Dev on Mamata Banerjee

নতুন তৃণমূলে যাচ্ছি না, দিদির সঙ্গেই আছি: দেব! শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগেরও প্রশংসা

প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বেরিয়ে দেব বলেন, “আমার ভালবাসা সারা জীবন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য থাকবে। আমি নতুন তৃণমূলে যাচ্ছি না। যত দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেঁচে রয়েছেন, তাঁর সঙ্গেই আছি।”

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬ ১৮:০৪
Share:

(বাঁ দিক থেকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেব এবং শুভেন্দু অধিকারী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

নতুন তৃণমূলে যাচ্ছি না! পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বেরিয়ে এমনটাই বললেন ঘাটালের সাংসদ দেব। তিনি বলেন, “আমার ভালবাসা সারা জীবন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য থাকবে। আমি নতুন তৃণমূলে যাচ্ছি না। যত দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেঁচে রয়েছেন, তাঁর সঙ্গেই আছি।”

Advertisement

তৃণমূলনেত্রীর প্রতি আনুগত্য বজায় রেখেও নিজের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে ধোঁয়াশাই বজায় রেখেছেন ঘাটালের তিন বারের তৃণমূল সাংসদ। দেব বলেন, “ভবিষ্যতে আমার রাজনৈতিক জীবনে কী ঘটবে, আমি এখনই বা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না। তবে উনি (মমতা) যত দিন বেঁচে আছেন, তত দিন আমি দিদির পাশে।”

সোমবার দিল্লিতে বিজেপির মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক এবং মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগদানের কারণ ব্যাখ্যা করে দেব বলেন, “আমি যদি গত কাল দিল্লি গিয়েও থাকি, আর আজ যদি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকেও যোগ দিয়ে থাকি, তবে সেটা তৃণমূলের এবং ঘাটালের নির্বাচিত সাংসদ হিসেবে। আমাকে ঘাটালের যে সমস্ত সাধারণ মানুষ এবং ভোটার বিশ্বাস করে ভোট দিয়ে জিতিয়েছেন, তাঁরা যেন কোনও অবস্থাতেই এটা না ভাবেন যে, তাঁরা ভুল মানুষকে ভোট দিয়েছেন। আমি দিল্লিতেই যাই বা নবান্নে— যেখানেই পা রেখেছি, স্রেফ আমার ঘাটালের মানুষের ন্যায্য অধিকার ও উন্নয়নের দাবি ছিনিয়ে আনতেই গিয়েছি।”

Advertisement

মঙ্গলবারের প্রশাসনিক বৈঠকে ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান দেব। প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বেরিয়ে দেব বলেন, “আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে যে স্বপ্নের প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল, তা রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে এ বার সফল ভাবে শেষ হবে বলেই আমার দৃঢ় বিশ্বাস। উনি আমাকে কথা দিয়েছেন।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “আমি এক জন জনপ্রতিনিধি। ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের সবচেয়ে বড় কষ্টের কারণ বন্যা। সেই বন্যার সমাধান হল ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান। ২০১৪ সাল থেকে লড়াই চলছিল। ২০২৪ সালে আমি যখন ভোটে দাঁড়াব না বলেছিলাম, দিদি কথা দিয়েছিলেন। কথা দিয়ে কথাও রেখেছেন। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দও হয়েছিল।”

আরও এক বার সৌজন্যের রাজনীতির বার্তা দিয়ে দেব এ-ও বলেন যে, “রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী এই রাজ্যের গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী— এই সত্যিটা তো কেউ অস্বীকার করতে পারে না, এটা আমাদের সবাইকে মানতেই হবে।”

প্রশাসনিক বৈঠকের পর ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ নিয়ে শুভেন্দু বলেন, “ঘাটালের সাংসদ (দেব) একটা কথাই বলেছেন, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান আমার দেওয়া প্রতিশ্রুতি ছিল। আমি ওঁকে বলেছি, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নির্বাচনে আমাদেরও প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল। আমরা ওটা করব। এখানে কারা কৃতিত্ব পাবে, সেটা বড় কথা নয়। উনি উন্নয়নের কথা বলেছেন। বিরোধী অন্য যাঁরা ছিলেন, তাঁরাও উন্নয়নের কথাই বলেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কাজই হল উন্নয়নের কাজ ঠিকঠাক ভাবে করা।”

তৃণমূলের ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাং‌সদের তালিকায় দেবের নামও রয়েছে। সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপির পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বিদ্রোহী সাংসদদের যে বৈঠক হয়, সেখানে কাকলি ঘোষদস্তিদার, শতাব্দী রায়দের সঙ্গে দেবও ছিলেন বলে জানা যায়। ওই বৈঠকে পরে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুও। তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদেরা আলাদা ব্লক হিসাবে বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ-কে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই আবহে পরদিনই দেব জানালেন, তিনি মমতার সঙ্গেই রয়েছেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement