Hawker Eviction

রেলস্টেশন থেকে হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদ করলেন তৃণমূল সাংসদ সামিরুল, পুনর্বাসনের দাবিতে চিঠি রেলমন্ত্রীকে

সোমবার হকার উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে এবং উচ্ছেদ হওয়া হকারদের অবিলম্বে পুনর্বাসনের দাবি তুলে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন সামিরুল ইসলাম। রেলমন্ত্রীকে পাঠানো এই চিঠিতে সাংসদ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬ ১২:৫৯
Share:

হকার উচ্ছেদ নিয়ে সরব তৃণমূল সাংসদ সামিরুল ইসলাম। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন রেলস্টেশন থেকে হকার এবং ছোট ব্যবসায়ীদের কোনও রকম বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই বলপূর্বক উচ্ছেদ করার বিরুদ্ধে সরব হলেন রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ সামিরুল ইসলাম। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে রেল যে হকার উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে এই চিঠিটি পাঠানো হয়েছে। সোমবার এই দমনমূলক এবং স্বেচ্ছাচারী উচ্ছেদ অভিযানের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এবং উচ্ছেদ হওয়া হকারদের অবিলম্বে পুনর্বাসনের দাবি তুলে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। রেলমন্ত্রীকে পাঠানো এই চিঠিতে সাংসদ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘‘কয়েক প্রজন্ম ধরে এ রাজ্যের রেলস্টেশনগুলি কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং হাজার হাজার দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের জীবিকা নির্বাহের প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এই হকারেরা আমাদের অসংগঠিত অর্থনীতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যাঁরা রেলযাত্রীদের যেমন সাশ্রয়ী মূল্যে বিভিন্ন পরিষেবা দিয়ে আসছেন, ঠিক তেমনই কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের পরিবারকেও টিকিয়ে রেখেছেন।’’

Advertisement

সাংসদ সামিরুলের অভিযোগ, সম্প্রতি রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনও রকম সুনির্দিষ্ট বা ব্যাপক পুনর্বাসন পরিকল্পনা ছাড়াই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। এর ফলে অসংখ্য পরিবার রাতারাতি চরম অর্থনৈতিক সঙ্কটের মুখে পড়েছে। যে ভাবে এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, তা স্থানীয় বাসিন্দা এবং হকারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তাঁর মতে, একটি কল্যাণকামী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিকল্প কোনও ব্যবস্থা না করে সমাজের অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের আয়ের একমাত্র উৎস কেড়ে নেওয়া কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনিক পদক্ষেপের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত মানবিকতা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং পুনর্বাসন— কেবলমাত্র স্থানচ্যুতি বা উচ্ছেদ করা নয়।

উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতিতে রেলমন্ত্রীর অবিলম্বে হস্তক্ষেপ দাবি করে সাংসদ চিঠিতে কয়েকটি নির্দিষ্ট দাবি পেশ করেছেন। লিখেছেন, পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত রেলস্টেশন থেকে হকার এবং ছোট বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে চলা সমস্ত উচ্ছেদ অভিযান অবিলম্বে স্থগিত করতে হবে।

Advertisement

এ ছাড়াও, কয়েকটি বিষয়ের উপর আলোকপাত করেছেন সাংসদ। প্রথমত, হকারনীতি পর্যালোচনার ভিত্তিতে জনপ্রতিনিধি, স্বীকৃত হকার সংগঠন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে বর্তমান উচ্ছেদনীতির একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন সামিরুল। দ্বিতীয়ত, পুনরায় কোনও পদক্ষেপ করার আগে ক্ষতিগ্রস্ত সমস্ত হকারের জন্য একটি সময়োপযোগী ও নির্দিষ্ট পুনর্বাসন প্রকল্প তৈরি এবং তার বাস্তবায়ন করতে হবে। তৃতীয়ত, আইনি প্রক্রিয়া, আগাম নোটিস এবং অর্থপূর্ণ পুনর্বাসন ছাড়া কোনও নাগরিককে যেন তাঁর জীবিকা থেকে বঞ্চিত না করা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। চিঠির শেষে সাংসদ মনে করিয়ে দেন যে, কোটি কোটি সাধারণ মানুষের সেবায় নিয়োজিত একটি গণ-প্রতিষ্ঠান হিসাবে ভারতীয় রেলের উচিত তাদের কাজের প্রয়োজনীয়তা বজায় রাখার পাশাপাশি সমাজের দুর্বল শ্রেণির প্রতি সামাজিক দায়িত্বের ভারসাম্য রক্ষা করা। পুনর্বাসন ছাড়া জীবিকা কেড়ে নেওয়ার নীতি কখনওই টেকসই বা ন্যায়সঙ্গত হতে পারে না। এই বিষয়ে তিনি রেলমন্ত্রীর কাছ থেকে দ্রুত এবং ইতিবাচক পদক্ষেপের আশা প্রকাশ করেছেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement