরিপ্রার্থী গঙ্গাজলঘাটি পঞ্চায়েতের সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ পল্লবের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগকারী জানিয়েছেন, ২০২১ সালে তাঁকে পুরুলিয়া জেলার স্বাস্থ্য দফতরে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার নাম করে ৪ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা নেন পল্লব। চাকরি হয়নি। টাকাও ফেরত দেননি ওই তৃণমূল নেতা।
আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে শনিবার রাতে পল্লবকে গ্রেফতার করে বেলিয়াতোড় থানার পুলিশ। রবিবার তাঁকে বাঁকুড়া জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক তিন দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে হাজিরার সময় ধৃত তৃণমূল নেতা বলেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মিথ্যা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।’’
অন্য দিকে, শনিবার রাতেই তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হন বাঁকুড়া শহরে দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা বাঁকুড়া পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর পিঙ্কির স্বামী পীযূষ। বাঁকুড়া সদর থানা এলাকা থেকে তাঁকে পাকড়াও করেছে পুলিশ। রবিবার তাঁকেও তিন দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে বাঁকুড়া জেলা আদালত।
পুলিশ সূত্রে খবর, সম্প্রতি বাঁকুড়া শহরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা, এক রঙের ব্যবসায়ী পীযূষ ওরফে ক্যাসেট বাপির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানান। ওই ব্যবসায়ী দাবি করেন, ২০২৩ সালে তিনি দোকান তৈরি করতে গেলে পীযূষ রাজনৈতিক ক্ষমতাবলে বাধা দেন। নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। তার পরে ভয় দেখিয়ে ২ লক্ষ টাকা তোলা চান। একরকম বাধ্য হয়ে ওই তোলার টাকা পীযূষের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। তার পরেই নির্মাণকাজ শেষ করার ‘অনুমতি’ পেয়েছিলেন। আদালতে হাজির করানোর সময় ধৃত কোনও মন্তব্য করেননি। তাঁর আইনজীবী অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘২০২৩ সালের ঘটনার কথা বলা হচ্ছে। এতদিন অভিযোগকারী কোথাও অভিযোগ জানাননি। এখন রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তিনি অভিযোগ জানাচ্ছেন। তাই অভিযোগের নেপথ্যে রাজনৈতিক কারণ থাকতেই পারে। পুলিশ তদন্ত করছে।’’
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, তোলাবাজি, কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ থাকলে সরাসরি থানায় যেতে পারেন যে কোনও নাগরিক। পুলিশ অভিযোগ খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। তার পর গত সাত দিনে গ্রেফতারির সংখ্যা ৭০ পেরিয়েছে। ধৃতদের সকলেই তৃণমূলের। তোলাবাজি থেকে আর্থিক প্রতারণা, রাজনৈতিক হিংসায় ইন্ধন দেওয়া থেকে হুমকি, ভয় দেখানোর মতো অভিযোগ রয়েছে ধৃতদের বিরুদ্ধে। ওই সংক্রান্ত গ্রেফতারি অব্যাহত।