(বাঁ দিকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয়নেতা মোজতবা খামেনেই (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
আমেরিকার সঙ্গে শান্তিচুক্তি চূড়ান্তের পথে। কী ভাবে এই চুক্তি চূড়ান্ত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এখন যে পর্যায়ে আলোচনা চলছে, তার মূল লক্ষ্যই হল যুদ্ধের অবসান ঘটানো। এমনই জানালেন ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই। তবে একই সঙ্গে নিজেদের শর্তের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
ইরানের সংবাদসংস্থা ‘তাসমিন’ জানিয়েছে ইসমাইলের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছে। আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসাবে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেছে ইরান। ইসমাইলের কথায়, ‘‘ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রাখার উদ্দেশেই পাকিস্তানি প্রতিনিধি দল তেহরানে রয়েছে।’’
ইসমাইল জানিয়েছেন, ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাবকে সামনে রেখে যুদ্ধ অবসানের পথ খোঁজার কাজ চলছে। এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আমেরিকার বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ইসমাইল। তিনি মনে করেন, আলোচনা সদার্থক হওয়ার অর্থ এই নয় যে আমেরিকা এবং ইরান এতগুলি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনও সমঝোতায় পৌঁছনো যাবে। এখন আলোচনা যে পর্যায়ে রয়েছে, তাতে বরং বলা যায়, কিছু নির্দিষ্ট মাপকাঠির ভিত্তিতে একটি পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছনো যাবে।
হরমুজ় প্রণালী প্রসঙ্গে ইসমাইল স্পষ্ট জানান, এই জলপথের সঙ্গে আমেরিকার কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর কথায়, ‘‘উপকূলীয় দেশ হিসাবে আমাদের এবং ওমানের মধ্যে একটি কার্যপ্রণালী নির্ধারণ করা উচিত। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ওই জলপথ গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা অবহিত।’’
প্রসঙ্গত, রবিবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত। অপেক্ষা শুধু ঘোষণার। নিজের ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ট্রাম্প জানান, শান্তিচুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা অনেকটাই হয়ে গিয়েছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে শুধু কিছু বিষয় চূড়ান্ত হওয়া বাকি মাত্র। তার পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট লেখেন, ‘‘চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার দিকে। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে। শীঘ্রই তা ঘোষণা হবে। ট্রাম্প এ-ও জানান, হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়া হবে। এমনকি, ভারত সফরে এসে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো এ সম্পর্কে ইঙ্গিতও দিয়েছেন। দিল্লিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের পরে কিছুটা রহস্য রেখেই রুবিয়ো জানান, আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গোটা বিশ্ব একটা সুখবর পেতে চলেছে। মনে করা হচ্ছে, তাঁর ইঙ্গিত ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সমঝোতা নিয়েই।