ছবি: সংগৃহীত।
সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে লেবাননে আবার হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল ইজ়রায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার ইজ়রায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের শহর টাইরে বিমানহানা চালিয়ে অন্তত আট জনকে হত্যা করেছে। দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের স্থানত্যাগের নির্দেশ জারির পরে সেখানে নতুন করে হামলা শুরু করল বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সেনা।
এই পরিস্থিতিতে ইরান মঙ্গলবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে ইজরায়েল যদি লেবাননের উপর হামলা অব্যাহত রাখে, তবে তারা প্রত্যাঘাত করবে। অন্য দিকে, হামলার দায় স্বীকার করে তেল আভিভ জানিয়েছে, ইরানের মদতপুষ্ট শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লা টাইরে শহরের কিছু এলাকায় তৎপরতা চালাচ্ছিল। তা ধ্বংস করতেই বিমানহানা চালানো হয়। অন্য দিকে পশ্চিম এশিয়ার সংবাদমাধ্যম আল জ়াজিরায় হিজ়বুল্লা দাবি করেছে, তারা দুর্গের কাছে ইয়োহমোর আল-শাকিফ গ্রামে দু’টি ইজ়রায়েলি সামরিক যান ধ্বংস করেছে এবং শত্রু সেনাদের একাধিক সমাবেশস্থলে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাহি যে ইকলিম আল-তুফ্ফাহ অঞ্চলের আকাশসীমায় পরিচালিত একটি ইজ়রায়েলি ড্রোন তারা ধ্বংস করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে ইজ়রায়েলি সেনার হামলার পরেই প্রত্যাঘাত করেছিল তেহরানের মদতপুষ্ট ‘অ্যাক্সিস অফ রেজ়িস্ট্যান্স’। লেবাননের হিজ়বুল্লা, ইরাকের ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস’ (পিএমএফ) এবং আশাব আল-কাহ্ফ, ইয়েমেনের হুথির মতো সশস্ত্র শিয়া গোষ্ঠী রয়েছে সেই তালিকায়। তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইজ়রায়েলি সেনাও। কিন্তু লেবানন সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেনি। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ইরানের মদতপুষ্ট ওই শিয়া সশস্ত্র বাহিনী লেবাননের গণতান্ত্রিক রাজনীতিরও অন্যতম অংশীদার। হিজ়বুল্লার রাজনৈতিক শাখা ‘লয়ালিটি টু দ্য রেজ়িস্ট্যান্স’-এর পার্লামেন্ট সদস্যদের সমর্থনের উপর লেবাননের জোট সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নির্ভর করে। এই পরিস্থিতিতে লেবাননের পক্ষে হিজ়বুল্লা বিরোধী পদক্ষেপ করা কঠিন। রাষ্ট্রপুঞ্জেকর তথ্য বলছে, ইজ়রায়েলি হানায় রাজধানী বেইরুট-সহ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ৮ লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। সেখানে মোতায়েন রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত-সহ ৩০টি দেশ। গত ১৬ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইজ়রায়েল এবং লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের সংঘর্ষবিরতির কথা ঘোষণা করেছিলেন। এর পরে সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ বাড়লেও প্রায়শই ইজ়রায়েল সেনা তা লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ।