Shantanu Sen TMC

বিজেপি সরকারকে কৃতজ্ঞতা চিকিৎসক নেতা শান্তনু সেনের! স্বাস্থ্যে উন্নয়নের জন্য শুভেন্দুকে ধন্যবাদও, অস্বস্তিতে তৃণমূল

সমাজমাধ্যমে নিজেকে ‘চিকিৎসা আন্দোলনের দীর্ঘ দিনের সৈনিক’ বলে উল্লেখ করেছেন শান্তনু। স্বাস্থ্যে উন্নয়নের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ ০৯:৩৩
Share:

তৃণমূলের চিকিৎসক নেতা শান্তনু সেন। —ফাইল চিত্র।

রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানালেন তৃণমূলের চিকিৎসক নেতা শান্তনু সেন। যাতে নিঃসন্দেহে অস্বস্তি বাড়ল তৃণমূলের। শনিবার রাতে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে রাজ্যের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। শান্তনু তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন। আরজি কর আন্দোলনের সময়ে দলবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। পরে তাঁকে সাসপেন্ডও করা হয়েছিল। তবে ফের তৃণমূলের সঙ্গে শান্তনুর দূরত্ব ঘুচে গিয়েছিল। বিজেপিকে অভিনন্দন জানিয়ে শান্তনুর শনিবারের পোস্ট তাই নতুন করে অস্বস্তিতে ফেলেছে জোড়াফুল শিবিরকে।

Advertisement

সমাজমাধ্যমে শান্তনু লিখেছেন, ‘‘চিকিৎসা আন্দোলনের দীর্ঘ দিনের সৈনিক হিসাবে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সর্বভারতীয় সভাপতি ও ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বেঙ্গল স্টেট ব্রাঞ্চের বর্তমান রাজ্য সম্পাদক হিসাবে বাংলার নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার ও তার মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে রাজ্যের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে একাধিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমুখী প্রকল্প গ্রহণ করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ, অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’’

আরজি করে কর্তব্যরত চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলনে ‘রাত দখল’ কর্মসূচিকে সমর্থন করেছিলেন শান্তনু। দলের মধ্যে থেকেই দলবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগে তাঁকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। এমনকি, শান্তনুর স্ত্রীকেও জুনিয়র ডাক্তারদের পাশে থাকতে দেখা গিয়েছিল। হাসপাতালের প্রশাসনের অন্দরে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন শান্তনু। তাঁর সঙ্গে দলের সমীকরণ নিয়ে তখন বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। তৃণমূলের মুখপাত্রের পদ হারিয়েছিলেন তখনই। এর কয়েক মাসের মধ্যে দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে শান্তনুকে সাসপেন্ড করে তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। কত দিনের জন্য সাসপেন্ড, তা উল্লেখ করা হয়নি।

Advertisement

তৃণমূলে শান্তনু অভিষেকের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। দলে তিনি যখন নিলম্বিত, তখনও ডায়মন্ড হারবারের ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচিতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। চিকিৎসকের জোগান দেওয়া থেকে শুরু করে গোটা কর্মসূচি সামলানোর ভার তাঁর উপরেই ছিল। পরে নন্দীগ্রামে ‘সেবাশ্রয়’-এও শান্তনু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। এই পর্বে দল থেকে তিনি নিলম্বিতই ছিলেন। পরে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রচার যখন তুঙ্গে, তখন তৃণমূলের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, শান্তনুর সাসপেনশন তুলে নেওয়া হয়েছে। আবার তিনি দলের মুখপাত্র পদে বহাল হয়েছিলেন।

রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের পর সেই শান্তনুই এ বার বেসুরো। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনে নিজের পদ উল্লেখ করে এবং শুভেন্দুদের অভিনন্দন জানিয়ে দলকেই কোনও বার্তা তিনি দিতে চাইলেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসনে জিতে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বার সরকার গঠন করেছে বিজেপি। একের পর এক তৃণমূল নেতা গ্রেফতার হচ্ছেন। গ্রেফতারির আশঙ্কায় কেউ কেউ আদালতে ছুটছেন রক্ষাকবচের আবেদন নিয়ে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের অনেকেই দলের অন্দরের গলদ নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন। শান্তনু এর পর কী করেন, তা অবশ্য সময়ই বলবে।

শান্তনুর পোস্ট নিয়ে অস্বস্তির কথা তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী প্রকাশ্যে স্বীকার করতে চাননি। তিনি বলেন, ‘‘শান্তনু সেন ফেসবুকে যে পোস্ট করেছেন, তা তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ বা দলের মুখপাত্র হিসাবে নয়। আইএমএ-র পদাধিকারি হিসাবে করেছেন। করতেই পারেন।’’ বস্তুত, তৃণমূলের অন্দরে যে এ নিয়ে অস্বস্তি আছে, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু সেটা কে কী ভাবে বাইরে প্রকাশ করবেন, তা নিয়েও দ্বিধা রয়েছে। শান্তনুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তিনি ফোন ধরেননি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement